চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৩:৪৫ পিএম
রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ূস জুনিয়রকে যখন ইউরোপের ব্যক্তিগত শীর্ষ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তখন রিয়াল মাদ্রিদে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে, এটা বলাই যায়। কিন্তু ব্যালন ডি’অর শেষ পর্যন্ত জিতে নেন ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি। ম্যানসিটির ভক্তরা গত সপ্তাহে বড় একটি ব্যানার নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। যেখানে লেখা ছিল— 'হৃদয় ভাঙার কান্না বন্ধ করো’। ব্যানারটা যে রিয়ালের দুই তারকাকে ইঙ্গিত করে, সেটি আর না বললেও চলে।
যা-ই হোক, প্রথম লেগের খেলায় ভিনিসিয়ূস, রদ্রিগো কেউ পাননি জালের দেখা। তবে এডারসনের ওপর দিয়ে জুড বেলিংহাম শেষ করেছেন পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচ, যা সাদা জার্সিধারীদের সর্বশেষ আকর্ষণীয় ইউরোপীয় প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচটি ইংল্যান্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদ জিতে ফেরে ৩-২ ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ঐতিহ্যবাহী স্থান থেকে মাত্র ৯০ মিনিট দূরে কার্লো আনচেলত্তির দল। নকআউটে যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করবে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ অথবা বায়ার লেভারকুসেন। তার আগে অবশ্য আজ রাতে ম্যানসিটির বিপক্ষে অন্ততপক্ষে ড্র করলেও চলবে রিয়ালকে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার আগে অবশ্য লা লিগায় সুখকর স্মৃতি নেই রিয়ালের। স্প্যানিশ শীর্ষ বিভাগে নিজেদের শেষ তিনটি ম্যাচেই জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ওসাসুনার বিপক্ষে এ সপ্তাহেই এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র করেছে ১-১ গোলে। এই ম্যাচেই ম্যানচেস্টারের হিরো বেলিংহাম বিতর্কে জড়ান নিজের নাম। রেফারিকে বাজে মন্তব্য করে লাল কার্ড দেখেন এই ইংলিশ তারকা। যদিও তিনি ও তার দল এখানে রেফারির ইংলিশ বোঝার অক্ষমতাকে দায়ী করেছেন।
এরপর সোমবার রাতে লা লিগায় দীর্ঘদিন ধরে রাখা নিজেদের শীর্ষস্থানও হারিয়েছে রিয়াল। রায়ো ভ্যালেকানোকে ১-০ গোলে হারিয়ে রিয়ালকে হটিয়ে শীর্ষে ওঠে কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনা। তবে ইতিহাস কিন্তু রিয়ালের পক্ষেই। এসব বিতর্ক এবং মাঠের বাইরের অস্বস্তি ইউরোপসেরার মঞ্চে তাদেরকে আটকে রাখতে পারেনি কখনও।
ইউরোপের মঞ্চে প্রতিপক্ষের মাঠে নকআউট পর্বে এগিয়ে গিয়ে পরের লেগে পিছিয়ে পড়ে বিদায় নেওয়ার ঘটনা রিয়ালের জন্য স্রেফ দুটি। আগের ৩৯ বার তারা ঘরের বাইরে নকআউট খেলার প্রথম লেগে জিতেছে, তার মধ্যে কেবল দুটিতে হেরে পরের রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিল।
প্রথম লেগে জয়লাভের পর রিয়াল মাদ্রিদ তাদের ৩৯টি ইউরোপীয় নকআউট ম্যাচের মধ্যে ৩৭টিতেই পরের রাউন্ডে গেছে। ইতিহাসের এই অংশে বেশ বিবর্ণ ম্যানসিটি। ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়ার পর প্রতিপক্ষের মাঠে প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস একবারও রচনা করতে পারেনি ইতিহাদের দলটি। এর আগে এমন ঘটনা ম্যানসিটির সঙ্গে ঘটেছে আরও চারবার। কোনোবারই প্রত্যাবর্তন করতে পারেনি তারা।
তবে সিটির ডাগআউটে যখন পেপ গার্দিওলা, তখন নতুন ইতিহাসের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞরাই। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা বার্নাব্যুতে একটি কঠিন সফরের আগে অবশ্য বেশ ছন্দেই আছে। গেল শনিবার প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ৪ গোলে হারিয়েছে।
মিসরের ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ মাত্র ৩৩ মিনিটের মধ্যে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে সিটিকে জেতান। লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহর উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথেই রয়েছেন মারমুশ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচবার শিরোপা জেতার স্বপ্ন হয়তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তবে গার্দিওলার দল অন্তত ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবলে শীর্ষ চারের মধ্যে থাকার নিশ্চয়তা পেতে পারে। তার চেয়েও বড় কথা, হতাশাজনক পারফরম্যান্স কাটিয়ে ধীরে ধীরে আবার দলটিকে চেনা ম্যানসিটির মতো দেখাচ্ছে।
বার্নাব্যুতে আজকের ম্যাচে অতিথিরা এখন সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৫ ম্যাচে গোল করেছে; যার মধ্যে শেষ পাঁচ ম্যাচে আছে ১২ গোল। তা সত্ত্বেও ইউরোপসেরার লড়াইয়ে তিন ম্যাচের হতাশাজনক হারের ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা ইতোমধ্যেই গার্দিওলার দলকে কিছুটা হলেও আবার পিছিয়ে রাখছে।
এদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট লড়াইয়ে পেপ গার্দিওলার বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করেছেন কার্লো আনচেলত্তি। ২০১৩-১৪, ২০২১-২২ এবং ২০২৩-২৪ মৌসুমে তিনবারের নকআউট লড়াইয়ে গার্দিওলাকে হারিয়েছে আনচেলত্তি। সামগ্রিকভাবে ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১৪ বার জিতেছে মাদ্রিদ। যার মধ্যে সাতটি ছিল দুই লেগের নকআউট ম্যাচ।