প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:১৬ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৩১ পিএম
মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান
আফগানিস্তানে মেয়েদের সব নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কঠিন এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন তালেবান শাসকগোষ্ঠী। খবরটা মেনে নিতে পারেননি মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। এজন্য প্রতিবাদ জানিয়েছেন দুই আফগান তারকা ক্রিকেটার।
আফগানিস্তানে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা আগেই নিষিদ্ধ করেছে তালেবান সরকার। তবে চিকিৎসা খাত এত দিন ছিল নিষেধাজ্ঞার বাইরে। নারী ও মেয়েশিশুদের খেলাধুলাও নিষিদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে। যে কারণে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের অবস্থান এখন প্রশ্নবিদ্ধ। দেশটিতে নারী অধিকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
তারকা আফগান লেগ স্পিনার রশিদ নিজের ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অনেক ওপরে। নারী ও পুরুষের জ্ঞান অন্বেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনেও শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং দুটি লিঙ্গেরই সমান গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে। খুব দুঃখ ও হতাশার সঙ্গে দেখছি, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানে মা-বোনদের জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসার ইনস্টিটিউটগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু তাদের ভবিষ্যৎই নয়, সমাজের বুনিয়াদকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা এ নিয়ে যে দুঃখ ও ব্যথার প্রকাশ করছেন, এর মাধ্যমে মর্মন্তুদ ভোগান্তিটা অনুধাবন করা যায়।’
এ সুপারস্টার আরও যোগ করেন, ‘আফগানিস্তান, আমাদের ভালোবাসার মাতৃভূমি সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দেশের প্রতিটি খাতে পেশাদার মানুষ খুব দরকার। বিশেষ করে চিকিৎসা খাতে। নারী চিকিৎসক ও নার্সদের তীব্র সংকট খুব দুশ্চিন্তার, যা সরাসরি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। চিকিৎসায় পেশাদারেরা, যারা সত্যিকার অর্থে তাদের প্রয়োজনটা বোঝেন, আমাদের মা-বোনদের তাদের সংস্পর্শে আসা প্রয়োজন। আমি তাই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ করছি। তাতে আফগান নারীরা শিক্ষার অধিকার ফিরে পাবে এবং জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। সবার শিক্ষার অধিকার শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয় বরং এটা নৈতিক বাধ্যবাধকতা যা আমাদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।’
সাবেক আফগান ক্যাপ্টেন নবী তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে লিখেন, ‘চিকিৎসা খাতে নারীদের লেখাপড়া নিষিদ্ধ করা শুধু হৃদয়বিদারক নয়, ভীষণ অবিচারও। ইসলাম সব সময়ই সবার শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে এবং ইতিহাসেও এমন প্রেরণাদায়ক প্রচুর উদাহরণ আছে, যেখানে নারীরা জ্ঞানের মাধ্যমে অনেক প্রজন্মে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’
আফগানিস্তান ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজও পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে নারী শিক্ষার পক্ষে ফেসবুকে বিবৃতি দিয়েছেন।