প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৬:৪৯ পিএম
আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৭ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। আরব দেশ কাতার প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে আটটি স্টেডিয়ামে। পরিবেশবান্ধব স্টেডিয়ামগুলো সম্পর্কে এবার জেনে নেয়া যাক।

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৮০ হাজার। এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরের সূক্ষ্ম নকশা চোখ জুড়ানোর মতো। ইসলামী বিশ্বের সোনালি সময়ের বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। আর স্টেডিয়ামটির আকৃতি আরবদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী বাটির আদলে। আলোকচ্ছটা দেয়া আয়নাগুলো ফানার নামের আরব্য লণ্ঠনের অবয়বে তৈরি।

বিশ্বকাপ ২০২২ এর উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে কাতারের খোর শহরে অবস্থিত আল বাইত স্টেডিয়ামে। একটি সেমিফাইনালসহ টুর্নামেন্টের মোট নয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতে। দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৬০ হাজার। তাঁবুর কাঠামোতে তৈরি স্টেডিয়ামের নকশায় প্রতিফলিত হয়েছে কাতারের ঐতিহ্য। আশেপাশের নয়নাভিরাম পার্ক, হ্রদ এবং সুরক্ষিত গ্রিনবেল্ট ভূমি স্টেডিয়াম থেকে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত । স্টেডিয়ামের উপরের অংশে আছে একটি পাঁচ তারকা হোটেল।

কাতারের ঐতিহাসিক আল রায়ান শহরে অবস্থিত আহমদ বিন আলী স্টেডিয়াম। মরুভূমির প্রান্তে অবস্থিত হাজারো লোককথার সাক্ষী হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু এই স্টেডিয়ামটি। দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। টুর্নামেন্টের সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এখানে। স্টেডিয়ামের সম্মুখভাগ নির্মাণ করা হয়েছে নানা জ্যামিতিক আকৃতি ও বালির টিলার আদলে। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে প্রতিফলিত হয়েছে স্টেডিয়ামের নকশায়।

দোহা থেকে ২২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত আল জানুব স্টেডিয়াম। এই স্পোটর্স ভেন্যুর নকশা করেছেন বিখ্যাত স্থপতি জাহা হাদিদ। স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজারের বেশি। কাতারের ঐতিহ্যবাহী ধৌ নামের নৌকার পালের আকৃতিতে তৈরি স্টেডিয়ামটি। বাইরের অংশে খেলাধুলা ও অবকাশ যাপনের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে। রাউন্ড অফ সিক্সটিনের সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতে।

২০২১ সালে উদ্বোধন হওয়া আল থুমামা স্টেডিয়ামের অবস্থান দোহা থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে। এর দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজারের বেশি। এই স্টেডিয়ামের আকৃতি আরব বিশ্বের পুরুষদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী বৃত্তাকার টুপি গাহফিয়ার মতো। এখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের আটটি খেলা।

এডুকেশন সিটি স্টেডিয়াম অবস্থিত কাতারের আল রায়ান শহরে। এর দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। স্টেডিয়ামের অত্যাধুনিক নকশা করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক স্থাপত্যের সঙ্গে মিল রেখে। স্টেডিয়ামের বাইরের দিকে প্রিজমের মতো জ্যামিতিক নকশা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জ্বলজ্বল করতে থাকে। বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচে অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে।

কাতারের সবচেয়ে প্রাচীন স্টেডিয়াম খালিফা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এর দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। ১৯৭৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে আরব উপসাগরীয় কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে। স্টেডিয়ামে রয়েছে প্রশস্ত ছাউনি।আলোকসজ্জা আর আধুনিক নির্মাণশৈলী স্টেডিয়ামকে দিয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ আটটি খেলা অনুষ্ঠিত হবে এই ভেন্যুতে।

রাস-বু-আবৌদ শহরে অবস্থিত স্টেডিয়াম- নাইন সেভেন ফোর উদ্বোধন হয় ২০২১ সালে। নাইন সেভেন ফোর কাতারের আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড। সম্পূর্ণ শিপিং কন্টেইনার এবং মডিউলার স্টিল থেকে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। আশ্চর্যের বিষয় স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যবহৃত শিপিং কন্টেইনারের সংখ্যাও ছিল ৯৭৪টি। এবারের টুর্নামেন্টের সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে।
নির্মাণশৈলীর কারণে কাতারে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ-২০২২ এর আটটি ভেন্যু ইতিমধ্যে সবার নজর কেড়েছে। আর স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করা হয়েছে পরবর্তীতে যেন প্রতিস্থাপন করা যায়, সেই চিন্তা মাথায় রেখে। বিশ্বকাপ শেষ হলে এ সব স্টেডিয়াম থেকে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আসন কমিয়ে সে সব আসন উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে প্রদান করা হবে।