প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:১৬ পিএম
আজ বুধবার তেজগাঁস্থ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হকিকে রুট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। প্রবা ফটো
বিদ্যমান কমিটি ভেঙে দিয়ে গত ১৪ নভেম্বর নতুন ৯টি ক্রীড়া ফেডারেশনে দেওয়া হয়েছে অ্যাডহক কমিটি। এই ফেডারেশনগুলোর মধ্যে আছে, ব্রিজ ফেডারেশন, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, স্কোয়াশ ফেডারেশন, টেনিস ফেডারেশন, কাবাডি ফেডারেশন, বিলিয়ার্ড ও স্নুকার ফেডারেশন, বাস্কেটবল ফেডারেশন, দাবা ফেডারেশন ও হকি ফেডারেশন। অ্যাডহক কমিটি গঠনের ৬ দিনের মাথায় সবার আগে প্রথম সভা করেছে হকি ফেডারেশন। আজ বুধবার তেজগাঁস্থ বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে অনুষ্ঠিত সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হকিকে রুট লেভেলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। এছাড়া হকি ভালো খেলা এটা বাচ্চাদেরকে বোঝাতে চায় বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।
বুধবার সকালে প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। ১৮ সদস্যের কমিটি থেকে এদিন উপস্থিত ছিলেন ১৩ জন সদস্য। জানা গেছে দুইজন সহ-সভাপতি ও তিনজন সদস্য উপস্থিত থাকতে পারেননি। সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান। প্রাথমিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকের অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে আমরা কিছু কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি। মাননীয় সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনকে অতি দ্রুত কিভাবে গড়তে পারি সে বিষয়ে কথা বলেছি। হকি ফেডারশেনকে আবার কিভাবে উজ্জীবিত করতে পারি সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এটা করতে হলে টুর্নামেন্ট চালু করতে হবে। হকিটাকে আবার চালু করতে হবে। একটা কথা উঠেছে যে এই খেলাটাকে আবার রুট লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। যেখান থেকে মূলত খেলা উঠে আসে। আমরা যারা এই খেলাটা ৩০ বছর আগে খেলেছি, আমরা কিন্তু স্কুল লেভেলে খেলেছি, কলেজ পর্যায়ে খেলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলেছি, তারপর লিগ খেলেছি। অর্থাৎ এই খেলাটায় যদি আবার জৌলুস ফেরাতে চাই তবে রুট লেভেলে নামতে হবে। বাচ্চাদের বোঝাতে হবে এই খেলাটা ভালো। বাংলাদেশে এখন ক্রিকেট আর ফুটবল, তাই বুঝে। আমাদের কমিটি একটা টিম হয়ে কাজ করবে।’

হকি ফেডারেশনের জিবি বৈঠক শেষে হয়েছে দুটি যুব হকি দলের জার্সি উন্মোচন। এশিয়ান কাপ খেলার জন্য বয়সভিত্তিক পর্যায়ের দুটি যুব (অনুর্ধ্ব-২১) হকি দল (ছেলে ও মেয়ে) ওমানের মাসকটে যাচ্ছে। ছেলেদের দল যাচ্ছে এ মাসের ২৩ তারিখ। আর মেয়েদের দলটি ওমানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে আগামী ৪ ডিসেম্বর। এ নিয়ে লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘গত কয়েকমাস ধরে আমাদের এই দল দুটিকে অনেক কষ্ট করে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আমরা আশা করি একটা ভালো ফলাফল আমরা পাবো।’ এরপর তিনি হকিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই কমিটি (অ্যাডহক কমিটি) যখন আরও বেশি কাজ করবে তখন আপনাদের (সংবাদ মিডিয়া) সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আরও বাড়বে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে মাননীয় সভাপতির দিক নির্দেশনায় আমরা হকিকে এগিয়ে নেবো আশা করি।’

হকিতে বরাবরই স্পন্সর ও তহবিল একটা বড় সমস্যা। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে কোনো কমিটিই হকিকে বের করতে পারেনি। এবারও কী তহবিল সঙ্কটে হকি ভুগবে কি না জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য, ‘হকিতে তহবিল সমস্যাটা আজকের না। এটা দীর্ঘদিনের। আমরা যখন খেলতাম তখনও সমস্যা ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমরা স্পন্সর পাবো। কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান আশা দিয়েছে তারা আমাদের পাশে থাকবে। বর্তমানে হকি ফেডারেশন চালানোর জন্য যে তহবিল প্রয়োজন সেখানে একটা সমস্যা আছে।’
হকির সর্বশেষ কমিটি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক। আগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ছিলেন সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও ছিল আরও কিছু বিতর্ক। স্বাভাবিকভাবেই এদিন গত কমিটি প্রসঙ্গে ওঠে প্রশ্ন। তবে আগের কমিটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাইলেন না বর্তমনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, ‘সর্বশেষ কমিটি নিয়ে এখন আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না। আমরা একটা ফুলস্টপ দিয়েছি। আমরা আজকে একটা জিবি মিটিং করেছি। সামনে আরও সভা হবে। তখন হয়ত এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’

বাংলাদেশে সাধারণত অন্যান্য খেলার তুলনায় জনপ্রিয়তায় বেশ এগিয়ে ক্রিকেট ও ফুটবল। উদীয়মান খেলোয়াড়েরা যে কারণে এই দুটি খেলাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে গড়তে আস্থা পান। হকিতে সেই আস্থা আসবে কি না, কিংবা হকির সংকট নিরসন হবে কি না আদৌ। এছাড়া হকির মাঠে অহেতুক ঘটনা এবং শৃঙ্খলাজনিত বেশ কিছু বিষয় প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়। এ প্রসঙ্গে লে. কর্নেল রিয়াজুল হাসান বলেছেন, ‘আসলে এটা (শৃঙ্খলা) নিয়ে আমাদের নিজেকেরই প্রশ্ন করতে হবে। আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে বলছি, যে কারণে অগ্রসর হতে হলে ডিসিপ্লিন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা আসলে নিজের মধ্য থেকেই গড়ে ওঠে। দুই চারটা ঘটনা ঘটবেই। আমরা আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দেখি মারামারির ঘটনা ঘটে। তারা সাসপেন্ড হয়, আবার তারা ফিরেও আসে। আসলে কী বলব শৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ন্তণ করা হকি ফেডারেশনের কাজ নয়। যারা খেলা পরিচালনা করে এবং যারা এই খেলাটা খেলে তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ক্লাব আছে, বিভিন্ন বাহিনী আছে... এটা একটা টোটাল বিষয়, দেশের জন্য আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে।’