ওয়ানডে সিরিজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ২২:১১ পিএম
ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করতে পারেননি শান্ত, বাংলাদেশের স্কোর আড়াইশ ছাড়ালেও তিনশ ছোঁয়নি— ছবি: বিসিবি
টপ অর্ডার ভালো করলে খেই হারাত মিডল অর্ডার, কখনও হতো উল্টো। কখনও আবার রানের ধারা ধরে রাখতে ব্যর্থ হতো টেলএন্ডাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যাটারদের এমন দৈন্যদশা অনেক দিনের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দৃশ্যপটও অমন ছিল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এসেছিল বড় হার। গতকাল শনিবার সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে অবশ্য খুব বেশি ভুল করেননি টাইগাররা। টপ অর্ডারের থিতু হওয়ার পর মিডল ও লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াকু সংগ্রহই আসে স্কোরবোর্ডে। শারজায় পয়া ভেন্যুতে ২৫৩ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তানের জন্য বেশ বড়ই।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠটিতে এদিন শান্তর পক্ষে আসে টসভাগ্য। শারজায় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিচু হয়ে আসা বলের বিপরীতে দেখেশুনে এগোয় টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ২৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ দেড়শ পার করতে হারায় আরও দুটি। মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে খেই হারাতে বসা টাইগারদের পথ দেখান অভিষেক হওয়া জাকের আলী অনিক। শেষ দিকে নাসুম-জাকেরের ক্যামিওতেই ফিকে হয় আফগান স্পিন জুজু। যদিও শান্তদের হারানো ৬টি উইকেটের সবকটিই নিয়েছেন তিন আফগান স্পিনার।
টাইগারদের ধীরস্থির ও সাবলীল ব্যাটিংকে যদিও তত হুমকির মুখে ফেলতে পারেননি আফগান বোলারদের কেউ। প্রথম ওয়ানডেতে শান্তদের ইনিংসে ধস নামানো আল্লাহ মোহাম্মদ গাজানফারও সফল হতে পারেননি। হুমকি হতে পারেননি রশিদ খান কিংবা নানগালেলিয়া খারোটেও। আফগান অধিনায়ক সাতজন বোলার ব্যবহার করলেও উইকেট তুলতে পেরেছেন তিনজন। দুটি করে উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন রশিদ ও গাজানফার। তিনটি শিকার খারোটের। বাকিদের ওপর বরং চড়াও হয়েছিলেন শান্তরা। সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের না থাকার ম্যাচে বড় সংগ্রহই দাঁড় করে টাইগাররা।
বাংলাদেশের টানা ৩১০টি ওয়ানডে ম্যাচে সাকিব, তামিম বা মুশফিকের কেউ না কেউ দলে ছিলেনই। বছরের হিসাবে সময়টি প্রায় আঠারো বছর। তামিম ইকবাল নেই দলে, আফগাদের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে চাননি সাকিব। আর প্রথম ওয়ানডে শেষে চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন মুশফিক। তাতেই প্রথমবার তিন পাণ্ডবের কেউ দলে নেই। অবশ্য এমন দিনে দারুণ ব্যাটিংই উপহার দিয়েছেন শান্ত-জাকেররা। তবে টাইগার টপ অর্ডার যেভাবে এগোচ্ছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল স্কোরবোর্ডে তিনশর বেশি রান আসতে চলছে। মাঝের দিকে আফগান স্পিনারদের বলই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কেউ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেটও হারিয়ে বসে তখন। পরে টেলএন্ডারদের কল্যাণে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি আসে।
সিরিজে ফেরার ম্যাচে ওপেনিংয়ে ২৮ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা তানজিদ ফেরেন ২২ রান করে। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে ৭১ রানের জুটি গড়েন সৌম্য। ৩৫ রানে সৌম্যকে রশিদ খান ফেরালে ভাঙে জুটি। চারে নেমে ২২ রান করেন মেহেদী মিরাজ। বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে তখন ৩২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান। বড় রানের স্বপ্ন বোনা টাইগারদের বাগড়া হয়ে দাঁড়ান খারোতে। আফগান তরুণ স্পিনার তাওহীদ হৃদয়কে ফেরানোর পর সেঞ্চুরির পথে হাঁটা শান্তকে মোহাম্মদ নবীর ক্যাচ বানান। অল্প সময়ের মাঝে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে টাইগাররা। হৃদয় ১১ রানে সাজঘরে ফেরার পর একই ওভারে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শান্ত। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া রিয়াদ এদিন আনেন মোটে ৩ রান।
একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে এগিয়ে নিতে থাকা শান্ত ৭৬ রান পর্যন্ত যেতে পারেন। ১৮৪ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে অনেকটা পথ এগিয়ে দেন নাসুম ও জাকের আলী। প্রথম ওয়ানডেতে একাদশের বাইরে থাকা দুজনের ৪৬ রানের জুটিতে চাপ দূর হয়। ২৫ রানের ক্যামিও খেলে আউট হন নাসুম। শেষদিকে ৩৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন জাকের। ব্যাটারদের স্বস্তি আনা ব্যাটিংয়ের দিনে বাংলাদেশও পায় স্বস্তির ২৫২ রান। শারজায় এবার বোলারদের হাতে লড়াই। তাসকিন-শরিফুল-মুস্তাফিজদের নিয়ে গড়া পেসত্রয়ী ও নাসুম-মিরাজদের হাতেই বাংলাদেশের ম্যাচের ভাগ্য।