সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ২০:০২ পিএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪ ২১:১৪ পিএম
শুরুর দ্রুতই সামলে ওঠে বাংলাদেশ। এরপর একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে পাকিস্তানকে। তবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। উল্টো ডিফেন্ডারদের ভুলে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। শেষ মুহূর্তে দারুণ এক গোলে হার এড়ায় পিটার জেমস বাটলারের দল।
রবিবার নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে প্রতিযোগিতার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। এদিন খেলার ৩২ মিনিটে পাকিস্তানকে এগিয়ে দেন জামিনা সামিন মালিক। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র।
এদিন ডিফেন্ডারদের ভুলে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে শট নেয় পাকিস্তান। যদিও সুহা হিরানির শট বক্সের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে পাকিস্তানের আরেকটি শট বাম দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন বাংলাদেশর গোলরক্ষক রুপনা চাকমা। ওই আক্রমণ থেকে খেলায় প্রথমবার পাকিস্তানের রক্ষণে কাপন ধরায় বাংলাদেশ। পায়ের দারুণ কারিকুরি করে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢোকার আগেই অবশ্য তহুরা খাতুনকে আটকে দেন পাকিস্তানের ডিফেন্ডাররা।
পঞ্চম মিনিটে কোহাতি কিসকুর বদৌলতে বড় বিপদের হাত থকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বল পেয়ে যান পাকিস্তানের নাদিয়া খান। অনেকটা একা গোলরক্ষককে পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এই মিডফিল্ডার বক্সে শট নেওয়ার আগে পেছন থেকে এসে দারুণ স্লাইডে বল ক্লিয়ার করেন কোহাতি।
সপ্তম মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার পাস থেকে মাথায় হেড নিতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র। তিন মিনিট পর ফের আক্রমণে বাংলাদেশ। মাঝ মাঠ থেকে আক্রমণের সুর বেঁধে দেন তহুরা। তার কাছ থেকে পাস পেয়ে বাম প্রান্ত দিয়ে সামনে আগান ঋতুপর্ণা। বক্সে থাকা শামসুন্নাহারকে দেখে এই ফরোয়ার্ড উড়ন্ত পাস দেন। হেড নিতে পারলেই গোলের সম্ভাবনা; কিন্তু এবারও হতাশ করেন শামসুন্নারহার জুনিয়র।
খেলার ২০ মিনিটে বড় শামসুন্নার আক্রমণের সুর বেঁধে দেন। মাঝ মাঠ পার করে বল দেন ঋতুকে। পাকিস্তানের দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এই ফরোার্ড বল দেন বাড়িয়ে দেন বড় শামসুন্নাহারকে। এই ফরোয়ার্ড বক্সে থেকে দারুণ শট নেন, যদিও সেটি যায় বক্সের সামান্য ওপর দিয়ে।
বাংলাদেশ এ সময় একের পর এক আক্রমণ শানায় পাকিস্তানের বক্সে। যার বেশিরভাগ আক্রমণ আসে লেফট উইং দিয়ে। একের পর এক ক্রস দেন ঋতু। অভিজ্জ এই ফরোয়ার্ড পাকিস্তানের রক্ষণে একের পর এক আতঙ্ক ছড়ায়।
তবে বাংলাদেশের আক্রমণের মধ্য থেকেই পাকিস্তান আতঙ্ক ছড়ায় ম্যাচের ২৫তম মিনিটে। সেট পিচ থেকে দূড়পাল্লার নেন পাকিস্তানের সুহা হিরানি। বক্সের ডান কোনা দিয়ে সেই বল খুজে নিচ্ছিল বাংলাদেশের জাল। তবে গোলবারের সামনে অতন্দ্র প্রহরী রুপনা লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে সেটি ক্লিয়ার করেন।
৩১ মিনিটে অনেকটা দূর থেকেই গোলে শট নেন তহুরা। তবে পাকিস্তানের গোলরক্ষক ছিলেন প্রস্তুত। পরের মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন মনিকা।
বাংলাদেশকে স্তব্ধ করে খেলার ৩২ মিনিটে এগিয়ে যায় পাকিস্তান। বক্সের নিজেদের অর্ধ থেকে জামিনা সামিন মালিককে লং পাস দেন রামিন ফরিদ। তবে বল পেয়েছিলেন সিউলি আজিম। কিন্তু এই ডিফেন্ডার বল পায়ে লাগালেও ক্লিয়ার করতে পারেননি। তাকে ও আফঈদা খন্দকারকে টপকে আলতো টোকায় জালে বল জরান পাকিস্তানের সামিন মালিক।
৪৩ মিনিটে ঋতুর শট ক্রসবারে লাগলে গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে ডান কোনা থেকে দূরপাল্লার শট নেন ঋতু। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের, বারে লেগে ফিরে আসে বল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। একের পর এক আক্রমণও শানায়; কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের টপকাতে পারেননি ঋতু, তহুরা ও মনিকারা। বাম প্রান্ত দিয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ঋতুকে অবশ্য পাকিস্তানের ডিফেন্ডাররা মার্ক করেন। তারপরও এই ফরোয়ার্ড বেশ কয়েকটি শট নেন পাকিস্তানের বক্সে, কাটব্যাক দেন সতীর্থদের। খেলার ৫৯ মিনিটে বক্সে সাবিনাকে আড়াআড়ি ক্রস দেন তহুরা। কিন্তু শট গোলে রাখতে পারেননি অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাবিনা। এদিন সাবিনাকে অবশ্য নিজের চেনা ছন্দে দেখা যায়নি। খেলার ৭০ মিনিটে তাকে উঠিয়ে কোচ মাঠে নামান কৃষ্ণারানী সরকারকে।
এই অর্ধে পাকিস্তানকে ভালোই চেপে ধরে বাংলাদেশ। কখনও মাঝ মাঠ দিয়ে তহুরা, কখন লেফট উইং দিয়ে ঋতু, আবার কখনও ডানপ্রান্ত দিয়ে স্বপ্নরানী ও শামসুন্নারহার জুনিয়ররা আক্রমণের পর আক্রমণ করে পাকিস্তানী ডিফেন্ডারদের পরীক্ষা নেন। তবে পাকিস্তানের ডিফেন্ডাররা সেই ধাক্কা বেশ ভালোই সামাল দেন। লিড ধরে রেখে দলটি সময় ক্ষেপনের দিকেই মনোযোগ দে।
খেলার ৭৩ মিনিটে ঝাপিয়ে পড়ে দারুণ সেভে মনিকাকে হতাশ করেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক নিসা আশরাফ। হতাশা বাড়ে বাংলাদেশ শিবিরে। হতাশা আরও বাড়তে পারত। খেলার ৭৮ মিনিটে তো ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে পাকিস্তানের সামনে। অনেকটা উপরে উঠে আসা বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের ফাকি দিয়ে প্রায় একা বল পেয়ে যান পাকিস্তানের আমিনা হানিফ। তবে বাংলাদেশের ওয়ান বাই ওয়ান চান্সে জিতে যান বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা।
৮০ মিনিটে মাঠে নামেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। তরুণ এই ফরোয়ার্ড নামার পর আক্রমণে আরও গিতি পায় বাংলাদেশ। তার ফলও মেলে খেলার যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। দলকে সমতায় ফেরানো গোলটি করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। িনিজেদের অর্ধ থেকে বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন ঋতু। পাকিস্তানের কয়েকজন বাধা টপকে কর্নারের কাছ থেকে ক্রস দেন বক্সে। এবার আর কোনো ভুল করেননি ছোট শামসুন্নাহার; জালের একদম সামনে থেকে দারুণ হেডে বলে জাল জড়ান তিনি। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।