প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪ ২১:২২ পিএম
‘একনায়কতন্ত্র’, অতিরিক্ত ছুটিতে থাকা ও ‘শারীরিক হেনস্থা’সহ বেশ কিছু আপত্তিকর ঘটনাও ঘটান হাথুরুসিংহে; যার সমষ্টি বরখাস্ত। শান্তদের প্রধান কোচ হয়ে এসেছেন ফিল সিমন্স। ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই শোনা যাচ্ছিল— শেষ হতে চলছে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বাংলাদেশ অধ্যায়। সেই গুঞ্জনের ডালপালা জন্মায় নাজমুল হাসান পাপনের জায়গায় বিসিবি প্রধান হয়ে আসা ফারুক আহমেদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে। পরে সেটি ছড়ায় বহুদূর। পাকিস্তান সিরিজের সাফল্যে ভারত সফরেও থাকেন হাথুরু। তবে শ্রীলঙ্কান ৫৬ বর্ষী কোচ শেষ অবধি চাকরি হারিয়ে বসেছেন। আজ মঙ্গলবার বোর্ডের পক্ষ থেকে এসেছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। বিষয়টিতে অবাকই হয়েছেন হাথুরু। বাংলাদেশ দলে সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া কোচ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
হাথুরুসিংহেকে বরখাস্তের দুটি কারণ দেখিয়েছে বিসিবি— ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলাকালে ক্রিকেটার নাসুম আহমেদকে চড় মারা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার যে অভিযোগ হাথুরুর বিরুদ্ধে, সেটার প্রমাণ পেয়েছে বোর্ড। এটি একটি। অন্যটি, লঙ্কান কোচের অতিরিক্ত ছুটি ভোগ। এই দুইয়ের কারণেই বাদ পড়েছেন হাথুরু। আজ সংবাদ সম্মেলনেই নতুন কোচের নাম জানিয়ে দেন বোর্ড প্রধান। পরে বিসিবি থেকে জানানো হয়, পাকিস্তানে বসতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত হাথুরুর বিকল্প হিসেবে ফিল সিমন্সকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তার কোচিংয়ে খেলবে বাংলাদেশ।
আইনগত কিছু বিষয় থাকায় বিসিবি প্রথমে হাথুরুকে শোকজ ও সাসপেন্ড করেছে। তারপরই চুক্তি বাতিলের বিষয়টি আসবে। ‘দ্রুততম সিদ্ধান্তে বরখাস্ত’ করার বিষয়টি টেনে আজ মিরপুরে ফারুক আহমেদ বলেছেন, ‘বর্তমান কোচের ব্যাপারে চেষ্টা করছিলাম মানিয়ে নিতে। দু-তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ইচ্ছেমতো ছুটি কাটানো এবং জাতীয় দলের খেলোয়াড়ের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই দলের জন্য ভালো উদাহরণ ছিল না। তাই তাকে ৪৮ ঘণ্টার শোকজ ও সাসপেনশন দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এটা স্থায়ী হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হিসেবে এটা ছিল হাথুরুসিংহের দ্বিতীয় অধ্যায়। প্রথম মেয়াদ ২০১৪ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। সেবার হাথুরু নিজেই দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। বাংলাদেশ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথে তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠান। তার সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ওই সময়ে আলোচনা ওঠে— কোনো ক্রিকেটার বা বোর্ড কর্তার সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের কারণেই হয়তো বাংলাদেশ ছাড়েন হাথুরু। যদিও বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার মাসখানেক পরই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পরে ২০২৩ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ‘কড়া হেডমাস্টার’ হয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত ছিল মেয়াদ। তবে এবারও মেয়াদ শেষের আগেই টাইগারদের ডেরা ছাড়তে হচ্ছে হাথুরুকে।
ছাঁটাই হওয়ার ইস্যুতে ভারত সফরে থাকতেও কথা বলেছিলেন হাথুরু। সে সময় বলেছিলেন, বোর্ড চাইলে তিনি থাকবেন। তাকে বাদ দেওয়া, বোর্ডের তোলা অভিযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিস ইস্যুতে হাথুরু খোলাখুলি কথা বলতে চান। তবে বিসিবিকে আগে শোকজের জবাব দিতে চান লঙ্কান কোচ। দেশের একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘বিসিবিকে একটা উত্তর দিতে হবে। তারা আমাকে শোকজের নোটিস দিয়েছে। আমি তাদের জানাব, তারপর আপনাদের জানাব। কিছু খবর ছড়িয়েছে, যা মাত্রই অভিযোগ। আমি শিগগির সব পরিষ্কার করে দেব।’
সাফল্যের নিরিখে দ্বিতীয় মেয়াদে বেশ সফলই ছিলেন হাথুরুসিংহে। দেড় বছরের বেশি সময়ে তার অধীনে ১০টি টেস্টের পাঁচটিতে জয়, ৩৫টি ওয়ানডের ১৩টিতে জয় ও ৩৫টি টি-টোয়েন্টির ১৯টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির একটি করে দুটি বিশ্বকাপে আশানুরূপ পারফর্ম করতে না পারলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে তার দল। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। ‘একনায়কতন্ত্র’, অতিরিক্ত ছুটিতে থাকা ও ‘শারীরিক হেনস্থা’সহ বেশ কিছু আপত্তিকর ঘটনাও ঘটান হাথুরুসিংহে; যার সমষ্টি বরখাস্ত।