ভারতে ধবলধোলাই শান্তরা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৩০ পিএম
ভারতের পেস কিংবা স্পিন কোনো বিভাগের বিপক্ষেই তেমন মোকাবেলা করতে পারেনি শান্ত ব্রিগেড। হারটাও তাই এসেছে বড় দুটি— কানপুর থেকে তোলা আ. ই. আলীমের ছবি
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের পর ঊর্ধ্বে চেপেছিল আশার পারদ। খেরোখাতায় কাটাকুটি করে বলা হচ্ছিল, এই বাংলাদেশ হারিয়ে দেবে ভারতকেও। টাইগারদের অধিনায়ক থেকে কোচ হয়ে খেলোয়াড়দের কণ্ঠেও ঝরেছিল আত্মবিশ্বাস, ‘রোহিতদের বিপক্ষে ভালো খেলে জিততে চাই।’ সেই ভালোর সবটাই জলে! চেন্নাইয়ে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হওয়া টাইগাররা কানপুরে পড়েছেন মুখ থুবড়ে। পেয়েছেন আরেকটি হার, আবারও হোয়াইটওয়াশের তেতো স্বাদ। সিরিজ এবং কানপুরে আড়াই দিনে টেস্ট হারার অভিন্ন কারণ খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশের কোচ ও অধিনায়ক— ব্যাটিং ব্যর্থতা।
কানপুর টেস্টের আড়াই দিন বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। ঠিক সেই টেস্টেই ফল বের করেছে ভারত। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৯৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৭.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই সেটা ছুঁয়ে ফেলে রোহিত শর্মার দল। সাদা পোশাকে এ যেন টি-টোয়েন্টির মহড়া! ভারত ৭ উইকেটে দ্বিতীয় টেস্ট জেতায় দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-০ তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। পুরো টেস্ট সিরিজে তা-ও খারাপের ভালো খুঁজেছেন চন্ডিকা হাতুরুসিংহে। ব্যাটারদের অ্যাপ্রোচে হতাশ হয়েছেন টাইগারদের শ্রীলঙ্কান কোচ।
বাজে ব্যাটিং আর প্ল্যানিংয়ের প্রদর্শনী দেখানোর পর কোচ হাতুরু জানিয়েছেন, ভারতের কাছে এমন ‘নাক কেটে যাওয়া’ হার খুব কষ্টের। তবে ভারতের জেতার মানসিকতার স্তুতি গেয়েছেন বাংলাদেশের কোচ, ‘এই হার আমাদের অনেক কষ্ট দিচ্ছে। ভারতের এমন অ্যাপ্রোচ আমরা আগে দেখিনি। রোহিত ও ওর দলকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, এমন অ্যাপ্রোচে ম্যাচ জয়ের জন্য। তবে আমাদের পারফরম্যান্স মেনে নেওয়া কঠিন।’
চেন্নাই টেস্টে ভারতের ৩৭৬ রানের জবাবে দেড়শ রানের আগেই গুটিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। পরে ৫১৫ রানের লক্ষ্যে শান্তরা থেমেছিলেন ২৩৪ রানে। দ্বিতীয় টেস্ট অর্থাৎ কানপুরে ব্যাটিংয়ের হতশ্রী দশা চরমে পৌঁছেছিল। বেরসিক বৃষ্টির তাণ্ডবের আগে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারলেও হুড়মুড়িয়ে পড়েছিল টাইগারদের ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রান আনা বাংলাদেশ পরের ইনিংসে দেড়শ রানও তুলতে পারেনি। উল্টো জয়ের মানসিকতা দেখানো ভারত একপ্রকার ছড়িই ঘুরিয়েছে। তা ব্যাটিং-বোলিং কি ফিল্ডিং— র্যাংকিংয়ের পুরো দৃশ্যপট চিত্রিত হয়েছে দুই টেস্টে।
ভারতের সিরিজ জয়ে কৃতিত্ব দেওয়ার সময় নিজেদের ঘাটতির কথাও অকপটে বলেছেন হাতুরু। ব্যাটাররা ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন— এই বিষয়কে কোচ ব্যাখা করেছেন ভিন্ন উপায়ে। শান্তদের বসের মতে, ভারতের বোলাররা অনেক বেশি ভালো করায় টাইগারদের এই দৈন্যদশা, ‘এই সিরিজে ব্যাটিং খুব হতাশাজনক। সর্বশেষ সিরিজে কয়েকজন ভালো খেলেছিল। তবে আমরা গত কয়েক সিরিজ ধরেই আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাট করতে পারছি না। এমন ব্যাটিংয়ের আরেক কারণ হতে পারে প্রতিপক্ষের বোলিং কোয়ালিটি। ভারত খুবই ভালো দল। আমরা শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। সেরা দলের বিপক্ষে খেলাগুলো এমনই হয়।’
চেন্নাইয়ে ২৮০ রানের হারের পর ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বলা হচ্ছিল, রান গড়তে পারেন না এমন খেলোয়াড় কেন ওপরে ব্যাটিং করেন? প্রশ্ন উঠেছিল লিটন ও মিরাজের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও। মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে খেলানোর ব্যাপারে হাতুরু মত পাল্টাননি। বরং নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিকল্পনার পক্ষেই বলেছেন হাতুরু, ‘মুমিনুল, মুশফিক ও লিটনকে ব্যাটিং অর্ডারের ওপরে খেলানো নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়নি। লিটন কিপিং করে। এই ম্যাচে ছয়ের বদলে পাঁচে নেমেছে। বোলার-ব্যাটার সবাই আমার খেলোয়াড়, তুলনা করা ঠিক হবে না।’
দলের খারাপ ফলাফলের পেছনে ব্যাটিং ব্যর্থতাকে দুষেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শান্তও। কোচ হাতুরুর সুরে সুর মিলিয়ে শান্ত অকপটেই বলেছেন, ‘দুই টেস্টেই আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের আরও ভালো ব্যাটিং করতে হবে। আমরা ৩০-৪০ বল খেলে আউট হয়ে গিয়েছি। টেস্ট ম্যাচে বড় রান করতে হবে, এটা গুরুত্বপূর্ণ। অশ্বিন ও জাদেজা (চেন্নাই টেস্টে) যেভাবে ব্যাট করেছিল, ওই জুটিটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।’
দুই মাসে মুদ্রার দুই পিঠ দেখেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে তাদের ঘরের মাঠে ধবলধোলাই করার পর যখন শান্তরা জোর দিয়ে ‘জয় পাওয়ার’ কথা বলেছিল, তখন ভারতের অধিনায়ক রোহিত বলেছিলেন, ‘মজা নিতে দাও, মাঠের খেলায় জয় আমাদেরই হবে।’ ভারতে বড় আশা নিয়ে আসা বাংলাদেশকে ডুবিয়েছে ব্যাটারদের ভগ্নদশাই। কানপুর টেস্টের পঞ্চম দিন তার অকাট্য সাক্ষী!