প্যারিস অলিম্পিক
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৪ ১১:৫২ এএম
দেশ নেই, জাতীয় সংগীত নেই, নেই অলিম্পিক পদক তালিকায় নাম! এমন পদককে কী বলা যায়? নিরপেক্ষ অ্যাথলেট হিসেবে অলিম্পিকে যারা পদক জেতেন, তাদেরজায়গা নাই গৌরব সরণিতে। প্যারিস অলিম্পিকে এমনই দুর্ভাগা দুজন বেলারুশের অ্যাথলেট ইভান লিতভিনোভিচ ও ভিয়ালেতা বার্দজিলুস্কায়া। অলিম্পিক ইতিহাসেপ্রথম নিরপেক্ষ অ্যাথলেট হিসেবে সোনা জিতেছেন লিতভিনোভিচ। এর আগে রুপা জিতেছেন ভিয়ালেতা। ২০২২ সালে ইউক্রেনের ওপর হামলা চালায় রাশিয়া। এই সামরিক হামলাকে সমর্থন দেওয়ায় অলিম্পিকে রাশিয়ার সঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয় বেলারুশকেও। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি।
গত বছর ডিসেম্বরে নিরপেক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে এবারের প্যারিস অলিম্পিকে রাশিয়া ও বেলারুশের অ্যাথলেটদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়অলিম্পিক আয়োজক কমিটি। তবে জুড়ে দেওয়া হয় অনেকগুলো শর্ত। দলীয় ইভেন্টের বাইরের প্রতিযোগিতাগুলোয় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান এ দুটি দেশের অ্যাথলেটরা। যার অর্থ দলীয় ইভেন্টে এই নিরপেক্ষ অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। প্যারিস অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার অন্যতম শর্ত যেইউক্রেনযুদ্ধে তারা সমর্থন দিতে পারবেন না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত গাওয়া ও নিজ জাতীয় পতাকা বহন করার সুযোগও তারা পাননি।শর্তের এখানেই শেষ নয়! পদক জিতলে সেটাও অলিম্পিকমেডেলতালিকায় থাকবে না। এসব শর্ত মেনেই চলতি আসরে অংশ নিয়েছেন লিতভিনোভিচ ও ভিয়ালেতা। শুধু এই দুজনই নন, এসব কঠিন শর্ত মেনেই রাশিয়ার ১৫ জন ও বেলারুশের ১৭ জন অ্যাথলেট অংশ নিয়েছেন এবারের অলিম্পিকে।
সবকিছু না থাকার পরও নিজের ইভেন্টে সবাইকে ছাপিয়ে উঠেছেন বেলারুশের জিমন্যাস্ট লিতভিনোভিচ। পুরুষদের ট্রাম্পোলিনে জিতেছেন স্বর্ণ।এই ইভেন্টে রুপা ও ব্রোঞ্জ দুটোই পেয়েছে চীন (ওয়াং জিসাই রুপা ওইয়ান লানগাইয়ুব্রোঞ্জ)।
লিতভিনোভিচ বিজয়মঞ্চে পদক নেওয়ার সময় তার দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়নি। কোনো শব্দ সংযোজন ছাড়াই সংগীত বাজানো হয়। সংবাদকর্মীদের লিতভিনোভিচ বলেছেন, ‘এখানে কী আর বলার আছে? আমাদের জাতীয় সংগীত ভালো। আরআমরা এটা শুনেই অনুপ্রাণিত হই।’
এর আগে চলতি আসরে নিরপেক্ষ অ্যাথলেট হিসেবে প্রথম পদক জেতেন বেলারুশের ভিয়ালেতা। মেয়েদেরট্রাম্পোলিনে রুপা জিতেছেন তিনি। স্বর্ণ জেতার পর আবেগাপ্লুত ২৩ বছর বয়সি লিতভিনোভিচ বলেন, আশা করছি আগামী অলিম্পিকে আমি আমার দেশের জাতীয় সংগীত গাইতে পারব এবং আমার হাতে থাকবে দেশের পতাকা।তার এইঅর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলেজান্ডার লুকাশেঙ্কো। তার ভাষায়, প্রিয় ইভান তুমি আমাদের গর্ব।