প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৪ ১৬:১৯ পিএম
আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪ ১৬:২৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যমজ বোন অ্যানি এবং ক্যারি জুর বিপক্ষে কোর্টে জয় পেয়েছিলেন বুলগেরিয়ার যমজ বোন স্টেফানি ও গ্যাব্রিয়েল স্টোএভা— সংগৃহীত ছবি
নাইজেরিয়াতে ইগবো-ওরা নামে একটি শহর আছে। আদর করে সবাই জায়গাটিকে ডাকে ‘যমজের রাজধানী’। শহরের প্রবেশমুখেই একটি বড় পাথরের স্তম্ভ। ফটকে লেখা, ‘যমজ সন্তানের দেশ’। মূলত ইগবো-ওরা নিয়ে এই লেখা নয়, এখানে থাকছে প্যারিস অলিম্পিকের একটি ম্যাচ শেষের গল্প। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে যা আগে কখনও দেখেনি বিশ্ব। প্যারিসের পোর্ত দে লা চ্যাপেল অ্যারিনায় টেনিসের ওই ম্যাচটি ভিন্ন, সেই কারণেই বেশি আকর্ষণীয় ছিল। কারণটি কী ছিল? জিজ্ঞাসাটি বহুবচনে হওয়া উচিত, ‘তো কারণটি কারা ছিলেন?’
এই গল্পের প্লট ও চরিত্রজুড়ে যে দুই যমজ রয়েছেন, তারাই মূলত কারণ। প্যারিসের স্টেডিয়ামটির দর্শকরা নিশ্চিতভাবেই অবাক হয়েছেন। টেনিস কোর্টে উড়ে চলা দুই পাশের দুই যুগলের কার কী নাম, সেটি নিয়েও হয়তো দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলেন। মেয়েদের ব্যাডমিন্টন ডাবলসে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যমজ বোন অ্যানি এবং ক্যারি জুর বিপক্ষে কোর্টে নামেন বুলগেরিয়ার যমজ বোন স্টেফানি ও গ্যাব্রিয়েল স্টোএভা। প্যারিস অলিম্পিক তো বটে, কখনও কোনো খেলায় এমন দেখা যায়নি। দুই যমজের এই লড়াই নিশ্চিতভাবেই বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে ম্যাচটিতে।
অনেকটা ক্যারির মতো দেখতে অ্যানি বিষয়টি নিয়ে মজাও করেছেন। দর্শকদের দ্বিধাদন্দ্বে পড়ে যাওয়ার ব্যাপারটি তিনি বেশ উপভোগ করেছেন, ‘অলিম্পিকে যখন তারা দেখল দুই দেশের দুই যমজ লড়ছেন, তখন অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এই বিষয়টি দারুণ।’ প্যারিসে গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচে অ্যানি এবং কেরি জিততে পারেননি। ২১-১৬, ২১-১২ সেটে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করেছেন স্টেফানি ও স্টোএভা।
‘বোনের সঙ্গে অলিম্পিকে এমন সময় কাটাতে পারার বিষয়টি— কাউকে বোঝাতে পারব না যে কতটা দুর্দান্ত। আমার মনে হয় তারাও (অ্যানি ও ক্যারি) এমন অনুভব করেছেন’
ম্যাচ শেষে স্টেফানিও যুগলের লড়াইটি বেশ উপভোগ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘বোনের সঙ্গে অলিম্পিকে এমন সময় কাটাতে পারার বিষয়টি— কাউকে বোঝাতে পারব না যে কতটা দুর্দান্ত। আমার মনে হয় তারাও (অ্যানি ও ক্যারি) এমন অনুভব করেছেন।’ স্টেফানির মতো অ্যানিও বিষয়টি স্বীকার করেছেন, ‘আমি ক্যারির সঙ্গে অনেক সময় কাটিয়েছি। যখন আমি তাকে দেখি বলে দিতে পারি তার মনের ভাবনা। যদি বুঝি সে নার্ভাস, তখন তাকে সেটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠানোর যায়Ñ তা আমি জানি।’
প্যারিসে ম্যাচটি শেষে চারজনের একসঙ্গে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেখানে সবার প্রথমে স্টেফানি বলেন, ‘আমরা ছোট কোনো বিষয় নিয়েও ঝগড়া করতাম। কিন্তু পাঁচ সেকেন্ডের মাঝেই আবার সব ঠিক।’ গ্যাব্রিয়েলাও সেই বিষয়টিকে টেনেছেন, ‘বাবা-মা প্রায়ই বলতÑ তোমরা কেন মারামারি করছ?, এই প্রশ্ন থেকে কীভাবে এড়ানো যায় তা খুঁজে পেয়েছিলাম। কিন্তু স্টেফানির সঙ্গে ঝগড়া থামাইনি।’
যুক্তরাষ্ট্রের দুই যুগলেরও একই অবস্থা। অ্যানি বলেন, ‘শুধু আমরাই বলতে পারি, যদি আমাদের ঝগড়া হয় তা বেশির থেকে বেশি এক মুহূর্তের।’ বোন অ্যানির কথায় সায় দিয়েছেন ক্যারিও, ‘সত্যি বলতে আমরা দুজন দুজনের সম্পর্কে জানি, সবকিছু সহজ হয়েছে। যদি কখনও সে নার্ভাস থাকে, হয়তো আমিই তাকে উৎসাহিত করতে পারতাম। তাকে ধরে ঝাঁকুনি দিতাম, একটু রিলাক্স করতে পারতাম। একই ব্যাপার আমার সঙ্গেও হতো। স্টেফানি শেষটা টেনেছেন পরিবারের গুরুত্ব জানিয়ে, ‘আমরা সব সময় ঝগড়া করলেও সবকিছু নিজেদের মাঝে শেয়ার করতাম। কেউই জানত না, কারণ আমরা একটা পরিবার। আমি জানি সে কতটা ভালোবাসে আমাকে।’