রুবেল রেহান
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৭:৫০ পিএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪ ১৭:৫৭ পিএম
স্পেন-ফ্রান্স মহাযুদ্ধ আজ
তারকাসমৃদ্ধ দল এবং অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে পা রেখেছিল পর্তুগাল। কিন্তু শেষ আটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের হারিয়েই সেমিফাইনালে ওঠে ফ্রান্স। আর ছন্দে থাকা স্বাগতিক জার্মানিকে দর্শক বানিয়ে শেষ চারের টিকিট কাটে স্পেন। আজ মঙ্গলবার আসরের প্রথম সেমিফাইনালে স্পেনকে মোকাবিলা করবে কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স। এই মহাযুদ্ধ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
স্পেন ও ফ্রান্সের দ্বৈরথকে অনেকেই দেখছেন তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই হিসেবে। কার্ড জটিলতায় এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না অভিজ্ঞ স্প্যানিশ লেফট ব্যাক দানি কারবাহাল। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই রিয়াল সোসিয়াদের আরেক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার রবিন লে নরম্যান্ড। এটা ধরেই নেওয়া যায় স্পেন কোচ লুইস ফুয়েন্তে রাইট-ব্যাকে আজকের ম্যাচে খেলাতে পারেন জেসুস নাভেসকে। যার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলার মধ্যে যেকোনো একজন। তিনজনই স্পেন ডিফেন্ডারের চেয়ে বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় কম। তবে এই তিনজনের গতি এবং ক্ষিপ্রতা সম্পর্কে তো সবারই জানা।

এই তিনজনের মধ্যে নাভেসের লড়াইটা যার সঙ্গেই হোক না কেন, সবার নজর থাকবে এমবাপের দিকে। কেননা যখন তিনি ফিট এবং নিজের ফায়ারিং ফুটবলটা খেলেন তখন তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার। যদিও টুর্নামেন্টে এখনও নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেননি এই ফরাসি গোলমেশিন। তবে তার মতো প্রতিভা যেকোনো সময় জ্বলে উঠতে পারেন এবং চুরমার করে দিতে পারেন প্রতিপক্ষের রক্ষণ। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের কথায়, ‘এমবাপের মতো ফুটবলার দলে থাকা মানে বিশেষ কিছু। শতভাগ ফিট না হলেও তার উপস্থিতি স্পেন ম্যাচে খুব প্রয়োজনীয়। এখন পর্যন্ত স্পেন দল আমাকে মুগ্ধ ও উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের দলের তরুণ খেলোয়াড়রা দারুণ পাসিং ফুটবল খেলছে, তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে এমবাপেকে শুরু থেকেই রাখতে হবে।’ টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এমবাপেই গোল করা একমাত্র ফরাসি খেলোয়াড়। পোল্যান্ডের বিপক্ষে সেই গোলটিও এসেছে পেনাল্টির কল্যাণে। তবে গোল নিয়ে চিন্তিত নন দেশম। তিনি বরং সমালোচকদের মনে করিয়ে দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে। যেখানে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের রঙ একাই বদলে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
গোল না পাওয়ায় অনেক আলোচনা হচ্ছে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ডদের নিয়ে। বিপরীতে বিপক্ষ দলের জালে গোল উৎসব করেই চলেছে স্পেন। এই আসরে পাঁচ ম্যাচে মোট ১১ গোল করেছে তারা। আর পাঁচ ম্যাচই জিতেছে ফুয়েন্তের দল। ছন্দে আছেন লামিন ইয়ামালে, নিকো উইলিয়ামস ও আলভারো মোরাতারা। এদের সঙ্গে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন দানি অলমো। লাইপজিগের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সবশেষ নকআউট ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করে নায়ক বনে যান। রাইট উইংয়ে উইলিয়ামস বেশ কয়েকটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন। এই ম্যাচে তাকে সামালনোর দায়িত্ব ন্যাস্ত হতে পারে লেফট ব্যাক জুলেস কুন্দের ওপর। গত শুক্রবার পর্তুগালের রাফায়েল লিও যার পরীক্ষা নিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন কুন্দে। এর আগে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্রয়ের ম্যাচে নায়ক ছিলেন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার। ওই ম্যাচে বেলজিয়ামের ম্যানচেস্টার সিটির ফরোয়ার্ড জেরিমি ডকুর বিপক্ষে তার লড়াইটাও বেশ জমেছিল। এ ছাড়া রক্ষণভাগে তিনি পাশে পাচ্ছেন দায়োত উপামিকানো, উইলিয়াম সালিবা এবং থিও হার্নান্দেজের মতো তারকাদের।

তারকাসমৃদ্ধ ফ্রান্সের বিপক্ষে অবশ্য ভীত নয় স্পেন। ম্যাচের দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলনে সেটিই জানিয়ে গেছেন স্প্যানিয়ার্ডদের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেল্লা, ‘টুর্নামেন্টে আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখানে হারানোর কিছু নেই। আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। আমরা টুর্নামেন্টের মূল জায়গায় আছি। জানতাম আমাদের দারুণ একটি দল আছে এবং আমাদের অনেক দূর যাওয়া সম্ভব। এই পর্যন্ত আসতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন আমাদের শেষ বড় প্রচেষ্টা দরকার, সামনে আর কেবল দুটি ধাপ।’
বড় টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাঁচবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও ফ্রান্স, যেখানে বড় সাফল্য ফ্রান্সের পক্ষে। ফরাসিরা পাঁচ ম্যাচের তিনটিই জিতে নিয়েছে। একটি জিতেছে স্পেন, অন্যটি হয়েছে ড্র। এই লড়াইয়ের শুরু থেকে প্রথম চার ম্যাচের তিনটিতে স্পেনকে হারিয়েছে ফ্রান্স। ১৯৮৪ সালের ইউরো ফাইনালে জয়ের মার্জিন ছিল ২-০। এর ১৬ বছর পর অর্থাৎ ২০০০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে স্প্যানিশদেরকে হার মানতে হয়েছিল ২-১ ব্যবধানে। এরপর ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ৩-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারায় ফরাসিরা। দুই দলের সবশেষ দেখা হয় ২০১২ সালের ইউরোয়। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় স্প্যানিশরা। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দলের ৩৬ দেখায় ১৬ বার জিতেছে স্পেন। সাত ম্যাচ হয়েছে ড্র, আর বাকি ১৩টিতে শেষ হাসি হেসেছে ফ্রান্স। আজকের লড়াইয়ে জয় হবে কার এমবাপে-দেম্বেলে নাকি অলমো-ইয়ামালেরা, এখন তারই রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা।