× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নক্ষত্রের বিদায়ে শোকের ছায়া

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪ ২২:৫২ পিএম

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। সংগৃহীত ছবি

গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। সংগৃহীত ছবি

নিজের শেষযাত্রায়ও দাবা বোর্ডকেই বেছে নেন দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান। পল্টনস্থ বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন কার্যালয়ে জাতীয় দাবায় খেলতে খেলতেই শুক্রবার পৃথিবীর মায়া কাটালেন তিনি। শেষবারের মতো শনিবার গিয়েছিলেন প্রিয় প্রাঙ্গণে, তবে কফিনে শুয়ে। পুরোনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিচতলায় হলো গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়ার নামাজে জানাজা।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই। জিয়ার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), দাবা ফেডারেশন, তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মোহাম্মদপুরে তাজমহল রোডে। বাবার কবরের পাশে হয়েছে এই দাবাড়ুর শেষ ঠিকানা। যে বাবার হাত ধরেই ক্রীড়ায় উৎসাহ পেয়েছিলেন তিনি। পরিচয় হয়েছিল দাবাড় কিংবদন্তিদের সঙ্গে। তেমনই একজন গ্র্যান্ডমাস্টার রানী হামিদ। বেঁচে থাকতে যার সঙ্গে অনেক ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিলেন জিয়া। কিংবদন্তি রানী হামিদ অবশ্য তার আগেই জিয়ার বাবা পয়গম আহমেদের সঙ্গে খেলেছেন। এরপর জিয়া রানী হামিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ছেলে তাহসিন তাজওয়ারকে। ছেলেকে নিয়ে জিয়ার স্বপ্ন ছিলÑ একদিন সেও বাবার মতো গ্র্যান্ডমাস্টার হবে। সেটি আর দেখে যেতে পারেননি তিনি। সেই আফসোস ঝরল রানী হামিদের কণ্ঠে, ‘ওর অনেক স্বপ্ন ছিল ছেলেকে নিয়ে। ওর পরিবারের সঙ্গে একটা পারিবারিক বন্ধন ছিল আমাদের। একদিন জিয়া ওর ছেলেকে আমার সঙ্গে বসিয়ে দিল খেলার জন্য। আমি তো ওদের তিন পুরুষের সঙ্গে খেলেছি। কিন্তু বাচ্চা ছেলেটার জন্য মায়া হচ্ছে। খুব অল্প বয়সেই বাবাকে হারাল ও।’

জিয়ার মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল রানী হামিদও। জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার। শোকে কিংবা কষ্টে যেন পাথরই হয়ে গিয়েছিলেন। শনিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে রানী হামিদ বলেন, ‘শুক্রবার যখন আমাকে খবরটা জানানো হলো, আমি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এভাবেও কেউ চলে যেতে পারে… এই তো ক’দিন আগেই ওর সঙ্গে ফেডারেশনে আমার দেখা। আমার একটা ম্যাচ নিয়ে বলতে এলো- আপা আপনি তো ম্যাচটা জিততে পারতেন। আমি ওকে বললাম বয়স হয়েছে তো এমনই হয়, জেতা ম্যাচও এখন হেরে যাই। কিন্তু সেই জিয়া যখন আর নেই শুনতে পেলাম, মনের মধ্যে খুব আঘাত লাগল। ও খুব সহজ, সরল আর সাধারণ-সাদামাটা মানুষ ছিল। পৃথিবীর সব ভালো মানুষই বোধহয় সবার আগে মৃত্যুবরণ করে।’

জিয়ার জানাজায় উপস্থিত গ্র্যান্ডমাস্টার আবদুল্লাহ আল রাকিব জিয়াকে নিয়ে নানা স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ঝরনার মতো ছিল তার (জিয়া) সরলতা। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। কিন্তু একজন আরেকজনকে শুভকামনা জানাতাম। বড় ভাই, বন্ধু হিসেবে দারুণ ছিলেন মানুষটা।’ রাকিবের পাশে তখন উপস্থিত ছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব। জিয়াকে চিরবিদায় জানিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা জানাজায় উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিয়ার অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তার যে পবিত্র স্থান, যে স্থানকে সে ভালোবাসত, সেখান থেকেই সে চলে গেল। দাবা খেলা অবস্থাতেই মারা গেল। ভালো একজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছি আমরা।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা