প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৪ ২১:৩১ পিএম
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪ ২১:৩৮ পিএম
মাট গুনোকের এই সেভকে বলা হচ্ছে ইউরোর ইতিহাসের সেরা সেভ। ছবি: এএফপি
জয় ছাপিয়ে রেকর্ড, বিশেষ কীর্তি
কিংবা দর্শনীয় কোনো গোল-সেভ হয় চায়ের আড্ডার বিষয়বস্তু। গত মঙ্গলবার ইউরোর শেষ ষোলোয়
অস্ট্রিয়া-তুরস্ক ম্যাচ অনেক ঘটনার সাক্ষী। লিপজিগের বৃষ্টিস্নাত ম্যাচটি জুগিয়েছে
চোখের শান্তি। কখনও টেনে নিয়ে গেছে ৫০ বছর আগের স্মৃতিতে, গুছিয়েছে ১৬ বছরের আক্ষেপও।
পরতে পরতে উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে ২-১ গোলের জয়ে তুরস্ক পৌঁছেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।
তুরস্কের হয়ে গোল দুটি করেছেন মেরিহ দেমিরাল। তবে ৯৫ মিনিটে চোখ ধাঁধানো এক সেভে ইতিহাস
নাড়িয়ে দিয়েছেন মার্ট গুনোক।
এদিন রেড বুল অ্যারেনায় দর্শকরা
তখনও নড়েচড়ে বসেনি। এমন সময় কেঁপে ওঠে অস্ট্রিয়ার জাল। ম্যাচ ঘড়ির ৫৭ সেকেন্ডে দলকে
লিড এনে দেন দেমিরাল। কর্নার থেকে আরদা গুলেরের নেওয়া শট বক্সের জটলায় পড়লে বল বিপদমুক্ত
করতে ব্যর্থ হন অস্ট্রিয়ার গোলকিপার প্যাট্রিক পেনৎস। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা দেমিরাল উঁচু
করে নেওয়া শটে গোল আদায় করেন। ইউরোর নকআউট পর্বের ইতিহাসে এটিই এখন দ্রুততম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে মুহুর্মুহু আক্রমণে
তুরস্কের রক্ষণদুর্গে ঝড় বইয়ে দেন অস্ট্রিয়া ফরওয়ার্ডরা। কিন্তু সমতায় ফেরা হয়নি। ৫৯
মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান বাড়ান দেমিরাল। এই গোলটিও আসে কর্নার থেকে,
সেই গুলেরের সাহায্যেই। সাত মিনিট পর একটি গোলের শোধ দেয় অস্ট্রিয়ানরা। ব্যবধান কমান
মিকেল গ্রেগোরিটস; লড়াইয়ে ফেরে দল। এরপর আক্রমণে ধার বাড়ায় তারা। কিন্তু দ্বিতীয়বার
মেলেনি গোলের দেখা। তবে ৯৫ মিনিটে সমতাসূচক গোলটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিল অস্ট্রিয়া। কিন্তু
তুর্কি গোলকিপার গুনোক বল জালে আশ্রয় নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের
বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন। গুনোকের এই সেভ দেখে ইংলিশ ডিফেন্ডার ম্যাথু উপসনস বিবিসি
রেডিও ৫ লাইভে বলেছেন, ‘আরে এটিই গর্ডন ব্যাংকস। সত্যিই অপ্রতিরোধ্য। কী দারুণ মুহূর্ত।’
দেশটির আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার লি ডেক্সন বলেছেন, ‘ফার্স্টক্লাস পারফরম্যান্স। এটি
গর্ডন ব্যাংকস রিপ্লেকা।’ ইংলিশ ধারাভাষ্যকার ক্রিস সাটনের মতে ইউরোর ইতিহাসে এটি অন্যতম
সেরা গোল।
মূলত ১৯৭০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড
ম্যাচে অকল্পনীয় ক্ষিপ্রতায় গর্ডন ব্যাংকস পেলের একটি গোল সেভ করেন। তা ফুটবল ইতিহাসের
অন্যতম সেভ হিসেবে স্বীকৃত। তবে এবার তুর্কি গোলরক্ষক গুনোকের গোল নিয়ে বিবিসির ধারাভাষ্যকরাররা
তো বলেই দিয়েছেন এটি ‘ব্যাংকস রেপ্লিকা’। পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে, ইউরোর ইতিহাসে
এটি সেরা সেভ কি না?
এ জয়ে শেষ আটের রাস্তা সুগম
হওয়ার সঙ্গে ১৬ বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো তুর্কিদের। দলের জয়ে তুরস্কের শহর ইস্তাবুল
তো বটে, জার্মানিজুড়ে (বিশেষ করে বার্লিনে) উল্লাস করেছে ২৯ লাখ তুর্কি বংশোদ্ভূত মানুষ।
প্রথম মিনিটে এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তুর্কি সমর্থকরা রাস্তায় নেমে পড়ে। জার্মানিতে
ঠান্ডা ও বৃষ্টিস্নাত আবহাওয়া থাকলেও তুরস্কের সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাসের কমতি ছিল না।
আর শিষ্যদের এমন জয়ে যারপরনাই খুশি তুরস্ক কোচ মন্তেল্লা, ‘প্রত্যেকেই হৃদয় উজাড় করে
খেলেছে। কেউ হাল ছাড়েনি। প্রধান কোচের জন্য প্রায়ই এমন ম্যাচ থাকে, যেখানে আপনি শুধু
তখনই জিততে পারবেন, যদি দলের সবাই নিজেদের ভেতর থেকে পুরোটা দেয়।’