টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৬:৩৬ পিএম
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, দুই মহাতারকা অধিনায়ক, তারকায় ঠাসা দুই দল, যে ম্যাচটি বিশ্বকাপের ‘বিজনেস ক্লাব’। প্রস্তুত বার্বাডোসের ব্রিজটাউন স্টেডিয়াম। আজ মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। অবিস্মরণীয় দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৭তম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাত ১১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে নাগরিক টিভি।
গেল দুই বছরে সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের ফর্ম দুই দলের দুর্দান্ত লড়াইয়ের পারদ কিছুটা নেমে গেছে কি না সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে এটা মনে রাখতে হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কিন্তু এই ইংল্যান্ডই। তার আগের আসরে, অর্থাৎ ২০২১ সালে মুকুট পরেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রতিযোগিতার সর্বশেষ দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন দুটি দলের লড়াই। মাঠের বাইরের সব আলোচনা কিংবা বিশ্বকাপের ম্যাচ ছাপিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের এই লড়াই যে আত্মসম্মানেরও।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দুই দলই এখন পর্যন্ত খেলে ফেলেছে একটি করে ম্যাচ। ওমানের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুভ সূচনা করে অজিরা। বৃষ্টির বাগড়ায় জয়ের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচটি হয়েছে পরিত্যক্ত। যে কারণে আজ জয়ের জন্য লড়াই করবে জস বাটলারের দল। ছেড়ে কথা বলবে না অজিরাও। অনেক সময়ই তো দুই দলের লড়াইয়ের আগে হেডলাইন হয় সেয়ানে সেয়ানে টক্কর।
ক্যারিবীয় উইকেটে এবার নিজেদের সম্ভাবনা দেখছেন অজি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য ভিন্ন প্রশ্নের মুখেই পড়তে হয় ওয়ার্নারকে। সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজে প্রথমে ২-০-তে পিছিয়ে পড়ার পরও ইংল্যান্ড অ্যাশেজ ড্র করেছিল ২-২ ব্যবধানে। মূলত ইংলিশ পেসার মার্ক উডের দলে অন্তর্ভুক্তিতেই বদলে গিয়েছিল সব। পরের তিন টেস্টে এই পেসার নিয়েছিলেন ১৪ উইকেট। ওই সিরিজের পর ইংল্যান্ডকে আর মোকাবিলা করেনি অস্ট্রেলিয়া। এদিকে ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন উড। আছেন আরেক অভিজ্ঞ এবং বিধ্বংসী পেসার জফরা আর্চার। তাকে কীভাবে অস্ট্রেলিয়ানরা সামলাবে সেই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে সোজা ব্যাট চালালেন ওয়ার্নার, ‘আপনাকে শুধু তাদের গতি ব্যবহার করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি মেলানো যাবে না। টেস্টে কোনো ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন থাকে না। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ভিন্ন বিষয়, পার্থক্য অনেক।’
নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। সে সময় দলকে পথ দেখিয়েছেন ওয়ার্নার। করেছেন ৫১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। এই ইনিংসের আগে ভুলে যাওয়ার মতো একটি আইপিএল মৌসুম কাটিয়েছেন ওয়ার্নার। সমালোচনার শিকারও হতে হয়েছে বাঁহাতি ওপেনারকে। ওমানের বিপক্ষে দারুণ এক ইনিংস খেলে সবকিছুর জবাব মাঠেই দিয়েছেন ওয়ার্নার, ‘সমালোচনা আমাকে কখনও প্রভাবিত করে না। এমন যে আমি এক কান দিয়ে শুনলাম, আর অন্য কান দিয়ে বের করে দিলাম।’ ওয়ার্নারের জায়গায় ফ্রেজার ম্যাকগার্ককে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলেও অনেকে খোঁচা দিয়েছেন। প্রায়শই সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয় ম্যাকগার্ককে নিয়ে। এ নিয়ে ওয়ার্নারের জবাব, ‘আমি বুঝি না দলের আরও ১১ জনকে বাদ দিয়ে, সব সময় কেন আমাকেই ওর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। এর কোনো উত্তর আমার কাছে নেই।’
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস বোলিং লাইনআপের দল ইংল্যান্ড। আর্চার, উডদের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ ক্রিস জর্ডান। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে উইকেট না পেলেও কিপটে বোলিং করেছেন আর্চার ও উড। দুজনের ৪ ওভারে স্কটিশরা তুলতে পেরেছিল সাকুল্যে ২৩ রান। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জ্বলে উঠতে চান ৩৪ বছর বয়সি উড এবং স্বীকার করেছেন যে অজিদের বিপক্ষে ম্যাচটি আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। এটি তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ‘এটি অবশ্যই আমাদের জন্য বড় ম্যাচ। এটা এমন এক ম্যাচ যেটা অন্য ম্যাচগুলোর মতো নয়। তারা আমাদের চির প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এটি ভিন্ন কারণে আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে। আমরা প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েছি। এই ম্যাচে তেমন কিছু চাই না। পয়েন্টের জন্য হলেও এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আমরা বোর্ডে কিছু পয়েন্ট রাখতে চাই।’
এক নজরে দুই দলের পরিসংখ্যান
মোট ম্যাচ- ২৩
অস্ট্রেলিয়া জয়ী- ১০
ইংল্যান্ড জয়ী- ১১
পরিত্যক্ত- ২
দলীয় সর্বোচ্চ
অস্ট্রেলিয়া- ২৪৮/৬
ইংল্যান্ড- ২২১/৫
দলীয় সর্বনিম্ন
অস্ট্রেলিয়া- ৭৯ রান
ইংল্যান্ড- ১১১ রান
সবচেয়ে বেশি রান
অস্ট্রেলিয়া- অ্যারন ফিঞ্চ, ৬১৯ রান
ইংল্যান্ড- জস বাটলার, ৫৪২ রান
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ
অস্ট্রেলিয়া- অ্যারন ফিঞ্চ, ৬৩ বলে ১৫৬ রান
ইংল্যান্ড- গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ৫৮ বলে ১০৩*
সবচেয়ে বেশি উইকেট
অস্ট্রেলিয়া- মিচেল জনসন ১১ উইকেট
ইংল্যান্ড- আদিল রশিদ ১২ উইকেট
সেরা বোলিং
অস্ট্রেলিয়া- শেন ওয়াটসন, ৪-০-১৫-৪
ইংল্যান্ড- জন লুইস, ৪-০-২৪-৪