টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১০:০০ এএম
আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪ ১১:২৭ এএম
রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহ পেয়েছিল আফগানিস্তান। এরপর বল হাতে আগুন ঝরান পেসার ফজল হক ফারুকি। বাঁ-হাতি এই পেসার একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। তার ফাইফারে প্রথমবার বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নামা উগান্ডাকে উড়িয়ে দিয়েছে আফগানরা। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে ১২৫ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে রশিদ খানের দল; যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের চতুর্থ বৃহত্তম জয়।
মঙ্গলবার (৪ জুন) গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ১৮৩ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ১৬ ওভারে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে যায় আফ্রিকার দেশ উগান্ডা। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের চতুর্থ সর্বনিম্ন সংগ্রহ। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বনিম্ন ৩৯ রান করেছিল নেদারল্যান্ডস।
১৮৪ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই অসাধারণ এক কাভার ড্রাইভে চার মারেন উগান্ডার ওপেনার রোনাক প্যাটেল। কিন্তু পরের দুই বলেই জোড়া উইকেট শিকার করেন ফারুকি। দুর্দান্ত ইয়র্কার ডেলিভারিতে রোনাককে (৪) বোল্ড করার পর রজার মুকাসাকে (০) এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে মুজিব উর রহমানের বলে আরেক ওপেনার সেজাই (৪) ফিরলে ৮ রানে ৩য় উইকেটের পতন ঘটে উগান্ডার।
পঞ্চম ওভারে দলীয় ১৮ রানের মাথায় জোড়া আঘাত হানেন নাভিন উল হক। প্রথমে দীনেশ নাকরানি হয়েছেন বোল্ড। আর দুই বল পর আল্পেশ রামজানি স্লিপে ক্যাচ দেন গুলবাদিন নাইবের হাতে। এতে শঙ্কা জাগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানের গুটিয়ে যাওয়ার।
তবে রিয়াজত আলী শাহকে নিয়ে সেই লজ্জা থেকে উগান্ডাকে মুক্তি দেন রবিনসন ওবুয়া। উগান্ডার ইনিংসে এই দুজনেই কেবল গিয়েছেন দুই অঙ্কের দেখা। দলীয় ৪৭ রানে আরেক দফায় ফারুকির জোড়া আঘাত। রিয়াজাত ৩৪ বলে ১১ রান করে ফেরার পরের বলেই অধিনায়ক ব্রায়ান মাসাবাকে ফেরেন শূন্য হাতে। ওই ওভারের শেষ বলেই রবিনসনের উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন ফারুকি। বিদায়ের আগে দলের পক্ষে ২৫ বলে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন তিনি। দলীয় ৫৮ রানে পরপর দুই উইকেট নিয়ে উগান্ডার ইনিংস গুটিয়ে দেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের ইনিংসে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন গুরবাজ ও ইব্রাহিম। দুজনের উদ্বোধনী জুটি ১৪.৩ ওভারে তুলে ১৫৪ রান। গুরবাজের ৪৫ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে মেরেছেন ৪ ছক্কা ও ৪ চার। আর ৭০ রান করা জাদরান ৪৬ বল খেলে মেরেছেন ৯ চার ও ১ ছক্কা।
এরপরের সময়টা কেবলই উগান্ডার। একের পর এক আফগান ব্যাটার কেবল এসেছেন আর গিয়েছেন। নাজিবুল্লাহ জাদরান ২, গুলবাদিন নাইব ৪ আর আজমতউল্লাহ ওমরজাই ফেরেন ৫ রানে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে মোহাম্মদ নবি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেছেন ১৬ বলে ১৪ রানে। সবচেয়ে বড় কথা, গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরান ছাড়া আফগানদের হয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি কেউই। কিন্ত শেষ পর্যন্ত তা জয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান : ২০ ওভারে ১৮৩/৫ (রহমানুল্লাহ গুরবাজ ৭৬, ইব্রাহিম জাদরান ৭০; ব্রায়ান মাসাবা ২/২১, কসমস কুয়েটা ২/২৫)।
উগান্ডা : ১৬ ওভারে ৫৮/১০ (রবিনসন ওবুয়া ১৪, রিয়াজত আলি শাহ ১১; ফজল হক ফারুকি ৫/৯, নাভিন উল হক ২/৪, রশিদ খান ২/১২)।
ফল : আফগানিস্তান ১২৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ফজল হক ফারুকি।