× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

২০১২ ও ২০১৬’র ‘বিশেষ অনুভূতি’ ফেরাতে চান পুরান

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৪ ১৩:৩৩ পিএম

ড্যারেন সামির সঙ্গে নিকোলাস পুরান। ছবি : ক্রিকইনফো

ড্যারেন সামির সঙ্গে নিকোলাস পুরান। ছবি : ক্রিকইনফো

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০২২ বিশ্বকাপে তো প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয় তাদের। দুটি হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর নিকোলাস পুরান বিশ্বাস করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন নিজেদের গৌরব ফেরাতে প্রস্তুত। বিশেষ করে তিনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন ২০১২ এবং ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে। যে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপে জোড়া শিরোপাধারীরা। আরেকটি বিশ্বকাপের আগে পুরান বলেছেন, আগের ওই দুটি বিশ্বকাপের অনুভূতি ফেরাতে চান তিনি।

এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়েসট ইন্ডিজ ও ‍যুক্তরাষ্ট্রে। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ তাই আলাদা রোমাঞ্চ ছাড়াচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের মধ্যে। ক্রিকেটে বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে পুরান বলেন, ‘দুই বছর পর এখানে ফিরে এসে, সবাই সেই বিশেষ অনুভূতি পেতে চায়, যখন আমরা সেই দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। আমি মনে করি সবাই সেই মুহূর্তটি আবার চায়। তারা সেই বিজয়ী অনুভূতির অংশ হতে চায়। আমাদের ভক্তদের সামনে এটি করা আরও বেশি বিশেষ।’

পুরান বিশ্বাস করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই দলটিতে বেশ কিছু ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় রয়েছে যারা আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে পারে।

পুরান ২০২২ সালের মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাদা বলের অধিনায়ক হিসাবে কাইরন পোলার্ডের স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু নভেম্বরেই পদত্যাগ করেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পরপরই ব্যর্থতার জন্য ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ এই সিদ্ধান্ত জানান পুরান। এখন তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রোভম্যান পাওয়েল। 

সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে নিজেদের তিনটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।২৮ বছর বয়সী পুরান বলেন, ‘আমরা সবাই খেলোয়াড় হিসাবে, সতীর্থ হিসাবেও বড় হয়েছি। যখন আমরা অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছিলাম, যেখানে আমরা যোগ্যতা অর্জন করিনি, তখন সবাই কষ্ট পেয়েছিল। আমি তার পরেও (অধিনায়কত্ব থেকে) পদত্যাগ করেছিলাম। এতেও সবাই আহত হয়েছিল। কিন্তু আমরা আর সেই দল নই। আমরা সকলেই জানি এখানে আমাদের কী করতে হবে। স্পষ্টতই সেই ব্যর্থতার ভার থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করতে আমাদের এটি করতে হবে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে আমাদের ক্রিকেট ভক্তদের এবং সারা বিশ্বের আমাদের ক্রিকেট অনুরাগীদের খুশি করার সুযোগ রয়েছে।’

পুরানসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ জনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অর্ধ ডজন খেলোয়াড় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সাম্প্রতিক তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন না। ব্র্যান্ডন কিংয়ের নেতৃত্বে তারপরও ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিরিজ মিস করা অন্য পাঁচজন খেলোয়াড় হলেন আন্দ্রে রাসেল, পাওয়েল, শিমরন হেটমায়ার, আলজারি জোসেফ ও শেরফেন রাদারফোর্ড। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেভাবে পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং জয়ের জন্য লড়াই করছে এটিই মুগ্ধ করছে পুরানকে, ‘আপনি যদি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটি দেখেন, কিছু খেলোয়াড় অনুপস্থিত ছিল। কিন্তু আমরা সেই সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেছি। আপনি পারফরম্যান্স দেখেছেন, আপনি দেখেছেন যে ছেলেরা লড়াই করছে এবং এটি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জিততে পারি। তবে একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসাবে আমার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমাদের মাঠে শতভাগ দিতে হবে।’

আমাদের দলের সৌন্দর্য হল যে আমাদের কাছে এমন খেলোয়াড় আছে যারা তাদের দিনে খেলাটা একাই জিতিয়ে দিতে পারে- পুরান

মে মাসের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা কর হয়। সে সময় প্রধান নির্বাচক গ্রেট ডেসমন্ড হেইনস উল্লেখ করেছিলেন যে তারা শিরোপা জিততে সক্ষম। হেইন্সের পাশে বসে হেড কোচ স্যামি বলেছিলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ জন এক্স-ফ্যাক্টর খেলোয়াড় আছে।’ স্যামির সময়কার বর্তমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে দুজন খেলোয়াড় রয়েছে- আন্দ্রে রাসেল ও জনসন চার্লস। যারা ২০১২ এবং ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের অংশ ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হতে চাইছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে পাওয়েল, রাসেল, হেটমায়ার, রাদারফোর্ড এবং শেফার্ডের মতো আরও বেশি পাওয়ার হিটার রয়েছে। বোধকরি এই আসরে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং লাইন আপ দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাসেল শীর্ষ ফর্মে এসেছেন। ব্যাট-বলে পরফর্ম করে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের তৃতীয় আইপিএল শিরোপা জিততে সাহায্য করেছেন। পুরান বলেছিলেন, ‘রাসেলের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ড্রেসিংরুমে ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দেবে। সে একজন বিজয়ী। সে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছে। সে টুর্নামেন্ট জিতেছে। যখন ড্রেসিংরুমে আপনার সেই অভিজ্ঞতা থাকে, এটি অনেক সাহায্য করে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতাই মুখ্য।’

শুধু রাসেলের কথা নয়। পুরান জোর দিয়েছিলেন যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরও অনেক ম্যাচজয়ী আছেন, ‘আমাদের রভি (পাওয়েল) আছে, আমাদের হেটমায়ার আছে, আমাদের রাদারফোর্ড আছে, আমাদের শেপ্পি (শেফার্ড) আছে। এই ছেলেরা গত ১২ মাসে নিজেদের জন্য এবং তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য দুর্দান্ত কিছু করেছে। আমি মনে করি যে রাসেলকেও এরা অনেক সময় ছাড়িয়ে গেছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় এবং শেষ টি-টোয়েন্টির উদাহরণ তুলে ধরেন পুরান। যে ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৭ রানে জিতেছিল। যদিও শুরুতে বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়েছিল তারা, ‘আমার মনে আছে পার্থের সেই শেষ ম্যাচটি। আমরা লড়াই করছিলাম। আমরা সম্ভবত ৭০ রানে ৪ উইকেট (আসলে ৫ উইকেটে ৭৯ রান) হারিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা ৬ উইকেটে ২২০ রান করেছি। রাসেল এবং রাদারফোর্ড ৭০ রান করেছিলেন (৭১ এবং ৬৭) যথাক্রমে। আমাদের দলের সৌন্দর্য হল যে আমাদের কাছে এমন খেলোয়াড় আছে যারা তাদের দিনে খেলাটা একাই জিতিয়ে দিতে পারে। আপনি এটাই তো চান। আর আমাদের কাছে সেটাই আছে। আমাদের দলে অসংখ্য ম্যাচ উইনার।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা