সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৮:৪৮ এএম
নানা আলোচনার পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের এই মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রামের তিন সংসদ সদস্য (এমপি) জায়গা করে নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহে সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। সেই কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে ইতোমধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের অন্তত দেড় ডজন নারী নেত্রী এমপি হতে বেশ তৎপর। তবে শেষ মুহূর্তে এসে চট্টগ্রামের সাত নেত্রীর নাম বেশ আলোচনায়।
আলোচনায় থাকা এই সাতজনের মধ্যে অনেকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে চট্টগ্রামের ৬৮ জন দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত আতাউর রহমান খান কায়সারের মেয়ে ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং ফটিকছড়ির সাবেক এমপি রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এবার সনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আর ওয়াসিকা আয়েশা খান বর্তমানে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছেন। তাই সংরক্ষিত আসনে এমপি মনোনয়নে তার নামটি এবারও সবার আগে।
চট্টগ্রামে শেষ মুহূর্তে আলোচনায় থাকা বাকি ছয়জন হলেনÑ চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি প্রয়াত ডা. আফসারুল আমীনের স্ত্রী কামরুন নেছা, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক সাজেদা সুরাত, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলোয়ারা ইউসুফ ও যুব মহিলা লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক অধ্যাপক সায়রা বানু রৌশনী।
আলোচনায় থাকা এই ছয়জন ছাড়াও আরও অনেকে সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কেন্দ্রীয় নেতা ও নবনির্বাচিত এমপিদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। অনেকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে জীবনবৃত্তান্ত দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।
সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, এবার পুরোনোদের মধ্যে অনেকেই বাদ পড়বেন। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পাশাপাশি ১৪ দলের শরিকদের মধ্য থেকেও দুই-তিনজনকে সংরক্ষিত আসনে এমপি করার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত প্রধানমন্ত্রী সব বিষয় বিবেচনায় ও বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট দেখে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেবেন। সেখানে তেমন অন্য কারও হাত নেই বললেই চলে।
সংরক্ষিত আসনের এমপি মনোনয়ন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দলের প্রতি আনুগত্য দেখে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেবেন। আমরা চাইব যারা দীর্ঘদিন ধরে দলকে সময় দেন এবং দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে; তারাই মনোনয়ন পান। আশা করি কেন্দ্র্রও বিষয়টি সেইভাবে দেখবেন।’
মনোনয়ন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যা সিদ্ধান্ত দেবেন সেইভাবেই হবে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই শিরোধার্য। নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কল্যাণমূলক কাজ করেছি এবং আগামীতেও করব।’
কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা সম্পাদক সাজেদা সুরাত বলেন, ‘দলের মনোনয়ন চাইব। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সুযোগ দেন, দেশ-জাতির জন্য কাজ করতে চাই। আমি মনে করি, আমাকে সুযোগ দিলে আমি আমাদের এলাকায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও বেশি তৎপর থাকব। আমি একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দেশের নারী সমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দিলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে পারব।’
যুব মহিলা লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক সায়রা বানু রৌশনী বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করছি। বঙ্গবন্ধুকন্যার হাতে গড়া বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামে একটি উপযুক্ত জায়গায় আনতে পেরেছি; এটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগা। এখন স্বপ্ন জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের নারীদের জন্য, চট্টগ্রামের জন্য কিছু বলা ও করা। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে সুযোগ দেন, তবে তার সফল নেতৃত্বের অনুগামী হয়ে আরও বেশি কাজ করতে পারব।’
সুচিন্তা ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দিনবদলের নেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে চাই শিক্ষিত যোগ্য দক্ষ প্রার্থী। আমি শেখ হাসিনার দিনবদলের কাফেলার একজন নিবেদিত সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করছি। একজন নারী হয়েও জঙ্গিবাদ দমনে, মাদ্রাসায় জাতীয় সংগীত পড়ানো, জয় বাংলা স্লোগানের ফেরি করা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে না জড়ানোর শপথসহ মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার কাজ করে আসছি। প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের খবর রাখেন। ওনার প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস রেখে বলতে চাই, আমাকে এই দায়িত্ব দিলে আমি আমার মেধা-শ্রম দিয়ে দেশের জন্য কাজ করব।’