ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১২:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২২ ১৩:৩৯ পিএম
প্রশাসনের কর্মকর্তারা একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে সমালোচনার জন্ম দিচ্ছেন। নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানান অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। এ নিয়ে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও বিব্রত। এসব ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় মামলা হলেও আইনের মারপ্যাঁচে তেমন শাস্তি হচ্ছে না। অধিকাংশই বিশেষ অনুকম্পায় পার পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে এসব ঘটেই চলেছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলায় প্রভাবশালী মন্ত্রী বা এমপিদের অনুগত হওয়ায় তাদের বিচার হয় না। ফলে অভিযুক্তদের ফাইল রহস্যজনকভাবে চাপা পড়ে যায়।
গত কয়েক বছরে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তার বেশিরভাগই মামলা থেকে খালাস পেয়ে গেছেন। আবার কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে বহাল তবিয়তে। যেমন—মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনকে শাস্তি থেকে রেহাই দিয়েছে জনপ্রশাসন। আবার তাকে পদোন্নতি দিয়ে বদলি করা হয়েছে। এমন ঘটনা প্রশাসনের শত শত র্কমকর্তার ক্ষেত্রে ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ প্রশাসনে কয়েকজন ইউএনওর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে গোটা প্রশাসনের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে যা ঘটেছে তা একেবারেই কাম্য নয়। এসব ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। নইলে জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হবে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার কেউ কেউ বলছেন, মাঠ প্রশাসনে কাজ করতে হলে পরিপক্ব কর্মকর্তাকে ইউএনও নিয়োগ দিতে হবে। কারণ উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী প্রধানকে ক্ষমতার মেজাজ বুঝে কাজ করতে হবে। অল্প বয়সে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাহী প্রধান হলে ম্যানার সম্পর্কে তার ধারণা থাকা উচিত।
সম্প্রতি বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার সংগঠনের ফেসবুক পেজে কর্মকর্তাদের আচরণে উদ্বেগ জানান। এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াও এ ধরনের ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে বৈরী আচরণ করছে এবং সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা করছে। বর্তমান অনলাইনের যুগে ছবি বা ভিডিও করা সহজ হওয়ায় সেগুলোর অপব্যবহারের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অতিসাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যায় ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে আইন রাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য সমান। কাজেই সবাইকে নিজ কর্মস্থলে কথায়, কাজে এবং আচরণে দায়িত্বশীলতার পরিচয় প্রদানের জন্য আহ্বান করছি। তা ছাড়া প্রশাসন ক্যাডার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রথম কাতারের সৈনিক। অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম মূলত জটিল ও অপ্রীতিকর। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নির্বাচনি দায়িত্ব, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, ভেজালবিরোধী অভিযান, পাবলিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন, সরকারি সম্পত্তির অবৈধ দখলমুক্তকরণ, জটিল তদন্ত কার্যক্রম, চোরাচালান দমন ইত্যাদি কার্যক্রম পালন করতে হয়, যাতে কোনো না কোনোভাবে কায়েমি স্বার্থবাদী দুষ্টচক্রের সঙ্গে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের চাকরির ধরনই এরূপ। এসব ক্ষেত্রে মৌখিক কথা এবং আচরণের মাধ্যমে নয়, বরং কলমের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই উত্তম।’
তবে সাম্প্রতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মাঠ প্রশাসনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাদের আব্দার মেটাতে গিয়ে তারাও অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত থাকাকালে অনেক কর্মকর্তার পক্ষে রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এসব কারণে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়পরায়ণ এবং স্বচ্ছ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, দক্ষ ও কার্যকর জনপ্রশাসন গড়ে ওঠেনি বলে মনে করছেন তারা। স্বচ্ছ জনপ্রশাসন গড়তে হলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে।
সরকারের সাবেক সচিব, প্রশাসন ও রাজনীতি বিশ্লেষক আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং হবে। সেগুলোর মধ্যে নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, প্রেষণ, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতি, অতিক্রম, গ্রেড সলিউশন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি, ক্ষমতার অপব্যবহার, মর্যাদা নির্ধারণ, বিভাগীয় মামলা, ক্যাডার কর্মকর্তাদের মামলা বাড়লেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো বিচার হয় না এ কথা ঠিক না।
তিনি বলেন, শাস্তির ব্যবস্থা ও বিভাগীয় সংশোধনের বিষয়ে জোর দিতে হবে। যারা এমন আচরণ করবে, যেটা প্রশ্নবিদ্ধ, অবশ্যই তাদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনতে হবে। জনগণের জন্য যেমন অপরাধ করলে আইন আছে, কর্মকর্তাদের বেলায় এর ভিন্ন কিছু নয়। তবে যারা অপরাধ করার পর না শুধরাবেন, তারা শীর্ষ পর্যায়ে গেলে সেটা হবে জাতির জন্য অভিশাপ। কর্মকর্তাদের কোনোভাবেই ভাববার সুযোগ নেই যে, তিনি আইনের ঊর্ধ্বে।
সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আসবে, আসাটাই স্বাভাবিক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এগুলো কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। চাকরিবিধিতেও এসব বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা আছে। বিভিন্ন সময় অপরাধ করেও সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা ঠিক না।
সচিব বলেন, ‘চাকরিবিধি অনুসারে দোষী হলে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে তাদেরকে সংশোধনের ব্যবস্থা করতে হবে। সংশোধন না হলে বিভাগীয় যে সিদ্ধান্ত আছে সেভাবেই কঠোর হাতে তা দমন করতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, দিন শেষে সবারই জনগণের কথা ভেবে কাজ করতে হবে।’
মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শৃঙ্খলা ও দুর্নীতিজনিত ১৫ হাজার ৫৭টি প্রতিবেদন শৃঙ্খলা বিভাগে জমা হয়েছে। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোট অভিযোগ ৯৫৩টি। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভাগীয় মামলা হয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে ৪৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত ২০২১-২২ বছরে দায়েরকৃত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মামলা রিট ৪ হাজার ৮২০টি, এর মধ্যে জনপ্রশাসনের ৩৩টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন ও সংযুক্ত দপ্তর ও সংস্থার মামলা ৪১টি এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মামলা ২৯৯টি। এর আগের বছরগুলোর অনিষ্পন্ন মামলা রয়েছে ৫ হাজার ৮৩৯টি। এর মধ্যে লিভ টু আপিল মোট ১১৩টি। এর মধ্যে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে হয়েছে ১৩টি। ২০২১-২২ বছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২টি এবং এর আগে ছিল ৯৮টি। রিভিউ পিটিশন মামলা আগে ছিল ৬টি। গত দুবছরে হয়েছে ৬টি। কন্টেম্পট পিটিশন আগে ছিল ৩২৩টি, গত দুবছরে হয়েছে ৩৯টি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা আগে ছিল ১৮০টি। বর্তমানে তা বেড়ে ২০৬টি হয়েছে। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা আগে ছিল ১৯টি। বর্তমানে হয়েছে ৩১টি। লিভ টু আপিল মামলা আগে ছিল ১৯টি। বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ২৩টি।
সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ২৭ নম্বর বিধিতে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী সংকীর্ণতা, প্রিয়তোষণ, বেআইনিভাবে ক্ষতিগ্রস্তকরণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করিতে পারিবেন না।’ আর সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২(২)-এ উল্লেখ আছে, ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সরকারের কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি তো বটেই, সেই সঙ্গে সংবিধানেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
গত ১২ সেপ্টেম্বর বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে মামলা হয়। বরগুনার সহকারী জেলা জজ আদালতে মামলাটি করেন নজরুল ইসলাম সড়কের ব্যবসায়ী আবুল কালাম। মামলাটি আমলে নিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য শোকজসহ মূল নথি তলব করেছেন বিচারক। মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন—বরগুনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওছার হোসেন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিজাম উদ্দিন। বগুড়া জেলার এক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের বাগানে ‘ছাগলে ফুল খাওয়ার অপরাধে’ মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন আদমদীঘি উপজেলার ইউএনও সীমা শারমীন। তার এমন কাণ্ডে হতবাক হয়েছিল পুরো দেশ। অবলা প্রাণীর ফুল খাওয়ার দায়ে তার মালিককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলকেও লজ্জায় ফেলেছিলেন তিনি।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ইউএনও মোছাম্মৎ সাবিনা ইয়াছমিনকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় তিনি স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে ‘মা’ বলে ডাকতে বলেন। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের ইউএনও রুনা লায়লাকে ‘স্যার’ না বলে ‘আপা’ বলায় পুলিশ দিয়ে ব্যবসায়ীকে পেটানোর খবরও চাউর হয়েছিল।
সম্প্রতি মাঠ প্রশাসনের চার কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নতুন করে সেই আলোচনায় যেন ঘি ঢেলেছে। তাদের একজন বান্দরবানের আলীকদমের ইউএনও মেহরুবা ইসলাম। তিনি ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের ট্রফি বিতরণ না করে সবার সামনে ট্রফি আছড়ে ভেঙ্গেছেন। এমন কাণ্ডের পর ওই কর্মকর্তাকে তিরষ্কার না করে উল্টো তাকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। বগুড়া সদরের ইউএনও সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এলজিইডির চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছেন। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ইউএনওর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত দত্ত নিজ অফিসের দুই কর্মচারীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া নিজের স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য মারধর করা, একাধিক বিয়ে, পরনারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক থাকার জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সারোয়ার সালামের বিরুদ্ধে মামলা করেন স্ত্রী। সেই মামলা মহানগর হাকিম আদালতে চলমান থাকলেও ওই কর্মকর্তা নরসিংদীতে এখনও কর্মরত আছেন। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে, যার বেশিরভাগই অমীমাংসিত বা সঠিক বিচার হয়নি।
সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসূফ হারুন বলেন, অন্যায় করলে অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। নিজের অপরাধ গোটা প্রশাসন বহন করতে পারে না। দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজ করে ধরা পড়লে তার দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। তবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য তিনি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ করেন।
স্থানীয় সরকার ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোক কিংবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হোক, এসব বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের তরফ থেকে অভিযোগ হওয়া উচিত। জেলা প্রশাসন সেগুলো দেখবে। সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চাকরির বিধিবিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের সব বিষয় জেনারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে কোনো কিছুই আর কাজ করছে না। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রচুর নিউজ হচ্ছে, হওয়া উচিত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহল ব্যবস্থা না নিলে বা শাস্তি না দিলে কর্মকর্তারা এসব করতে থাকবেন।’
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা মানুষের বিচার করে থাকে, তাদের বিচার হয় না—এটা দুঃখজনক। কর্মকর্তারা জনগণের সেবার জন্য নিয়োজিত, কিন্তু তারা সেই বিষয়টি ভুলে যান। জনগণের কাছে জবাবদিহি করার কোনো প্রয়োজনীয়তাও মনে করেন না, যে কারণে তারা প্রায়ই বিতর্কে জড়ান। এ ছাড়া এসব কাজের জন্য তাদের সেই অর্থে কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। ফলে জবাবদিহির বাইরে চলে গেলে যা হয়, আমাদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাই হয়েছে।
প্রবা/এনএস/টিই