পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ
এম আর মাসফি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৩ ০৯:৪৪ এএম
প্রতীকী ছবি
যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।
সম্প্রতি সেতু বিভাগ সড়কটির দুই পাশের বৈধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে ৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে পরামর্শক নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে একে অযৌক্তিক ও আইনবহির্ভূত মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। তারা বলছে, এই কাজ জেলা প্রশাসনের।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে পরিকল্পনা কমিশনের সম্মতি চায় সেতু বিভাগ।
সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটির সংশোধিত ডিপিপিতে এ প্রস্তাবের ওপর পর্যালোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। সভায় ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি দখল নেওয়া, স্থাপনা অপসারণ ইত্যাদি কার্যক্রম প্রচলিত বিধিবিধানের আওতায় বাস্তবায়ন করা যৌক্তিক হবে মর্মে মত দেওয়া হয়।
সভায় সেতু বিভাগের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর পর্যন্ত সড়কে সীমাহীন যানজট সবসময় লেগে থাকে। সড়কটি সরু হওয়ায় এই যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। আলোচ্য প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সড়কের উভয় পাশের বৈধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে স্থাপনা দ্রুত অপসারণের জন্য এ প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম প্রধান (পরিবহন সমন্বয়) আবু মো. মহিউদ্দিন কাদেরী বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও জনস্বার্থে কাউকে উচ্ছেদ বা স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হলে তা করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের। জেলা প্রশাসন নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হলে তা নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে থাকে।’
আলোচনায় বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে এ ধরনের কাজ করানোর সুযোগ নেই। পরামর্শক নিয়োগ করলে আইনের ব্যত্যয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন পিপিআর-২০০৮ এবং আইবাস প্লাস সিস্টেম অনুযায়ী করার কোনো সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপনা অপসারণে বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া অযৌক্তিক।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাবের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এমদাদ উল্লাহ মিয়ান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, অধিগ্রহণকৃত জমি দখলে নেওয়া এবং স্থাপনা অপসারণ ইত্যাদি বিষয়ে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইনের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। শুধু অধিগ্রহণকৃত জমি দখলে নেওয়া এবং স্থাপনা অপসারণ ইত্যাদি কাজের জন্য কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে একটি ভিন্নরূপ নজির সৃষ্টি হবে, যা সমীচীন হবে না।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়কটি ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ‘৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’টি ২০০৮ সালে উদ্বোধনের পর থেকে সেতুর সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কটি খুব সংকীর্ণ (গড় প্রশস্ততা ৫.৫ মিটার), আঁকাবাঁকা ও রাস্তার উভয় পাশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি, দোকানপাট থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে ৫টি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এবং আলু সংরক্ষণের জন্য বেশ কয়েকটি কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। ফলে ওই সড়কে ২৪ টন থেকে প্রায় ৫০ টন পর্যন্ত ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকল্প এলাকায় বিসিক শিল্পাঞ্চল এবং রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থাকায় প্রতিদিন লক্ষাধিক শ্রমিক রাস্তাটি ব্যবহার করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই সড়কে পণ্য পরিবহন এবং জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থায় উন্নতি হবে এবং দুর্ভোগ লাঘব হবে।