সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৩ ০৯:১০ এএম
নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস চলে গেলেও শেষ হয়নি কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া-ঢাকা সড়কের নরসুন্দা নদীর ওপর কাওনা সেতুর নির্মাণকা। প্রবা ফটো
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া-ঢাকা সড়কে নরসুন্দা নদীর ওপর কাওনা সেতুর নির্মাণকাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের মে মাসের ৩০ তারিখে। এখনও বাকি একটি গার্ডার নির্মাণ ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। এরই মধ্যে গড়িয়েছে ৯ মাসেরও বেশি সময়।
নির্মাণাধীন সেতুর পাশে মাটির একটি সরু রাস্তা নির্মাণ করা হলেও এ সড়কে প্রায়ই ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। সেতুর কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় প্রতিদিন কয়েকশ ছোট-বড় বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া-ঢাকা ব্যস্ততম আঞ্চলিক এ সড়কে। এ অবস্থায় সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নরসুন্দা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাওনা সেতুর তিনটি গার্ডার বসানো হয়েছে। সেতুর অর্ধেক নির্মাণকাজ এখনও শেষ না হলেও সেতুর আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। জং ধরেছে কংক্রিটের ভেতর থেকে মাথা উঁচু করে বের হয়ে থাকা রডগুলোতে। ইস্পাতের নির্মাণ সামাগ্রীগুলোতেও জং ধরতে শুরু করেছে। নরসুন্দায় এখন পানি না থাকায় নদীর বুকে স্থানীয় কৃষকরা ফসলের আবাদ করেছেন। সেতুর পাশের নিচু জমিতে করা হয়েছে বিকল্প মাটির রাস্তা। নদীতে পানি বাড়লেই তলিয়ে যায় এ রাস্তা।
এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, সেতুর কাজ ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে শেষ না করায় হাজারো পথচারীকে দীর্ঘদিন ধরেই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
নূর হোসেন, আকবরসহ একাধিক ইজিবাইক চালক জানান, সেতুর নির্মাণ কাজে গড়িমসি করায় তাদের মতো নিম্ন-আয়ের মানুষের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। সেতুর নিচের কাঁচা রাস্তায় একপাশে চালু থাকলে আরেকপাশে বন্ধ রাখতে হয়। ছোট বাহনগুলোর প্রায়ই বিভিন্ন যান্ত্রাংশ ভেঙে যাওয়ায় বাড়তি টাকা যোগ হয় খরচের খাতায়।
নান্দাইল-বাকচান্দা থেকে ঢাকাগামী কয়েকটি বাসের একাধিক চালক ও হেলপার জানান, আশপাশে বিকল্প সড়ক না থাকায় বাধ্য হয়েই এ সড়ক দিয়ে যেতে হয়। এ পথ এড়াতে গেলে অন্তত ২৫ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ অনেক বেড়ে যায়।
স্থানীয় একাধিক গ্রামবাসী জানান, এ সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি একটি ইজিবাইক উল্টে এক নারী নিহত ও তিন-চারজন যাত্রী আহত হয়েছেন। একটি মালবাহী ট্রাক উল্টেও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এলজিইডির হোসেনপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে এলজিইডির অর্থায়নে ৪০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের পর ২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এইচটিবিএলের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিন পরই ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজ না করায় পরে কিশোরগঞ্জের এস আলম গ্রুপ চুক্তিবদ্ধ হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস আলমের মালিক এস আলম জানান, বরাদ্দের টাকা নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না বলেই সেতুর কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
হোসেনপুর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী গালিব মোর্শেদ জানান, অতি শিগগিরই ৪ নম্বর গার্ডারের কাজ শেষ করা হবে এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই শতভাগ কাজ সম্পন্ন করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে।
কিশোরগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহ আগামী দুই মাসের মধ্যে সেতুর সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।