রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রামে বন্যায় ডুবে যাওয়া জমি থেকে অপরিপক্ক চীনাবাদাম শুকাচ্ছে তিস্তাপাড়ের মানুষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুন মাসের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয় নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও চরে আবাদ করা চীনাবাদাম, পাট, মরিচ, পটল, বেগুন, ঢেঁড়স, আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসলের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।
মাঠজুড়ে এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের তথ্যমতে, চলতি বন্যায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৪৯৯ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমনের বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চীনা ৩ হেক্টর, মরিচ ২ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর রয়েছে। তবে প্রায় ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমির ফসল এখনও নিরাপদ রয়েছে। জেলার ১৬টি নদ-নদীর চার শতাধিক চরের এসব ফসলহানির প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে, বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি খুবই কম। বন্যার আগে বা পানি বৃদ্ধির সময় ফসল রক্ষায় কোনো কার্যকর পরামর্শ বা আগাম সতর্কবার্তা পাননি তারা। সময়মতো দিকনির্দেশনা পেলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো বলে দাবি তাদের।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার পটল চাষি আব্দুল আউয়াল বলেন, “হঠাৎ করেই পটল ক্ষেতে পানি ওঠে যায়। দুই-তিনদিন পর পানি নেমে গেলেও গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এবার খরচ তোলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।”
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের কৃষক আলী হোসেন বলেন, “প্রতি বছর তিস্তার চরে বাদাম আবাদ করি। কিন্তু এবারের মতো এমন ক্ষতির মুখে কখনও পড়িনি। যেগুলো পানিতে ভেসেছিল সেগুলো শ্রমিক দিয়ে তুলেছি। কিন্তু তিন-চারদিন পানির নিচে থাকা বাদাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর উত্তোলনই করতে পারিনি।”
কৃষি বিভাগ জানায়, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর অববাহিকায় বাদাম, পাট, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই চলছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পানি নেমে যাওয়ার পর জমি পুনর্বাসন, বিকল্প ফসল আবাদ ও পরবর্তী মৌসুমের প্রস্তুতি বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”