আকাশ শীল, কর্ণফুলী
প্রকাশ : ১২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১২ ঘণ্টা আগে
ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে একটি সফল গবাদিপশুর খামারে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাবার দেওয়া মাত্র একটি গরু দিয়েই যাত্রা শুরু। সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে একটি সফল ডেইরি ও গবাদিপশুর খামারে। অদম্য পরিশ্রম, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই ভাই জাকারিয়া ও লিয়াকত আলী করিম।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড় উঠান ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কবির চৌধুরীর বাড়ি প্রকাশ বড় বাড়ির বাসিন্দা এই দুই ভাই পরিচালনা করছেন 'রিজিয়া ডেইরি ফার্ম-১' ও 'রিজিয়া ডেইরি ফার্ম-২' নামে দুটি খামার। ২০০৬ সালে তাদের বাবা একটি গরু উপহার দেন। সেই গরুকেই পুঁজি করে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তারা।
জানা যায়, ২০০৮ সালে তারা ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১২টি গরু ক্রয় করেন। তখন তাদের খামারে মোট গরুর সংখ্যা দাঁড়ায় ২০টি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে। ২০১৪-১৫ সালের দিকে গরুর সংখ্যা প্রায় ৭০টিতে উন্নীত হয়।
তবে পথচলা সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে খামারে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০টি গরু মারা যায়। পরবর্তীতে আরও ১৩টি গরু হারিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। কিন্তু হতাশ না হয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।
২০২০ সালে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পুনরায় খামার সম্প্রসারণ শুরু করেন দুই ভাই। তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলও আসে দ্রুত। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪টি ষাঁড় গরু বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় করেন। ২০২৪-২৫ সালে ৪৫টি গরু বিক্রি করেন। ২০২৫-২৬ সালে ৫৫টি গরু বিক্রি করে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা আয় করেন তারা।
খামারি জাকারিয়া ও লিয়াকত আলী করিম বলেন, “শুরুতে অনেক কষ্ট ছিল। রোগে গরু মারা যাওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু হাল ছাড়িনি। পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এখন খামারটি আমাদের পরিবারের পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানেরও উৎস হয়ে উঠেছে।”