এনায়েতুর রহমান, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
বাঁধ কেটে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করছে বন বিভাগের সদস্যরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জলজ প্রাণী, মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বন বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চলের বিভিন্ন খালে বনদস্যু দুষ্কৃতকারীদের নির্মিত এসব অবৈধ বাঁধ খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুন ও ১৭ জুন উপজেলার বন বিভাগের চরহাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের সদস্যরা লালচর, কাউয়ার চর ও মাঝের চর এলাকার বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় একাধিক অবৈধ বাঁধের কারণে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেখতে পান। এতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ প্রাণী, মৎস্য সম্পদ এবং বনাঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বন বিভাগের সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে সব অবৈধ বাঁধ কেটে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগের চর হাদী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, এসব বাঁধ প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর আগে একটি কুচক্রীমহল স্থানীয়ভাবে মাছ আহরণের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে নির্মাণ করেছিল। শীত মৌসুম শেষে মাছ ধরার পর বাঁধগুলো অপসারণ করে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার বর্ষা মৌসুমেই অন্য একটি মহল একই স্থানে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করে, যা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগ ও ক্লাইমেট-স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. আলমগীর কবির বলেন, উপকূলীয় বনাঞ্চলের খালগুলো জোয়ার-ভাটার পানির স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এসব খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বন বিভাগ দশমিনার রেঞ্জ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অবৈধ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যক্রম চলছে।