× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তুলা উৎপাদনে পিছিয়ে দেশ

ফারুক আহমাদ আরিফ

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

তুলা। ছবি: সংগৃহীত

তুলা। ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে তুলা উৎপাদনে।

দেশে বছরে প্রায় ৮৫ লাখ বেল তুলার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে ৮৩ লাখ বেলই আমদানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে তুলার উৎপাদন অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়াতে হবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ৪৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে ৩৮ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিল। দেশে বছরে ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলার দরকার হয়। দেশে বর্তমানে চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ তুলা স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন হয়, বাকি ৯৭ শতাংশই আমদানি করতে হয়। উন্নত প্রযুক্তি বিতরণ ও অর্থায়নের মাধ্যমে চরাঞ্চলে তুলা চাষ করতে পারলে চাহিদা পূরণ করে রপ্তানি করা যাবে। বিশ্বে তুলা উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া এবং তুরস্ক। বাংলাদেশের অবস্থান সেখানে অষ্টম।

চাহিদা ৮৫ লাখ বেল

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক মো. কুতুব উদ্দীন বলেন, “দেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭ হাজার ৬০০ হেক্টরে চাষ করে ২ লাখ ২৫ হাজার বেল তুলা উৎপাদন হয়েছে। একই অর্থবছরে ১৬ কোটি ৮৮ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল ২১ হাজার ১০০ জন চাষিকে। প্রণোদনায় প্রত্যেক কৃষককে বীজ, সার, কীটনাশক বাবদ প্রতি হেক্টরে ৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২৫ হাজার কৃষকের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা রাখা হয়েছে।”

উপপরিচালক কুতুব উদ্দীন বলেন, “দেশে আঁশ তুলার চাহিদা রয়েছে ৮৫ লাখ বেল। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ পোশাক তৈরিতে তুলার চাহিদা ১৬ লাখ বেল। বর্তমানে দেশে গড়ে ২ লাখ ২৫ হাজার বেল তুলা উৎপাদিত হয়। ২০০১-২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে আফ্রিকায় ভাড়াভিত্তিক জমিতে কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কারণ সেটি করতে পারলে ৩০ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব। প্রসঙ্গত, আঁশ ও সুতা বাবদ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলা আমদানি করতে হয়।”

কুতুব উদ্দিন বলেন, “দেশের ৫৭টি জেলায় তুলা চাষ হচ্ছে। আগে পাহাড়ে উৎপাদিত তুলা জাপানে রপ্তানি হতো। এখন সেখানে চাষাবাদ কমে গেছে। বর্তমানে ৬০ শতাংশ নারী তুলা চাষে যুক্ত। তুলাবীজ জুলাই মাসে বপন করা হয়। সেটি উৎপাদিত হয় ডিসেম্বরে।”

তিনি বলেন, “দেশে শিমুল হাইব্রিড ও মসলিন তুলা উৎপাদিত হয়। তা ছাড়া তুলা চাষে কার্বন ক্রেডিট বিক্রির পথ খুলছে। এতে প্রতি হেক্টর জমির জন্য কৃষককে ২০০ ডলার দেওয়া হবে।”

কী বলছেন কৃষকরা

দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় তুলা চাষ করে আসছেন টাঙ্গাইলের মো. আলিয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “আষাঢ় (জুলাই) মাসে তুলাবীজ বপন করতে পারলে ফলন ভালো হয়। আমি গত বছর ৩ বিঘায় তুলা চাষ করে ৪৫ মণ তুলা পেয়েছি। প্রতি বিঘায় ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার টাকা। তিন বিঘায় ৪৫ মণ তুলা উৎপাদন হয়েছে। তাতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা টাকা বিক্রি করেছি।”

ময়মনসিংহের তুলাচাষি মতিউল ইসলাম জানান, তিনি গত বছর তিন বিঘা জমিতে ৬৮ হাজার টাকা ব্যয় করে তুলা চাষ করে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তা ছাড়া সাথী ফসল হিসেবে পাটশাক, মুলাশাক ও হলুদের আবাদ করেছিলেন। এসব ফসলও ভালো দামে বিক্রি করেছেন।

আবাদ বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তুলা আমদানিকারক দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ মো. হাসান জাফির তুহিন বলেন, “এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। আমাদের পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তানে তুলা চাষ হচ্ছে। আমাদের আবহাওয়াও তুলা চাষের উপযোগী। আমাদের ৩০ শতাংশ তুলা উৎপাদন করার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।”

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “তুলা চাষে আমাদের সম্ভাবনা বিপুল। এজন্য একটি নীতিমালা তৈরি করা দরকার। আমরা চরাঞ্চলে তুলার আবাদ বাড়াতে পারি। এতে করে জমির উর্বরতাও বাড়বে। তুলা এমন ফসল যাতে কোনো লোকসান নেই।”

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, “জিডিপিতে পোশাক রপ্তানি খাতের অবদান ৩০ শতাংশ। বর্তমানে দেশে ২-৩ শতাংশ তুলা উৎপাদিত হয় এবং ৯৭ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তুলার আবাদ বাড়াতে পারলে আমদানির পরিমাণ কমবে।”

দেশের সমুদ্র উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে তুলা চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. জহির উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচুর জমি লবণাক্ততার কারণে পতিত থাকে। এসব জমিতে তুলা চাষের সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষণা করা দরকার।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা