× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাবনা

দীপক দেব

প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন ও হালনাগাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলোদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন ও হালনাগাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলোদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন ও হালনাগাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি জুনের মধ্যে এসব সংশোধনের পর জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।

উদ্দেশ্যÑ সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা। ওই সময়ে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব বুঝেই ইসির পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক দল দাবি জানাতে থাকে। বিভিন্ন মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে অনেক দল তাদের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে। নির্বাচন সামনে রেখে মাঠের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের। ঈদের সময় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীকে বড় বড় ব্যানার, পোস্টার ও বিলবোর্ড করে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাকাবাসীর দোয়া চাইতেও দেখা গেছে। এদিকে থেমে নেই ইসির কার্যক্রমও। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি এক দফা বৈঠকও করেছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে মতামত নেওয়ার লক্ষ্যে সেটি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। এরপর ইসির অনুমোদন নিয়ে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর গেজেট করা হবে। জুন মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। 

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, পার্বত্য ছাড়া ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বেশিরভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জনপ্রতিনিধিশূন্য। ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন করা হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এরপর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন ১০ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, “চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।”

তিনি জানান, “বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হবে, যেগুলোর জন্য বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন।”

সরকারের এমন চিন্তা প্রকাশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সেই অনুযায়ী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির পর গত ১ জুন প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ পুনর্মিলনী করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব। সেখানে কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “জুন-জুলাই মাসের মধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। আগামী আগস্ট মাস থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করব। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যাতে ভোটগ্রহণ করা যায়, সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।”

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমরা ঈদের ছুটির পর সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ে বসছি। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য আলাপ-আলোচনা করেছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কিছু আইন পরিবর্তন হয়েছে। এসব আইন পরিবর্তনের কারণে আমাদের আচরণ বিধিমালা এবং নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাÑ এগুলোও কোথাও কোথাও সংশোধন করতে হচ্ছে।

“সেই সংশোধনী কী কী হবে, কীভাবে হবেÑ এগুলো নিয়ে আমরা দুই-তিন দিন ধরে সভা করেছি। আগামী সপ্তাহে এটার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্টেকহোল্ডারদের মতামত চাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে আপলোড করবে। মতামত প্রাপ্তির পর আমরা কমিশনে প্লেস করব। কমিশন অনুমোদন দিলে আমরা সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠাব। তারপরে ভেটিং হয়ে এলে গেজেট প্রকাশ করা হবে।”

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা যা বলছেন, তা থেকে মনে হচ্ছে নির্বাচন অক্টোবরের দিকেই হবে। সে ক্ষেত্রে আগস্টের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে।’”

সে ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে কি না, জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “অবশ্যই রয়েছে। যে কর্ম পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে সেটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভেতর দিয়েই নেওয়া হচ্ছে। এখানে আমরা সরকারের কথাও শুনছি, সরকারও আমাদের কথা শুনছে, দেখছে। যৌক্তিকভাবেই সবকিছু এগোচ্ছে।”

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। যখনই আমাদের বলা হবে এই সময় নির্বাচন করতে হবে, আমরা সেই অনুযায়ী শিডিউল করব। একটা নির্বাচন করতে কী লাগে? নির্বাচন করতে লাগে ভোটার তালিকা, লাগে ইকুইপমেন্ট, নির্বাচন করতে লাগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীÑ এগুলোর সবই আছে। যথাসময়েই নির্বাচন হবে।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা