× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংবিধান সংশোধন ইস্যু, তপ্ত হবে অধিবেশন

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

সরকারি দল বিএনপি এখনও আশাবাদী যে, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত এই কমিটিতে দলীয় প্রতিনিধিদের নাম যুক্ত করবে।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকারি দল বিএনপি এখনও আশাবাদী যে, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত এই কমিটিতে দলীয় প্রতিনিধিদের নাম যুক্ত করবে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনে সরকারি দলের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে জাতীয় সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশন।

সরকারি দল চাইছে, আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করে ফেলতে।

তবে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নিজেদের সদস্যদের নাম না দিতে এখনও অনড় অবস্থানে রয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট। সরকারি দল বিএনপি এখনও আশাবাদী যে, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত এই কমিটিতে দলীয় প্রতিনিধিদের নাম যুক্ত করবে। 

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সাংবিধানিক সংস্কারে ৩৫টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী ইশতেহারে। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কারে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেখানে বিএনপির সাত জন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে থেকে পাঁচ জন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। বিরোধী দল থেকে আর পাঁচ জনের নাম দিলেই মোট ১৭ সদস্যের কমিটি হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ জানালেনও এখনও বিরোধী দল এ আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এরই মধ্যে আরও একটি সংসদ অধিবেশনের সময় হয়ে এসেছে। 

বিএনপির ৩৫ প্রস্তাব

বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে বিদ্যমান সংবিধানে ৩৫টি সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছেÑ ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা, নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার বিধান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সংসদে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, দুইজন ডেপুটি স্পিকার পদ সৃষ্টি, উচ্চকক্ষে ১০ শতাংশ নারী রাখা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, দলনিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুইজন বিচারপতির মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেওয়া ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা সম্ভব না হওয়ায় এ সম্পর্কিত কাজ অনেকটাই পিছিয়ে গেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, বিরোধী দলের ক্রমাগত অসহযোগিতার কারণে প্রথম অধিবেশনে কমিটি গঠন করা যায়নি। আগামী রবিবার ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করতে হবে। ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হলেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে ১১ জুন। তার আগেই বিশেষ কমিটি গঠনের ব্যাপারে সরকারি দল বদ্ধপরিকর। 

সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিরোধী দলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। আমরা চেষ্টা করব তাদের নিয়েই কমিটি করতে এবং জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন করতে। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করলে আমরা বসে থাকতে পারব না। কারণ জাতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনে আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংসদের চিফ হুইপ (নূরুল ইসলাম মনি) আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে এখন মত দিতে পারব না। কারণ আমরা চেয়েছি রিফর্ম (সংস্কার), কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের মতপার্থক্য ছিল, এখনও এটা রয়েছে। প্রস্তাব ওনারা (সরকারি দল) দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। কিন্তু পরে জানাব। এখনই কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’

সরকারি দলের দেওয়া প্রস্তাবের পর আরেকটি অধিবেশন চলে এলেও এ নিয়ে জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও নতুন করে তাগিদ দেওয়া হয়নি। বিরোধী দল নাম না দিলেও সরকারি দল খুব একটা সময় অপেক্ষা করবে না। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনেই বিশেষ কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করবে। 

এভাবে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের নজির জাতীয় সংসদে আগে থেকেই রয়েছে। নবম জাতীয় সংসদে ২০১০ সালে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে সময়ে গঠিত বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তত্কালীন বিরোধী দল বিএনপি। ১৫ সদস্যের কমিটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে তিন জন সদস্যের নাম দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। বিএনপি তাতে সাড়া না দিলে তত্কালীন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তিনি ছিলেন চেয়ারপারসন এবং প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান। ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি (জাপা), ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের এক জন করে এমপি ছিলেন। বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়াই ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তসহ আরো কিছু সংশোধনী আনা হয়েছিল।

সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠনের যে প্রস্তাব করেছে, তাতে অংশ নেবে না জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। তারা গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাবে। আর এ ইস্যু নিয়ে আসন্ন সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে অধিবেশন।

এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এই কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে, তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।”

অতীতের এই উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “নবম সংসদের মতো এবারও তাই হবে। জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবেÑ কমিটি নয়।”

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনও একই অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, “গণভোটে অনুমোদিত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্পষ্ট করে বলা আছে, কীভাবে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। কিন্তু সরকারি দল জনগণের অনুমোদিত আদেশকেই অবৈধ বলছে। এনসিপি গণভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয় এমন কিছু মানবে না। তাতে অংশও নেবে না।”

এখনও আশাবাদী চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এখনও আশাবাদী যে, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল নাম দেবে।

তিনি বলেন, “তারা আসবে নাÑ বিষয়টি এমন নেগেটিভভাবে নিচ্ছেন কেন? সংবিধান সংস্কার বা সংশোধন যেটাই বলুন না কেন কাজ তো একই। সারা পৃথিবীতে সংবিধান সংশোধন হয়ে আসছে। আমাদের সংবিধানও ১৫/১৬ বার সংশোধিত হয়েছে। বিরোধী দলকে আমরা সময় দিয়েছি বিষয়টি অনুধাবন করতে। আমি আশাবাদী তারা বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে।”

তিনি বলেন, “এবারের সংবিধান সংশোধনে জুলাই জাতীয় সনদ প্রাধান্য পাবে। বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ইস্যু ছাড়া অন্য সবগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি।’”

তাই ‘সংশোধন না সংস্কার’ এই ইস্যুতে জামায়াত ও এনসিপি সংবিধান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে দূরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা