বিএনপির লোগো। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ৯ বছর পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ডিসেম্বরে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। কাউন্সিল সামনে রেখে সারা দেশের জেলা ও ইউনিট কমিটি পুনর্গঠনের কাজও শুরু হয়েছে। ঈদুল আজহার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপি নেতারা বলছেন, এবারের কাউন্সিলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে আরও কার্যকরভাবে গড়ে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান, যারা রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় রাজপথে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। দলীয় সূত্র জানায়, কাউন্সিলের আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে এসব কমিটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই চলছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, হামলা-মামলা ও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কারণে দলীয় সর্বোচ্চ এ আয়োজন অনেকটাই সীমিত ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবার উৎসবমুখর পরিবেশে বড় পরিসরে কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। ওই কাউন্সিল উদ্বোধন করেছিলেন দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হামলা-মামলার কারণে দীর্ঘকাল তা সম্ভব হয়নি। এর আগে ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিল হয়েছিল। আগামী কাউন্সিল হবে সরকারে থেকে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলের চতুর্থ কাউন্সিল করেছিল ১৯৯৩ সালে। ২০১১ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সর্বশেষ কাউন্সিলের পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে ভারমুক্ত হন তিনি।
খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা অনুযায়ী প্রায় আট বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তারেক রহমান। পরে গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বেই এবার প্রথম জাতীয় কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। দলের মহাসচিবের পদ নিয়েও আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগামী কাউন্সিলের পর দায়িত্ব ছাড়তে চান। এ কারণে নতুন মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারম্যান।
ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছে দলীয় হাইকমান্ড। একই সঙ্গে সারা দেশের সাংগঠনিক জেলা ও ইউনিট কমিটিগুলোর পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর এ কার্যক্রমে আরও গতি পাবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সও জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে দলের সপ্তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, কাউন্সিলের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে এবং খুব দ্রুত দলকে কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দলের রেগুলার কাজকর্ম চালু রাখার জন্য চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠক ডেকেছিলেন।
তিনি আরও বলেছেন, দল সরকার গঠনের পর যে কর্মসূচি নিয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে তিনি দলের মতামত অর্থাৎ স্থায়ী কমিটির মতামত নিয়েছেন। সেই সঙ্গে অনেক সদস্য তাদের কিছু কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।