দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঝরে পড়া চুলের গুচ্ছ থেকে চুল আলাদা করা, ঝাড়া ও পরিষ্কারের কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নর নলডাঙ্গা গ্রামের ১৬ জন নারী শ্রমিক প্রতিদিন মেয়েদের ঝরে পড়া চুলের গুচ্ছ থেকে চুল আলাদা করা, ঝাড়া ও পরিষ্কারের কাজ করছেন।
তারা দৈনিক মাত্র ৭০ টাকা মজুরিতে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করেন। এতে একজন শ্রমিকের মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ১০০ টাকা। দলনেত্রী পান কিছুটা বেশি, দৈনিক ৮০ টাকা হিসেবে তার মাসিক আয় প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা।
সরেজমিনে সোমবার দেখা যায়, গ্রামের এক খোলা জায়গায় নারী শ্রমিকরা দল বেঁধে কাজ করছেন। প্রথমে চুলের গুচ্ছ থেকে চুল আলাদা করা হয়। এরপর ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা হয়। পরে আবার শুকিয়ে কাটিং মেশিনে ছোট ছোট গোছায় ভাগ করা হয়। এই গোছাগুলোকে স্থানীয়ভাবে ‘লাচি’ বলা হয়।
চুল বাছাই কাজে যুক্ত রাজিয়া বেগম জানান, তিনি এক মাস ধরে এ কাজ করছেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কাজ করতে হয়, তবে মজুরি খুবই কম হওয়ায় কষ্ট হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক মনিকা বেগম বলেন, আগে কোনো কাজ না থাকায় বাড়িতে অলস সময় কাটত। এখন কাজ থাকায় কিছু আয় হচ্ছে, যা সংসারের কাজে লাগে।
দলনেত্রী জহুরা বেগম জানান, শুধু নলডাঙ্গা নয়, আশপাশের গোয়ালপাড়া, খয়েরবাড়ী ডাঙ্গা ও শিবপুরসহ বিভিন্ন গ্রামেও নারীরা এ কাজে যুক্ত আছেন। তারা বলেন, সংসারের চাপ থাকায় কম মজুরিতেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জানা যায়, চুলের গুণগত মান ও দৈর্ঘ্যের ওপর এর বাজারমূল্য নির্ভর করে। সাধারণত ৬ ইঞ্চি চুল কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হলেও ২২ থেকে ৩২ ইঞ্চি লম্বা চুল সর্বোচ্চ গ্রেড হিসেবে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাজের পর প্রক্রিয়াজাত চুল স্থানীয় কারখানায় পাঠানো হয়। পরে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হয় চীনসহ বিভিন্ন দেশে।
স্থানীয় ম্যানেজার আরজন আলী জানান, ফুলবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১২টি কেন্দ্রে এই কাজ চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৮ থেকে ১৬ জন নারী কাজ করছেন। মোটামুটি চার হাজারের বেশি নারী এ খাতে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।