× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

হাওরে ১১০০ কোটি টাকার ফসলহানি

ফারুক আহমাদ আরিফ, ইসমাইল মাহমুদ ও সাইফুল হক মোল্লা দুলু

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১০:১০ এএম

পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর তথা কিশোরগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৫২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১০০ কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য থেকে জানা যায়, এ বছর বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছিল। সেখানে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ৫২ হাজার ৫৭৫ হেক্টর বা ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন। তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১০০ কোটি ২৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯০ জন।

জেলাভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে ১৪ হাজার ৭৩৯ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। তারপরে রয়েছে কিশোরগঞ্জে ১৩ হাজার ৭৬৬ হেক্টর, নেত্রকোণায় ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টর, হবিগঞ্জে ৯ হাজার ৬৮৫ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ২ হাজার ৭৬১ হেক্টর। সিলেটে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৫৯০ হেক্টর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০৭ হেক্টর। আকস্মিক দুর্যোগে বোরো ধান পুরোপুরি ঘরে তুলতে পারেননি হাওরের অধিকাংশ কৃষক। কৃষকদের পরিবারে চলছে হাহাকার।

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কেওলার হাওরের কৃষক মো. আনোয়ার খান বলেন, ‘এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। পাকা ধানের দোলায় মনটা ভরে উঠেছিল। কিন্তু ধান কাটার সময় হাওরের সব ধান বানের পানিতে ডুবে গেছে। ঋণ করে ধান চাষ করেছিলাম। সেই ঋণ শোধ করতে পারছি না।’

কুলাউড়া উপজেলার হাকালুকি হাওরের কৃষক আলী মিয়া বলেন, ‘বোরো ধানই আমাদের একমাত্র অবলম্বন কিন্তু এবার কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি কিছু অনুদান পেলে উপকৃত হব।’

রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরের প্রান্তিক কৃষক জুনাব আলী বলেন, ‘আমার ৫ কেয়ার জমির মধ্যে ২ কেয়ার জমির ধান কাটতে পেরেছিলাম। বাকি ৩ কেয়ার জমির ধান পুরোই পচে নষ্ট হয়েছে।’ 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা। অনেকেই এনজিও, সমিতি কিংবা স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফসলহানির কারণে তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

কাস্তুল গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বলেন, সারা বছর এই একটা ফসলের আশায় এবার টানা বৃষ্টি আর ঢলের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা বলেন, কৃষি বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ৪৩ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের তালিকা পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৪৭৩ জনের প্রণোদনা অনুমোদন হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলোকে সরকার তিন মাস খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ত্রাণকার্য চালাতে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৪৯ জন কৃষকের মাঝে মাসে ১৫ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হবে। এতে চালের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭৩৩২ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন। সেখানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৮৮৮ দশমিক ৫ টন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেওয়া হবে ২৪৪৪ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল। আর নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। তাতে প্রয়োজন পড়বে ১৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

হাওরে ফসলহানি জাতীয়ভাবে খাদ্য সংকট দেখা দেবে কি নাÑ এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন চালের ক্ষতির কারণে জাতীয়ভাবে খাদ্য সংকট তৈরির সুযোগ নেই। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী বোরো মৌসুমের জন্য হাওরাঞ্চলে ব্রি-১১৮ ধান চাষ করলে ভালো হয়। এর ফলন ভালো ও আগাম ঘরে তুলতে পারবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা