হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৬ ১১:৫২ এএম
এক সময় যে খাতকে দেশের অন্যতম রপ্তানি সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হতো, এখন সেই চামড়া খাতেই আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
এক সময় যে খাতকে দেশের অন্যতম রপ্তানি সম্ভাবনার শিল্প হিসেবে দেখা হতো, এখন সেই চামড়া খাতেই আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের এই সাড়ে ১০ মাসে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি হয়েছে ৫২ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকার; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ কোটি ৩৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা বেশি। আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) প্রথম সাড়ে ১০ মাসে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি হয়েছে ৩৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫ হাজার টাকার।
কাঁচা চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনার সংকটে দেশের ট্যানারি শিল্প যখন ধুঁকছে, তখন আমদানি-নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপসহ উন্নত দেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি করতে হচ্ছে। এদিকে বছর বছর যখন চামড়া আমদানি বাড়ছে, তখন দেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কয়েক বছর ধরে এই খাতে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউরোপভিত্তিক লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ না থাকায় উন্নত দেশের বাজার সংকুচিত হয়ে এসেছে। যে কারণে বছর বছর বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমছে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে রয়েছে চামড়ার ভান্ডার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল আযহায় সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এবার শুধু ঈদের তিন দিনেই পাওয়া যাবে কমপক্ষে এক কোটি চামড়া।
এর ওপর সারা বছর তো পশু জবাই হয়ই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে রয়েছে চামড়ার বিশাল ভান্ডার। দেশে বিপুল পরিমাণ চামড়া থাকার পরও কেন পণ্যটির আমদানি বাড়ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৯৮ কেজি। এই চামড়াগুলোর আমদানি মূল্য ছিল ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৪৪ টাকা। পরের ২০২৪-২৫ অর্থবছর প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি হয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৫ কেজি। এই চামড়াগুলোর আমদানি মূল্য ছিল ৩৯ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। এই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ বছরে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি বেশি হয়েছে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৫৬ টাকার; আর সর্বশেষ ২০ মে পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের এই সাড়ে ১০ মাসে প্রক্রিয়াজাত চামড়া আমদানি হয়েছে ২ লাখ ১৭হাজার ৮১৫ কেজি। এই হিসাবে চলতি অর্থবছরের এই সময়ে আগের বছরের তুলনায় আমদানি বেশি হয়েছে ১৩ কোটি ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার ১৬১ টাকার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে ব্যয় বেশি হয়েছে ৩৬২ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতে আমদানি ব্যয় বেশি হয় ৩৩৬ কোটি টাকার। পরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খাতে আমদানি ব্যয় বাড়ে ১৫ শতাংশ। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় আমদানি ব্যয় বাড়ে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় ছিল ১ হাজার ২২৩ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় মাত্র ১ হাজার ৩৯ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে আয় কিছুটা বেড়েছে, ১ হাজার ১৪৫ মিলিয়ন ডলার; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছর এ খাত থেকে রপ্তানি আয় আবারও নিম্নমুখী। অর্থাৎ প্রথম ১০ মাসে আয় হয়েছে ৯৮৮ মিলিয়ন ডলার; যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।