ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ ই-পেপার
কাল্পনিক পদে পোস্টিং দেওয়া গণপূর্তের তিন শতাধিক প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আরেকটি ঈদ কাটতে যাচ্ছে চরম আর্থিক কষ্টে। একই ডিপার্টমেন্টে চাকরি করা সবাই বেতন-বোনাস পেলেও ১০৭ জন বিসিএস কর্মকর্তাসহ প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই দুরবস্থা কাটানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘মামাবাড়ির আবদার’ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা শর্ত শিথিল করে সৃষ্ট পদে বেতন-ভাতা নিয়মিত করার জন্য চিঠি দিয়েছে। তবে অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ বলে জানা গেছে।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তরে ১০৭টি ক্যাডার পদসহ ৩১১টি পদ সৃজনে জনপ্রশাসন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্মতি জ্ঞাপন করে। এতে শর্ত দেওয়া হয়েছিল কোনো জোন, সার্কেল ও বিভাগ সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু গণপূর্ত অধিদপ্তর সেই শর্ত না মেনে দুটি জোন সৃষ্টি করে। এর মধ্যে সিভিলে ডিজাইন জোন, ইএম-এ চট্টগ্রাম জোন। তিনটি সার্কেলের মধ্যে সিভিলে নগর গণপূর্ত সার্কেল, গণপূর্ত ডিজাইন সার্কেল-৩ এবং ইএম-এ রাজশাহী সার্কেল করা হয়। সিভিলে ১৪টি নতুন বিভাগ এবং ইএম-এ ১১টি নতুন বিভাগ খোলা হয়। একইভাবে সিভিলে ১৭টি এবং ইএম-এ ২টি উপ-বিভাগ সৃষ্টি করা হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তর এসব জোন, সার্কেল, বিভাগ ও উপ-বিভাগের বিপরীতে নতুন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পোস্টিং দেন। কিন্তু এসব জোন, সার্কেল ও বিভাগের বিপরীতে সরকারিভাবে কোনো অফিস কোড এবং আইবাস কোড সৃষ্টি না হওয়ায় এ পদে পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। সর্বোচ্চ ১০ মাস থেকে সর্বনিম্ন তিন মাস পর্যন্ত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তারা। বেতন-ভাতা না পেয়ে এসব কর্মকর্তা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। গণপূর্ত অধিদপ্তর, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বার বার আইবাস কোড সৃষ্টির জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া মেলেনি।
বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য গত ১২ মে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোছা. লুৎফুন নাহার নাজীম স্বাক্ষরিত এক পত্রে রাজস্ব খাতে নবসৃষ্ট ৩১১টি পদের মধ্যে ১৯টি দপ্তরের বিপরীতে ১৭৯টি পদে পদায়নের লক্ষ্যে অর্থ বিভাগে এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আরোপিত শর্ত শিথিলকরণের বিষয়ে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ প্রাপ্তির জন্য সারসংক্ষেপ প্রেরণ কর হয়।
প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাতে আসা ওই পত্রে দেখা গেছে, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১৩তম সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত ও অর্থ বিভাগের আরোপিত শর্ত কোনো নতুন জোন, সার্কেল, বিভাগ ও উপ-বিভাগ সৃষ্টি করা যাবে না এবং প্রস্তাবিত এসব অফিসের বিপরীতে নতুন কোনো সহায়ক ও অন্যান্য পদ সৃজন করা যাবে নাÑ শর্ত দুটি শিথিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সম্পর্কিত সার-সংক্ষেপ পাঠানো হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সচিব কমিটির কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে আসন্ন ঈদুল আজহাতেও এসব পদে পদায়নকৃত কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস অনিশ্চিতই থাকছে।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সচিব কমিটির গত বৈঠকে আমাদের বিষয়টি ওঠার কথা ছিল। কিন্তু যে কর্মকর্তা বিষয়টি ডিল করেন তিনি বিদেশে ছিলেন। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি উঠবে এবং এর একটি মানবিক সমাধান হবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়া দুঃখজক। এ বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবাই মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখছেন।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আগে উচিত ছিল অফিস কোড সৃজন করা এবং পরবর্তীতে পোস্টিং ও পদোন্নতি দেওয়া। নতুন অফিস সৃষ্টি, কর্মবণ্টন, লজিস্টিক সাপোর্ট, জনবল, চেয়ার- টেবিল, পরিদর্শন গাড়ি সরবরাহ না করে পদায়ন করায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে।