সৌরভ হোসেন
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১৬:২৪ পিএম
মসলা। ছবি: বাসস
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজার এখন বেশ চড়া। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, এলাচ, কিশমিশসহ বিভিন্ন মসলার দাম বেড়েছে। আমদানিকারকরা বলছেন, পাইকারি বাজারে মসলার দাম বাড়েনি। আর খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, অধিকাংশ মসলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, ঈদে অন্যান্য নিত্যপণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মসলারও বাড়তি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর শ্যামপুর, শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছর মসলার দাম বেশ চড়া। বিশেষ করে আদা, আলুবোখারা, দারুচিনি, জিরা, শুকনা মরিচ, হলুদ, কাঁচামরিচ ও লবঙ্গের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ দামে বিক্রি হচ্ছে আলুবোখারা, যা সাধারণ ক্রেতার প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। কিছুদিন আগেও প্রতিকেজি আলুবোখারা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০০ টাকায়।
এ ছাড়া বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং আমদানি করা চীনা রসুন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও শুকনা মরিচ ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
‘পবিত্র ভান্ডার’-এর বিক্রেতা কাইয়ুম মিয়া বলেন, এ বছর মসলার আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় আড়তে দাম বেশি। তাই বাধ্য হয়ে আমাদেরও বেশিদামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ‘মদিনা মসলা ঘর’-এর বিক্রেতা মো. রাসেল বলেন, ‘আলুবোখারা, এলাচ, দারুচিনি, কিশমিশ, জিরা ও লবঙ্গ ছাড়া বাকি সব আমদানি করা মসলার দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিক্রি খুবই কম। অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় ঈদের বাজারেও ক্রেতা কম, মানুষের মধ্যে তেমন উচ্ছ্বাস নেই।’
বাজারের আরেক মসলা ব্যবসায়ী মো. সেন্টু শেখ বলেন, ‘ঈদ এলেই মসলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আমাদের আড়ত থেকে বাড়তি দামে কিনে আনতে হয়, কিন্তু ক্রেতারা মনে করেন আমরা দাম বাড়িয়েছি।’ গত বছরের সঙ্গে দামের তুলনা করে তিনি জানান, গত বছর আকারভেদে এলাচ ৪২০০ থেকে ৪৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা বেড়ে ৪৬০০ থেকে ৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশের দাম কেজিতে প্রায় ১৮০ টাকা বেড়ে ৮৫০ টাকায় ঠেকেছে। এ ছাড়া তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, হলুদের গুঁড়া ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং শুকনা মরিচের গুঁড়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা দারুচিনি ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও পাতলা দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। বাজারে ইরানি জিরা ৯০০ টাকা এবং ভারতীয় জিরা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গের কেজি ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকা। বাদামের মধ্যে কাঠবাদাম ১৪৩০ টাকা, কাজুবাদাম ১৩২০ টাকা, পেস্তাবাদাম ৩৭০০ থেকে ৩৯০০ টাকা এবং চীনাবাদাম ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কালো গোলমরিচ ১২৫০ টাকা এবং সাদা গোলমরিচ ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে যাওয়া ক্রেতা আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে যেকোনো উৎসবের আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। সামনে কোরবানির ঈদ, বাজারে এসে দেখি সব ধরনের মসলার দামই এখন বাড়তি।’