মানব পাচার
বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার এখন আর কেবল সীমান্তঘেঁষা অপরাধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বহুমাত্রিক নেটওয়ার্কে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ থেকে মানব পাচার এখন আর কেবল সীমান্তঘেঁষা অপরাধ নয়; এটি পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বহুমাত্রিক নেটওয়ার্কে।
পর্যটন, শিক্ষা ও চাকরি ভিসার আড়ালে তরুণদের ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে মৃত্যুর মুখে। সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মানব পাচার ইউনিটের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এ তথ্য।
পাশাপাশি পাচারকারীদের ভয়ংকর কৌশল, আন্তর্জাতিক রুট, ট্রানজিট ব্যবস্থাপনা ও সংঘবদ্ধ চক্রের বিস্তৃত সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “মানব পাচার বাংলাদেশের জন্য শুধু আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও বড় হুমকি।”
বিমানপথে মানব পাচারের সাতটি বড় গন্তব্য
বর্তমানে বিমানপথে মানব পাচারের জন্য সাতটি প্রধান আন্তর্জাতিক গন্তব্য সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ ইতালি, সার্বিয়া/মেসিডোনিয়া, রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও কম্বোডিয়া/লাওস। এ কর্মকাণ্ডে দেশের কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত চক্রগুলো ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। এরপর পাসপোর্ট নিয়ে বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে তাদের বিদেশে পাঠায়। প্রথমে পর্যটন, শিক্ষা বা চাকরির ভিসা সংগ্রহ করে। এরপর তৃতীয় কোনো দেশে ট্রানজিট করিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে নেওয়া হয়, যাতে সরাসরি গন্তব্য দেশের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
ইতালিগামী রুটটি বহু দেশের অন্যতম ট্রানজিট
সিআইডির তথ্য মতে, ইতালিগামী রুটটি বর্তমানে সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘ রুটগুলোর একটি। বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীরা প্রথমে নেপাল, ভারত বা শ্রীলঙ্কা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়। এরপর মিসর, তিউনিসিয়া কিংবা লিবিয়া হয়ে অবশেষে ইতালিতে নেয়। সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে অসংখ্য যুবক প্রাণ হারিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বাধ্য করা হয় মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে। সেখানে মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। যাত্রাপথে সক্রিয় থাকে একাধিক ভুয়া ট্রাভেল ডকুমেন্ট, জাল ভিসা ও স্থানীয় দালালচক্র।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ইউরোপে অবৈধ অভিবাসনের সুযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি তরুণদের বড় অংশকে বানানো হচ্ছে লক্ষ্যবস্তু।
আমেরিকা ও কানাডায় শিক্ষা ভিসার নতুন ফাঁদ
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডামুখী পাচার রুটেও দেখা যাচ্ছে নতুন প্রবণতা। আমেরিকাগামীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে ব্রাজিল, পরে মেক্সিকো হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়।
তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার বেড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার। কারণ অনেক দেশে অন-অ্যারাইভাল সুবিধা বা তুলনামূলক দুর্বল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা পাচারকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। কানাডার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও পর্যটন ভিসা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। প্রথমে ভুক্তভোগীদের বলা হয়Ñ বিদেশে গিয়ে সহজেই স্থায়ী হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। বাস্তবে গিয়ে অনেকে অবৈধ অবস্থানে পড়েন, চাকরি হারান কিংবা বাধ্য হন মানবেতর জীবনযাপনে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখনকার পাচারকারীরা আগের মতো কেবল সীমান্ত ব্যবহার করছে না। তারা সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন এজেন্সি ও ভুয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে গড়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক।”
অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়া রুটে বাড়ছে ঝুঁকি
অস্ট্রেলিয়াগামী রুটে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, পরে ইন্দোনেশিয়া হয়ে সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় বিমানপথ ও জলপথ মিলিয়ে ব্যবহার করা হয় মিশ্র রুট। এই যাত্রায় শত শত মানুষকে তোলা হয় ছোট নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলারে। খাবার ও নিরাপত্তার অভাবে নিখোঁজ কিংবা মারা যান বহু মানুষ। অন্যদিকে রাশিয়াগামী রুটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব হয়ে রাশিয়ায় নেওয়ার তথ্য দিয়েছে সিআইডি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রবণতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে শ্রমিক বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের নামে বাংলাদেশিদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পাঠানো হতে পারে।
কম্বোডিয়া-লাওস সাইবার দাসত্বের নতুন গন্তব্য
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া ও লাওস এখন মানব পাচারের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রথমে থাইল্যান্ড ও পরে কম্বোডিয়া বা লাওসে নেওয়া হয় তরুণদের। সেখানে তথাকথিত ‘অনলাইন চাকরি’ বা ‘কাস্টমার সার্ভিস’ কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বাস্তবে গিয়ে অনেকে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েন। জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা, জুয়া কিংবা আর্থিক জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হয়। পালাতে চাইলে করা হয় নির্যাতন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এই রুট বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অপরাধপ্রবণতাগুলোর একটি।
অনিরাপদ সমুদ্রপথে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে
জলপথে মানব পাচারের ক্ষেত্রেও দুটি বড় রুট চিহ্নিত করেছে সিআইডি। প্রথম রুটে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, পরে ইন্দোনেশিয়া হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়া হয়। দ্বিতীয় রুটে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়। এই যাত্রায় ব্যবহার করা হয় ছোট নৌযান, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা। ভুক্তভোগীদের অনেক সময় সাগরে আটকে রাখা হয় সপ্তাহের পর সপ্তাহ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনিরাপদ সমুদ্রযাত্রায় নৌকাডুবি, অনাহার, মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন ও মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সমুদ্রপথের পাচার সবচেয়ে নিষ্ঠুর। এখানে মানুষকে পণ্য হিসেবে পরিবহন করা হয়। অনেকে জীবিত অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন না। এই পথে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। অনেক পরিবার তার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ।
চার বছরে শতাধিক মামলা, গ্রেপ্তার তিন শতাধিক
সিআইডির মানব পাচার ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে টিএইচবি ইউনিট মোট ৩৪৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১২২টি মামলা তদন্তাধীন বা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য দেখানো হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১০০ ও ২০২৩ সালে ৮৬টি মামলা ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সংখ্যা কেবল দৃশ্যমান অপরাধের অংশমাত্র। প্রকৃত সংখ্যা আরও বড়। কারণ অনেক পরিবার সামাজিক লজ্জা, আর্থিক ক্ষতি কিংবা ভয়ভীতির কারণে অভিযোগই করে না।
আন্তর্জাতিক সমন্বয়ে জোর দিচ্ছে সিআইডি
মানব পাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সিআইডি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওর সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মানব পাচার মনিটরিং সেল কাজ করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সাক্ষাৎকার, যাচাই ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অংশীদার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ আইওএম, ইউএনওডিসি, ইউএনএইচসিআর, ইন্টারপোল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সংস্থা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “মানব পাচার এখন আন্তঃদেশীয় অপরাধ। এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্ত ছাড়া বড় চক্র ভাঙা কঠিন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা
অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে বলেন, “মানব পাচারকারীরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত। তারা ভুয়া ভিসা, প্রতারণামূলক চাকরির অফার ও দীর্ঘ ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে কাজ করছে।”
সিআইডির মানব পাচার ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “যেকোনো সন্দেহজনক বিদেশযাত্রা, অস্বাভাবিক ট্রাভেল রুট বা অনলাইনে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় দেখা যায়, একই চক্র ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। তাই প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।”
সচেতনতা ও তথ্যদানে জোর
সিআইডি জানিয়েছে, মানব পাচার সংক্রান্ত যেকোনো মামলা বা তথ্য টিএইচবি ইউনিটকে জানাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদের মতে, মামলা ছাড়াও সন্দেহজনক তথ্য শেয়ার করলে বিদ্যমান রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল অভিযান চালিয়ে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়। বেকারত্ব, বিদেশে উচ্চ আয়ের প্রলোভন, অনলাইন প্রতারণা ও দুর্বল সচেতনতাÑ এসব কারণ দূর না করলে পাচারচক্র নতুন নতুন কৌশল নিয়ে ফিরে আসবে। বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট ও উৎসদেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রয়েছে।
আইন থাকলেও কারও সাজার নজির নেই
বিভিন্ন আদালতে মানব পাচারের অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। মামলার উপাদান, সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারায় তদন্ত কর্মকর্তারা যথাসময়ে তদন্ত শেষ করতে পারছে না। মানব পাচার আইনে করা মামলায় ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ গঠন ও ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান থাকলেও তদন্ত ধীর হওয়ায় বিচার সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকছে মামলার কার্যক্রম। ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক, বাহরাইন ও লিবিয়ায় বাংলাদেশিরা বেশি পাচার হয়ে থাকে। এসব দেশে কাজের জন্য গিয়ে নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। তারা সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিরে আইনের আশ্রয় নেন। এরপর পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় মানব পাচার আইনে। সেই মামলায় এ পর্যন্ত কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের সাজা হওয়ার নজির নেই বললে চলে। অর্থের বিনিময়ে আপসরফা করায় আইন প্রয়োগ হচ্ছে না। অথচ বিদ্যমান আইনে সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনে সাজা না হওয়ায় পরবর্তীতে পাচারকারীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পুনরায় মানব পাচারে জড়িত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ঘাটতি যেখানে থাকে, সেখানেই পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়। আমাদের দেশে কর্ম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে চক্রগুলো মানুষকে বিদেশে উচ্চ আয়ের স্বপ্ন দেখায়। পরিবারগুলোও সরল বিশ্বাসে দালালের হাতে টাকা তুলে দেয়, পরে সর্বস্বান্ত হয়।”
তিনি বলেন, “এখন মানব পাচার শুধু সীমান্তনির্ভর নয়। সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালেও পাচার হচ্ছে। কিন্তু কঠোর আইন থাকলেও কার্যকর বিচার না হওয়ায় পাচারকারীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।”
তার মতে, মানব পাচার রোধে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দালাল ও রিক্রুটিং চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।