× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ধর্ষণ-হত্যালীলার নিশানায় শিশুরা

নুর মোহাম্মদ মিঠু

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ০৮:৩০ এএম

আপডেট : ২২ মে ২০২৬ ০৮:৩৭ এএম

অবক্ষয় এত সর্বগ্রাসী ও নিম্নমুখী যে সমাজের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ থেকে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

অবক্ষয় এত সর্বগ্রাসী ও নিম্নমুখী যে সমাজের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ থেকে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ভয়ংকর অবক্ষয়ের খাদে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে যেন পুরো সমাজ। এই অবক্ষয় এত সর্বগ্রাসী ও নিম্নমুখী যে সমাজের শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধ থেকে।

বিশেষত গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও শিশুদের ওপর নৃশংসতার যেসব সংবাদ পাওয়া গেছে, তার প্রকৃতি দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন সমাজের সচেতন ও সংবেদনশীল অভিভাবকরা। 

শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ঢাকার পল্লবীর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী, মাত্র সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার। গত মঙ্গলবার পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে যে ভয়ানক মানসিক বিকৃতি, নিষ্ঠুরতা ও কদর্যতার সঙ্গে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে তা সবাইকে স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ করে তুলেছে।

এ ঘটনার রেশ না কাটতেই গতকাল বৃহস্পতিবার মানুষের সামনে এসেছে আরও কয়েকটি ঘটনা। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রামপুরার বনশ্রীর সি ব্লকের তিন নম্বর সড়কের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র তৃতীয় তলা থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সেখানকার আবাসিক ছাত্র ১০ বছর বয়সী আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল।

আরেক ঘটনায় সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবাকে গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কামালপুর কুমারপাড়া গ্রামে ঘর ঝাড়ু দেওয়ার বিনিময়ে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে। এমন ঘটনা আরও আছেÑ যা পড়তে বা বলতে গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়তে হয়। এক কথায়, গত কয়েক দিনের বিভিন্ন ঘটনা বলে দিচ্ছে, ঘরে-বাইরে কোথাও শিশু আর নিরাপদ নয়। পরিচিতরাই হয়ে উঠেছে তাদের আতঙ্কের কারণ।

প্রধান বিচারপতির কাছে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আবেদন

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির কাছে আইনজীবীরা শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলাগুলো থেকে উদ্ভূত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের আবেদন করেছেন।

আবেদনে তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। মাগুরার শিশু আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির ফাঁসি হলেও ডেথ রেফারেন্স কবে শুনানি হবে অনিশ্চিত। ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলাসহ বহু মামলা এভাবে অপেক্ষমাণ। ফলে সর্বশেষ মিরপুরে নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা বলেই বসেছেন, আপনারা বিচার করতে পারবেন না।

আবেদনে আইনজীবীরা বলেন, “বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে আপনাদের ও আমাদের সবার এই দায় এড়ানোর উপায় নেই। জুডিসিয়ারির সীমাবদ্ধতা আমরা বুঝি, তবুও সীমাবদ্ধ পরিস্থিতিতেও শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো আলাদা করে, এ সংক্রান্ত মামলাগুলো (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল), বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে শুনানির ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।”

শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনের ডাক মির্জা ফখরুলের

দেশে বাড়তে থাকা শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের ফল বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিনের সামাজিক অবক্ষয়, দায়িত্বহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পতনের কারণেই এমন অপরাধ বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু আইন বা সরকারের উদ্যোগ দিয়ে এই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। পরিবার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, গণমাধ্যম ও সমাজের সব মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।”

শিশু রামিসাসহ সব ধরনের অপরাধের মামলাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরদিকে রামিসার এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানও।

পাঁচ মাসে কমপক্ষে ১১৮ শিশু ধর্ষণ

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দেশের শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা পরিস্থিতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, “পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে।”

আসকের দেওয়া বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, তাদের সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত কমপক্ষে ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে কমপক্ষে ৪৬ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণ পরবর্তী এবং ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কমপক্ষে ১৭ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ ছাড়াও আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৪২৫ শিশু। বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৪৮ শিশু।

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, এসব সংখ্যা কেবল প্রকাশ্যে আসা ঘটনার হিসাব। অসংখ্য ঘটনা সামাজিক লজ্জা, ভয় কিংবা প্রভাবশালীদের চাপে চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে যৌন নির্যাতনের বহু ঘটনাই থানায় পৌঁছায় না।

বিভিন্ন ঘটনা

গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার রামপুরায় আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার টয়লেট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহর মরদেহ। সুরতহাল প্রতিবেদনে পাওয়া যায় পায়ুপথে ধর্ষণের আলামত। এ ঘটনায় পুলিশ পাবনার বেড়া উপজেলা থেকে একই মাদ্রাসার ছাত্র মো. শিহাব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে জানা গেছে, আগেও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে সে জোর করে অস্বাভাবিক যৌনাচার করেছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে ১১ বছর বয়সী মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবা আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে। মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে কয়েক দফা ধর্ষণ করা হয়। পরে বিষয়টি মা জানতে পারে এবং পুলিশ আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে শিশুটিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক শিশুর গলা কেটে পাহাড়ি খাদে ফেলে দেয় প্রতিবেশী বাবু শেখ। গত ১ মার্চ গলাকাটা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় জঙ্গল থেকে। পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় সে। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর হত্যার উদ্দেশ্যে গলা কেটে ফেলে যায় অভিযুক্ত।

ঢাকার বাড্ডায় তিন বছরের শিশু হাবিবকে গলা টিপে হত্যা করে তার বাবা শাহিন মিয়া। অভিযোগ, মাদক কেনার টাকা না পেয়ে স্ত্রী শিল্পী খাতুনের সামনেই সন্তানকে হত্যা করে সে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ এপ্রিল। সেদিনই গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে গলা কেটে ও পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় আরও পাঁচ শিশুকে।

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক কলহ, মাদকাসক্তি, বিকৃত মানসিকতা, প্রতিশোধ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে শিশু হত্যার ঘটনা বেড়েছে। যেমন গত ৯ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নিজের তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেন ফোরকান আলী। নিহতদের মধ্যে রয়েছে দুই বছরের ফারিয়া, আট বছরের মারিয়া, ১৬ বছরের মিম, স্ত্রী শারমিন খানম ও শ্যালক রসুল।

বর্তমান সময়ে শিশু হত্যার বড় কারণ হয়ে উঠছে মাদক। গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য চার বছরের শিশু মরিয়ম আক্তারের গলায় থাকা রুপার চেন ছিনিয়ে নেয় দুই কিশোর মাদকাসক্ত ইয়াছিন ও আকাশ। পরে চিনে ফেলায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাটির চুলার ভেতরে লাশ লুকিয়ে রাখা হয়। ঢাকার সাভারে মাদকের টাকা জোগাতে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে একটি চক্র। ফরিদপুরে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত ইসরাফিল মৃধা। কক্সবাজারের রামুতে মাদকের টাকার জন্য তিন বছরের শিশু ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচা।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুলের এক অভিভাবক বলেন, “এখন মেয়েকে একা কোথাও পাঠাতে ভয় লাগে। প্রতিদিন খবর খুললেই শিশু ধর্ষণ, হত্যা। মানুষ এতটা পাষাণ হতে পারে?”

মতিঝিল আইডিয়ালের আরেক অভিভাবক বলেন, “এখন কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। সন্তানকে সবসময় চোখের সামনে রাখতে হয়। সমাজটা অসুস্থ হয়ে গেছে। মানুষ পশুর চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “প্রতিশোধ নিতে শিশুকে টার্গেট করা হচ্ছে। মাদকাসক্ত স্বজনদের হাতে শিশুরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এসব অপরাধ বাড়ছে।”

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “এগুলো শুধু মানসিক সমস্যা নয়, স্পষ্ট অপরাধ। যারা এমন নৃশংসতা করে তারা অপরাধপ্রবণ মানসিকতার মানুষ।”

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন, “শিশু হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাই গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” তবে শিশু অধিকারকর্মীদের প্রশ্ন, শুধু মামলা, গ্রেপ্তার আর বিবৃতিতে কি এই ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা ও অবক্ষয় থামানো যাবে?

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা