ফারুক আহমাদ আরিফ, ঢাকা ও কৃষ্ণ ব্যানার্জী, সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১১:২৯ এএম
ইউরোপে যাচ্ছে সাতক্ষীরার আম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আমের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার আম ইউরোপীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করেছে। এ ছাড়া গত বছর থেকে চীনেও আম রপ্তানি শুরু হয়েছে। দেশের এই রসালো ফলটি এখন কূটনৈতিক গুরুত্বও অর্জন করেছে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আম উপহার দিয়ে ‘আম কূটনীতি’ নামে একটি রীতি চালু করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। চলতি বছরেও আম কূটনীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। এরই প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে আম রপ্তানির উদ্বোধন করবেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ৯ বছরে দেশে আমের উৎপাদন ৫ দশমিক ১৯ লাখ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে আমের উৎপাদন ছিল ২১ দশমিক ৪৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬২ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে, আম রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০১৭ সালে রপ্তানি ছিল ৩১২ মেট্রিক টন, যা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৪ টনে।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। সেই তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ এখনও খুব বেশি নয়। তবে আম রপ্তানি উৎসাহিত করতে অধিদপ্তর নানা ধরনের সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২২ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চারটি বিভাগে ১৫টি জেলার ৪৬টি উপজেলায় রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছর দেশে আম রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১১৫ টন, যা চলতি বছরে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউরোপে শীর্ষ আম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড লিংক। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাওসার আহমেদ রুবেল বলেন, তারা ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে আম রপ্তানি শুরু করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে উড়োজাহাজ ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো যুক্তরাজ্যে প্রতি কেজি আম পরিবহনের জন্য ৫০৫ টাকা এবং বাংলাদেশ বিমান ৫৮০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। এ ধরনের উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে আম রপ্তানিতে ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইউরোপের পথে সাতক্ষীরার আম
১২তম বারের মতো ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে সাতক্ষীরার আম। জেলা থেকে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম দেশের সীমা পেরিয়ে ইউরোপের বাজারে পাঠানো হবে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষিরা এখন আম বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এদিকে ইতোমধ্যে বাজারে উঠেছে গোবিন্দভোগ, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, ক্ষিরসাপাতিসহ বিভিন্ন জাতের আম। গাছ থেকে আম সংগ্রহ, প্যাকেটজাতকরণ ও ট্রাকে পরিবহনসহ নানা কাজে শত শত মৌসুমি শ্রমিক ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে গত বছরের ধারাবাহিকতায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানির প্রস্তুতিও চলছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরার আম তুলনামূলকভাবে আগে পাকা শুরু হয়। ফলে এ অঞ্চলের আমের চাহিদাও বেশি থাকে।
অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের গুণগত মান বজায় রাখতে কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ফল সংগ্রহ করা প্রয়োজন।