× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

কঠোর বিধিতে বাড়তি প্রার্থী ঠেকানোর চিন্তা ইসির

দীপক দেব

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়তি প্রার্থী ঠেকাতে কঠোর বিধিমালা আনার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাড়তি প্রার্থী ঠেকাতে কঠোর বিধিমালা আনার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বিশেষত আইন সংশোধনের পর নির্দলীয় নির্বাচনের বিধানের সূত্রে সম্ভাব্য অতিরিক্ত প্রার্থীর চাপ সামলাতে বিধিতে কিছু কঠিন শর্ত যুক্ত করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

নির্বাচনকে সংঘাত-সহিংসতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতাও চাইবে ইসি। জুনের মধ্যে বিধিমালা পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়ার ওপর দলগুলোর মতামত নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ইসির সামনে প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা। আইন সংশোধনের পর নির্বাচন যেন কার্যতই নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন হয়Ñ ইসির পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা করা হবে। মূলত এই কারণে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন। কারণ ইসি মনে করছে, নির্দলীয় হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও প্রার্থীর চাপ সামাল দিতে বিধিতে জামানতের অর্থবৃদ্ধিসহ প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়ানোর বিধান যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে বিধিমালা সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসি।

গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একজন কমিশনার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “অতীতে দেখা গেছে, দলগুলো থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতেন। দল থেকে সেই সব বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টাও চালানো হতো। নির্দলীয় নির্বাচন হলেও স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীরা যে এবারও অংশ নেবেন, এখনই তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ইসি প্রত্যাশা করছে, দলগুলো যেন তাদের একাধিক প্রার্থীদের নিবৃত্ত করে; দলগুলো যেন রাজনৈতিক আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কাজ থেকে সবাইকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখে। কারণ কেবল দলগুলো চাইলেই রক্তপাতহীন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব।”

তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের মতো পৃথকভাবে না বসে স্থানীয় নির্বাচনের আগে একসঙ্গে বসা হবে।

সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, উল্লেখ করে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, “অতীতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অনেক রক্তপাতও ঘটেছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করা।”

আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিধির তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ মে ইসি গঠিত আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি প্রথম বৈঠক করেছে। এই বৈঠকের আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই একটি খসড়া তৈরি করা হবে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে তা কমিশনে উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিতে পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের মতো একটি শান্তিপূর্ণ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা। আমরা শুরু থেকেই নির্বাচনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। তার ওপর ভিত্তি করে আইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই বিধিতে পরিবর্তন আনার জন্য কাজ চলছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে যেকোনো নাগরিক ২ থেকে ৫ হাজার টাকা জামানত জমা দিয়ে প্রার্থী হতে পারেন। এতে ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ে। এজন্য জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তেও পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে।”

বর্ষার পরেই নির্বাচন করতে চায় সরকার

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চলতি বছরের শেষে ধাপে ধাপে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা সেই সময় জানিয়েছিলেন। তবে এবার আরেকটু নির্দিষ্ট করে জানালেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, “চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনÑ এ পাঁচ ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।”

চলতি বছর চার হাজার নির্বাচনের টার্গেট ইসির 

আগামী এক বছরে প্রায় ৪ হাজার ১০০টি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে ভোটের আয়োজন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮১টি। চলতি বছরেই নির্বাচন উপযোগী হবে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন এবং আগামী বছরে উপযোগী হবে ৩৪৯টি। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের ভেঙে দেওয়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা