× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

দলগুলোর নয়া মেরুকরণ

দীপক দেব

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ১২:৩৪ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐক্যবদ্ধভাবে জোটভুক্ত হয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকে এবার একক দলগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারদলীয় এবং জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বধীন বিরোধী দলÑ উভয়ই জোটভুক্ত দলগুলো পৃথকভাবে ভোটের তৎপরতা শুরু করেছে। দুই জোটের কোনো কোনো দল এককভাবে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে জোট শরিকদের মধ্যে সমালোচনা ও অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রার্থী চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এককভাবে প্রার্থী ঘোষণার সমালোচনা ও অসন্তোষ এড়াতে এবং নির্বাচনে জয়ের পথ প্রশস্ত করতে প্রার্থিতা ও নির্বাচন নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলো বৈঠক কিংবা সংলাপ করতে পারে। কারণ দলগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও স্থানীয় সরকারের অন্য পর্যায়ের কিছু কিছু জায়গায় সমন্বয় করার কথাও বিবেচনা করছে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই জোটগত রাজনীতির এই চিত্রটি দৃশ্যমান হবে। 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। বছরব্যাপী ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদÑ এই পাঁচ স্তরের নির্বাচন এবার নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আইন সংশোধন করে তা পাসও করা হয়েছে। সরাসরি দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার বদলে দল থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার যে প্রথা পূর্বে প্রচলিত ছিল, এবার সেভাবেই দলগুলো প্রার্থী বাছাই করছে বলে জানা গেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি ইতোমধ্যে পৃথক নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এছাড়া বিরোধী জোটের কিছু কিছু ইসলামী দলের পাশাপাশি সরকারি জোটের কোনো কোনো দল দলগত আলোচনা শেষে নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

জোটগত অংশগ্রহণের পথও খোলা রাখছে এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন গতকাল রবিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলামীÑ আমরা জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী ঐক্যের মধ্যে আছি। সংসদীয় ক্ষেত্রে তার একটা রিফ্লেকশনও আছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এনসিপি মনে করছে, এককভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই আমরা এককভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি এবং প্রার্থী ঘোষণাও শুরু করেছি। যদি নির্বাচনের আগে নানা কারণে জোটের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, সে সময় আমরা সে ব্যাপারেও চিন্তা করব।’

সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উপজেলাতেও প্রার্থী চূড়ান্তের প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘শুধু সিটি করপোরেশন না, স্থানীয় সরকারের উপজেলা পর্যায়ে যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তাদের ব্যাপারেও আমাদের একটা কমিটি হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে আমরা অলরেডি আমাদের ১০০ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছি। আমাদের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তাকে মূলত উপজেলার প্রার্থী চূড়ান্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা করছি এবং দেশব্যাপী আমাদের এই প্রার্থী খোঁজা এবং যাচাই-বাছাই (সার্চিং ও স্ক্রুটিনি)Ñ দুই ধরনের কাজই চলমান রয়েছে।’ 

নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে সফরের কথাও চিন্তা করা হচ্ছে জানিয়ে এনসিপি মহাসচিব বলেন, ‘শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়, আমাদের সাংগঠনিক ভিত্তিকে মজবুত করার স্বার্থেই আমাদের সেন্ট্রাল নেতারা একেবারে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত সফর করবেন। ইতোমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা একেবারে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত, প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এ তৎপরতা শুরু করব।’

উল্লেখ্য, এনসিপি গত ২৯ মার্চ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনসহ দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। বাকি সিটিগুলোতেও শিগগির প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এছাড়া দেশের ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনের জন্যও গত ১০ মে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। এই ১০০টির মধ্যে ৩৩টি পৌরসভার মেয়র ও ৬৭টি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ। ঈদুল আজহার আগেই আগামী ২৫ মের মধ্যে আরও ১০০ উপজেলা-পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপি নেতারা।

তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করছে জামায়াত : জোটগতভাবে সংসদ নির্বাচন করলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করতে চাইছে ১১-দলীয় জোটের প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী। ইতোমধ্যে তারা বেশিরভাগ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদপ্রার্থী ঠিক করে ফেলেছে। গত ১৬ মে গাজীপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে জামায়াত। 

দলটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা মনে করেন, তারা জোট করেছেন নির্বাচনের জন্য, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নয়। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না; এজন্য নির্বাচন দলগতভাবেই হবে। তবে ১১-দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির দায়িত্বে থাকা জামায়াতে ইসলামীর একটি সূত্র দাবি করেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন এককভাবেই হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হতে পারে। সেটা হবে প্রার্থী বুঝে।

জোটের মধ্যে আলোচনা হবে

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলগুলো এককভাবে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলেও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর জোটের মধ্যে আলোচনা হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরাও দলীয়ভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ এককভাবে নেওয়া হবে নাকি জোটগতভাবে নেওয়া হবেÑ সেই সিদ্ধান্ত জোটের বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে।

সাম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজ নিচ্ছে বিএনপি

শুধু বিরোধী শিবিরেই নয়, সরকারি জোটের মধ্যেও পৃথকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলগুলো। বিএনপি চাইছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ধরে রাখতে। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, বিএনপি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত এবং তৃণমূলের কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আগেভাগে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন তারা।

জোটসঙ্গীদেরও পৃথক প্রস্তুতি

পৃথকভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা অনুযায়ী, আমরা এ নির্বাচনে স্বাধীনভাবে অংশ নেব। তারপরও রাজপথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে, বিশেষত বিএনপির বাইরে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ থাকবে।’ 

কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, বর্তমানে দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৫ উপজেলা, ১২টি সিটি করপোরেশন ও ৬১ জেলা পরিষদের প্রায় সবগুলোই নির্বাচন উপযোগী অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় গত ৯ এপ্রিল সংসদে ‘স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘উপজেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘জেলা পরিষদ সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন বিল, ২০২৬’ এবং ‘স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন সংশোধন বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে ইসি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা