নোবিপ্রবি
জসিম উদ্দিন, নোবিপ্রবি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬ ২১:০৪ পিএম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের ময়নাদ্বীপে বিচরণরত দৃষ্টিনন্দন বেগুনি কালিম। ছবি: জসিম উদ্দিন
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের ময়নাদ্বীপে এবার দেখা মিলল দৃষ্টিনন্দন জলচর পাখি ‘বেগুনি কালিম’ (Purple Swamphen)।
উজ্জ্বল বেগুনি-নীল শরীর, লাল টকটকে ঠোঁট আর লম্বা পায়ের এই পাখিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয় ও ঘাসযুক্ত এলাকায় বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে।
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে ১৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বাস। সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই অপূর্ব সুন্দর পাখিটি। সাধারণত হাওর, বিল বা নলখাগড়াঘেরা জলাভূমি অঞ্চলে এদের দেখা মিললেও, ধারণা করা হচ্ছে ক্যাম্পাসের শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ এদের আকৃষ্ট করেছে।

বেগুনি কালিম সাধারণত ছোট দলে বাস করতে পছন্দ করে। এর শক্তিশালী লাল ঠোঁট এবং বড় আঙুলযুক্ত পা একে জলজ উদ্ভিদের ওপর দিয়ে অনায়াসে হাঁটতে সাহায্য করে। মূলত জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা, শাপলা-শালুক এবং ছোট জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাবার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের জলাশয়ে কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য এবং মানুষের অবাধ বিচরণ কম হওয়ায় এখানে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ বোধ করছে। শীতকালে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হিমালয় ও সাইবেরিয়া থেকে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি ছুটে আসে নোবিপ্রবির এই ময়নাদ্বীপে।
পাখিটির নান্দনিক কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তসলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি আসলে একজন শখের ‘পাখি ফটোগ্রাফার’। আমি ক্যাম্পাসেই থাকি, যে কারণে অবসর সময় পেলেই ক্যামেরা নিয়ে বের হয়ে যাই পাখির ছবি তোলার জন্য। তিনি আরও জানান, বাইরে কোথাও বেগুনি কালিম সচরাচর দেখা যায় না। তবে আমাদের ক্যাম্পাসে প্রায়ই দেখা যায়।
নোবিপ্রবিকে বন্যপ্রাণীদের একটি প্রকৃত ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ জোন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।