যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রতিদিন প্রয়োজন ৯০ থেকে ৯৫টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন)। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বছর পুরনো ইঞ্জিনই বেশি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কোরবানির ঈদযাত্রায় নির্বিঘ্ন ট্রেন চলাচলের আশ্বাস দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। যাত্রীচাপ সামাল দিতে প্রতিদিন প্রয়োজন ৯০ থেকে ৯৫টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন)। এর মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বছর পুরনো ইঞ্জিনই বেশি। এদের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। আসন্ন ঈদযাত্রায় রেলের বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব পুরনো ইঞ্জিন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো সময় এসব পুরনো ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী ও ঢাকা বিভাগের লোকোমোটিভ কারখানায় ৯০টি ইঞ্জিন তড়িঘড়ি মেরামত করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাহাড়তলী ডিজেল শপে ৫৫টি এবং ঢাকা বিভাগে ৩৫টি ইঞ্জিন প্রস্তুতের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৪৬টির মেরামত শেষ হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, রেলের বহরে থাকা মোট ২৯৭টি ইঞ্জিনের মধ্যে ১৫০টি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল শেষ, যা মোট ইঞ্জিনের ৫১ শতাংশ। রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২০ বছর। সেই হিসেবে অর্ধেকের বেশি ইঞ্জিন এখন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় চলাচল করছে। রেলের হিসাব অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি পুরনো ইঞ্জিনই রয়েছে ৮৪টি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে মিটারগেজ ইঞ্জিন ১৬৭টি ও ব্রডগেজ ইঞ্জিন ১৩০টি। অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে রেলওয়েতে এমন ইঞ্জিনের সংখ্যা ১৪৭টি। বাকি ১৫০টি ইঞ্জিনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫০টি ও ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রয়েছে ১৬টি। অবশিষ্ট ৮৪টি ইঞ্জিনের বয়স ৪০ বছর পেরিয়ে গেছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাহাড়তলী বিভাগীয় চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী রাজেন্দ্র প্রসাদ ভৌমিক স্বীকার করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দক্ষ লোকবলের সংকট ও মানসম্মত যন্ত্রাংশের অভাবে ইঞ্জিন মেরামতে বেগ পেতে হচ্ছে। অভিজ্ঞ কর্মী না থাকায় নতুনদের দিয়েই গুরুত্বপূর্ণ মেরামত কাজ চালাতে হচ্ছে।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ পাওয়ার কন্ট্রোলার প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও হাতে পাওয়া যায় মাত্র ৭৮ থেকে ৮০টি। ঈদের সময় মালবাহী ট্রেন বন্ধ থাকায় কিছু অতিরিক্ত ইঞ্জিন যাত্রীবাহী ট্রেনে ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দুই বিভাগ থেকে ইঞ্জিনের চাহিদা দেওয়া হয়। ঈদে কতটি ট্রেন চলবে দুই বিভাগ থেকে চাহিদা পাওয়ার পর আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পাহাড়তলী কারখানা এবং ঢাকা কারখানায় ইঞ্জিনগুলো মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রেল সংশ্লিষ্টদের মতে, লোকোমোটিভ সংকটের কারণে শুধু ট্রেনের সংখ্যা নয়, সময়সূচি রক্ষা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় একটি ইঞ্জিন বিকল হলে পুরো রুটের ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। এতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয় এবং ঈদযাত্রা দুর্ভোগে পরিণত হয়।
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে পুরনো ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রেন আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। কখনও পাহাড়ি রুটে, কখনও গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেনে মাঝপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ফলে এবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।
বগি বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ম ব্যবস্থাপক রাজীব কুমার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ১১০টি কোচ বা বগি প্রস্তুত করেছিÑ যার মধ্যে ৮০টি বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। বাকিগুলো কয়েক দিনের মধ্যে যুক্ত করতে সক্ষম হব।’