× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইউরিয়া সার আমদানি বন্ধ, মজুদ চাহিদার অর্ধেক

হুমায়ুন মাসুদ

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১২:১৭ পিএম

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১২:২২ পিএম

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই মাসে দেশে ইউরিয়া নিয়ে আসেনি কোনো জাহাজ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই মাসে দেশে ইউরিয়া নিয়ে আসেনি কোনো জাহাজ। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে ইউরিয়া সার আমদানি বন্ধ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই মাসে দেশে ইউরিয়া নিয়ে আসেনি কোনো জাহাজ।

এতে আসন্ন আমন মৌসুমে দেশে ইউরিয়ার সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আমন মৌসুমে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা যেখানে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন, সেখানে এখন মজুদ আছে ৩ লাখ ৬১ হাজার টন। এটা নিরাপদ মজুদসীমার চেয়ে কম।

কৃষি খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে আমদানি করে মজুদ বাড়ানো না হলে আমন মৌসুমে সার সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কৃষক। 

তবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) বলছে, আমন মৌসুমে ইউরিয়া সারের সংকট হবে না। বিকল্প দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ইউরিয়া আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে সংস্থাটি।

জুলাই মাসে দুই দেশ থেকে ৬০ হাজার টন সার আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার আমদানি করে থাকে।

বিসিআইসি আমদানি করে ইউরিয়া। বিএডিসি আমদানি করে নন–ইউরিয়া সার; যেমন টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি।

ইউরিয়া আমদানি হয় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। ডিএপি আমদানি হয় সৌদি আরব, মরক্কো ও চীন থেকে। টিএসপি আসে মরক্কো ও তিউনিসিয়া থেকে। এমওপি আনা হয় রাশিয়া ও কানাডা থেকে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের কারণে ওই সময় থেকে ইউরিয়া আমদানি বন্ধ রয়েছে।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইউরিয়া আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।

যে কারণে এই সময়ের মধ্যে ইউরিয়া সার নিয়ে কোনো জাহাজ দেশে আসতে পারেনি। বিসিআইসি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এই ১০ মাসে ইউরিয়া নিয়ে ৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

এর মধ্যে সর্বশেষ জাহাজটি এসেছিল গত ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর আর কোনো জাহাজ সার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেনি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের এই ১০ মাসে দেশে ইউরিয়া আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ১৬১ টন।

এর মধ্যে গত মার্চ এবং এপ্রিল মাসে আমদানি হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৯০ টন। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে (মার্চ-এপ্রিল) ইউরিয়া আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭ টন।

এই হিসেবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় গত দুই মাসে (মার্চ-এপ্রিল) ইউরিয়া আমদানি কমেছে ২ লাখ ৩ হাজার ৩১৭ টন, যা মোট আমদানির প্রায় ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এনবিআরের তথ্যে মার্চ ও এপ্রিলে ৩৭ হাজার টন আমদানি হয়েছে বলা হলেও সেগুলো বন্দরে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে। মার্চ-এপ্রিলে শুল্কায়ন হওয়ায় এই সারগুলো গত দুই মাসের আমদানির তালিকায় রয়েছে।

সার আমদানি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি একই সময়ে গ্যাস সংকটে বিসিআইসির অধীন ছয়টি সার কারখানার মধ্যে ৪টি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশীয় উৎস থেকেও ইউরিয়ার সরবরাহ কমে যায়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ টন। এর মধ্যে বিসিআইসির অধীন ৬টি সার কারখানা ১০ লাখ টনের মতো সরবরাহ করে। গ্যাস সংকটে ৪টি কারখানা বন্ধ থাকায় দেশীও উৎস থেকেও কমেছে সার সরবরাহ।

এতে আসন্ন আমন মৌসুমে ইউরিয়ার সংকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, আসন্ন আমন মৌসুমের চাহিদা মেটাতে এখনই ইউরিয়ার মজুদ বাড়ানোর উদ্যোগ না নিলে সংকট তৈরি হবে। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমন ধান চাষ।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসে আমন ধানের চারা রোপণের পর প্রথম তিন মাসে দেশে ইউরিয়ার চাহিদা থাকে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। সময়মতো এই সারের চাহিদা পূরণ করা না গেলে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

বিসিআইসি দাবি করেছে, আসন্ন আমন মৌসুমে ইউরিয়া সার সংকট খুব একটা হবে না। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমে ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন ইউরিয়ার চাহিাদর মধ্যে ৬ মে পর্যন্ত সার মজুদ আছে ৩ লাখ ৬১ হাজার টন। জুলাই মাসের মধ্যে মজুদ ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান তারা। 

কর্মকর্তারা বলেন, দুটি দেশ থেকে আরও ৬০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে সৌদি আরব ও মিসর থেকে সারের এই দুটি চালান আসবে। মিসরের চালানটি জিটুজি ভিত্তিতে আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সার দিতে পারছে না। তাই এই সারগুলো তারা মিসর থেকে সরবরাহ করবে। 

বিসিআইসির অধীনে ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানা থাকলেও বর্তমানে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার এবং শাহজালাল ফার্টিলাইজারের উৎপাদন চালু আছে। এই দুটি কারখানা থেকে মাসে ১ লাখ টনের মতো ইউরিয়া পাওয়া যাবে।

এর মধ্যে ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কারখানা থেকে প্রতিদিন পাওয়া যাবে ২ হাজার ৮০০ টন। শাহজালাল ফার্টিলাইজার থেকে পাওয়া যাবে ১ হাজার ৩০০ থেকে ৫০০ টন। 

এ সম্পর্কে জানতে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

পরে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও মোবাইল রিসিভ করেননি। 

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউরিয়ার মজুদ বাড়াতে বিকল্প দেশ থেকে আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। জিটুজি ভিত্তিতে আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও ইউরিয়া আমদানি করতে দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করেছেন তারা। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে আমদানি করা কিছু সার দেশে আসবে। চালু থাকা দুটি সার কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে। তাই আসন্ন আমন মৌসুমে ইউরিয়ার সংকট হবে না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা