আবু কাওসার
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১১:২৫ এএম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬ ১১:৩৩ এএম
ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
যারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছেন, সরকারের অন্য কোনো ভাতা সুবিধা পাবেন না তারা।
সুবিধাভোগীরা যাতে সরকারি কোষাগার থেকে একাধিক ভাতা সুবিধা না পান, সেজন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
এতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা ও ভাতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে এর পরিধি হবে আগের চেয়ে তুলনামূলক কম। ভাতাও বাড়ছে। পরিমাণ হবে কম। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডকে নতুন করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যারা ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন, অন্য কোনো সামাজিক ভাতা পাবেন না তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যারা ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আছেন কিংবা আনা হবে, তারা সরকারের চলমান অন্য ভাতা সুবিধা পাবে না। ডুপ্লিকেশন বা একাধিক সুবিধা পরিহার করার জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দুস্থ ও গরিব মানুষের জন্য বর্তমানে সাত-আটটি নিয়মিত মাসিক ভাতা চালু আছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, মহিলা-শিশু মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতায় এসব কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি কর্মসূচি হচ্ছে বয়স্ক ও বিধবা ভাতা।
বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ, যারা নিয়মিত মাসিক ৬৫০ টাকা করে পান। জানা গেছে, এই সংখ্যা আগামী বাজেটে বেড়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
অর্থাৎ পরিধি বাড়িয়ে বাড়তি এক লাখ করা হবে। ভাতার অঙ্ক ৫০ টাকা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে বর্তমানে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন ২৯ লাখ। এই সংখ্যাও এক লাখ বাড়তে পারে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, যারা এসব ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পেতে হলে তাদেরকে চলমান ভাতা সুবিধা সারেন্ডার বা বাদ দিতে হবে।
জানা গেছে, আগামী বাজেটে ৪০ লাখ পরিবারকে নতুন করে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১৩ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা।
এর মধ্যে ৪০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে । এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি টাকা।
জুনের মধ্যে ৮০ হাজার পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে ,যা ১০ মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক কার্যকর করা হয়েছে।
এর আওতায় সুবিধাভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে চার কোটি টার্গেটগ্রুপকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা।
বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন অর্থমন্ত্রী। তাদের সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ আরও বাড়াতে বলেন তিনি।
প্রতিবন্ধীরা যাতে আয় করে স্বাবলম্বী হতে পারেন, এমন কর্মসূচি নেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ প্রতিবন্ধী মাসিক ৯০০ টাকা ভাতা পান। নতুন বাজেটে এদের সংখ্যা ও ভাতা উভয় বাড়ানো হচ্ছে। তবে কত বাড়ানো হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বয়স্ক-বিধবা ভাতাসহ এখন ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৫ হাজার সুবিধাভোগী বিভিন্ন ধরনের মাসিক নগদ সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন। আগামী বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ বাড়তে পারে।
শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সে তুলনায় ভাতার অঙ্ক খুবই নগণ্য। ভাতার পরিমাণ বাড়াতে হলে এই খাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ভাতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক টানাপড়েন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরামর্শ হলো; যাদের পাওয়ার যোগ্যতা নেই, তাদের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ভাতাভোগীদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এদের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তা হলে যোগ্যরা ভাতা পাবেন এবং ভাতার পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব।
বিশ্বব্যাংকের এ-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন এমন ৪৩ শতাংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, তথ্য সংরক্ষণে এখন ডেটা ব্যাংক করা হয়েছে। ফলে অনিয়মের সুযোগ কম। ভাতা বিতরণেও স্বচ্ছতা এসেছে। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়।