× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইতিবাচক চীন ও ভারত

তিস্তায় নতুন আশা জাগছে

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৫১ এএম

লালমনিরহাটের দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

লালমনিরহাটের দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ। ফাইল ছবি: প্রথম আলো

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর দিল্লির সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশা জেগেছে ঢাকার।

তৃণমূল সরকারের কারণে ২০১১ সালে যে চুক্তি শেষ মুহূর্তে আটকে গিয়েছিল, সেটির এবার বাস্তবায়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে চুক্তিটি সম্পন্ন হোক বা না হোক, বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। 

এ পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে চীন সফরে গিয়ে গত বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

কৌশলগত কারণে ভারত ও চীন দুই দেশই অবশ্য অনেক আগেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে।

আগামী জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত বা চীন সফরের সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও কোন দেশে তিনি আগে যাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

তবে প্রধানমন্ত্রী যে দেশেই সফরে যান না কেন, তিস্তা ইস্যু যে সেখানে গুরুত্ব পারে, তা অনেকেই মনে করছেন। 

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি ভারতের সিকিম, দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতীয় অংশে এই নদীর ওপর একাধিক ব্যারাজ বা বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে ওইসব বাঁধে পানি ধরে রাখার ফলে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা শুকিয়ে যায়। ফলে নদী তীরবর্তী ফসলের মাঠে চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে একসঙ্গে সবগুলো ব্যারাজ খুলে দেওয়ার ফলে হঠাৎ বন্যা ও নদীভাঙন দেখা দেয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ তিস্তা তীরবর্তী জেলাগুলোয় মানুষকে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১১ সালে দিল্লির সঙ্গে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের বিরোধিতায় তা শেষ মুহূর্তে আটকে যায়। 

এ অবস্থায় বেশ কয়েক বছর আগে চীনের সহায়তায় তিস্তা নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা নেয় ঢাকা। এ বিষয়ে প্রাথমিক একটি সমীক্ষাও করে বেইজিং। কিন্তু ভারতের আপত্তির মুখে প্রকল্পটির মূল পর্বের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সঙ্গেও আলোচনা কিছুটা এগোলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের কারণে তা আর এগোয়নি।

তবে ওই সময় বিএনপির নেতৃত্বে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরবঙ্গে একাধিক কর্মসূচি পালন করা হয়।

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।

এ প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এখন চীনের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে সরকার।

সফর শুরুর আগেই এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, “এটা আমাদের ওই অঞ্চলের মানুষের মরণ-বাঁচনের বিষয়... এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করব এবং চীন সফরে বিষয়টা নিশ্চয়ই আলোচনা করব।”

অন্যদিকে ওইদিনই তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “ভারতের উদ্যোগের জন্য ঢাকা বসে থাকতে চায় না।”

তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তারা কী ভাবছেন, কী করবেন, সেটা তারা যদি না জানান, তাদের ‘মাইন্ড রিড’ করার কাজ আমার না। প্রত্যাশা থাকবে, তখন যে চুক্তিটা হয়েছিল, সেটা বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা ‘কনসিডার’ করতে পারি কি না। কিন্তু সেজন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদেরকে করতে হবে।”

সাবেক কূটনীতিক এবং বর্তমানে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট এম হুমায়ুন কবির।

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “তিস্তা চুক্তির একটা ফ্রেমওয়ার্ক মানে চুক্তি খসড়া হয়েই আছে ২০১১ সাল থেকে। তো সেটা যত তাড়াতাড়ি স্বাক্ষরিত হয় ততই ভালো। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। এখন পর্যন্ত অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফরে যাওয়ার আগে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘চীনাদের আগ্রহ রয়েছ ‘।

“তবে আমার কাছে তো এখন মনে হয় বেসিক্যালি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়েই তারা বেশি মনোযোগী থাকবেন। তো কাজেই তিস্তা নিয়ে চীনের সহযোগিতাসহ আরও অনেক বিস্তারিত কাজের জায়গা আছে। যা সময়সাপেক্ষ। প্রকল্প করতে গেলে আপনি যেমনটা বলছিলেনÑ চীনা আগ্রহ দেখিয়েছে, ভারতও আগ্রহ দেখিয়েছে, আমাদের নিজেদেরও আগ্রহের জায়গা আছে; একপাক্ষিক বিষয় নয়Ñ ত্রিপাক্ষিকভাবেই আগ্রহ আছে।”

এদিকে চীন সফর শুরুর আগে বিভিন্ন তৎপরতার কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বাংলাদেশ তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা চেয়েছে।

বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও দুই দেশ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

তবে আলোচনার আগে থেকেই চীন তার বিআরআই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিস্তা প্রকল্পে সহযোগী করার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। যদিও চীনের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে ভারত।

তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যা আছে

তিস্তা ঘিরে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার পুরো নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’।

সমীক্ষার মাধ্যমে ২০১৬ সালে এর প্রাথমিক কাজ শুরু। সমীক্ষা শেষে ২০২৩ সালে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

মহাপরিকল্পনাটির কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ অংশের উজানে একটি বহুমুখী ব্যারাজ নির্মাণ।

সেই সঙ্গে ১০২ কিলোমিটার নদী খনন করে তিস্তার গভীরতা বৃদ্ধি, নদীর দুপাশে ২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ, ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীর দুই তীরে স্যাটেলাইট শহর, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ১৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুতের প্লান্ট তৈরিসহ পুরো এলাকাকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। যার বড় অংশই আসবে ঋণ থেকে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই নিজেদের অর্থে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ্রহ দেখিয়ে আসছে চীন।

এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আরও কাজ করার প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক পানি আইন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত।

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমার জানামতে, কোনো সমীক্ষা হয়নি। ওরা খালি বলে আসছেÑ কন্ট্রাক্ট আছে ঠিকাদারের সঙ্গে। তাদের কথা হলো টাকা দাও আমরা এই কাজ করে দেব।

“ওই কাজ করার জন্য তো বাংলাদেশে প্রচুর ঠিকাদার আছে। আমরা আসলে কী করব, সেটা আগে নির্ধারণ করতে হবে। তারপর বিষয়টি নিয়ে সামনে এগোনো যাবে।”


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা