× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বগুড়ায় ঘড়ির কাঁটা দেখে দখল হয় সাতমাথা

অরুপ রতন, বগুড়া

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ১৭:১৩ পিএম

ফুটপাত দখলের কারণে যানজটে নাকাল বগুড়ার সাতমাথা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ফুটপাত দখলের কারণে যানজটে নাকাল বগুড়ার সাতমাথা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বগুড়ার শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এখন আর শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নয়, দিনভর সময় ভাগ করে দখল নেওয়ার এক অঘোষিত ‘শিফট বাণিজ্য’ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘড়ির কাঁটা অনুযায়ী বদলে যায় দখলদারদের চেহারা, আর সেই সঙ্গে বদলায় যানজট ও জনদুর্ভোগের চিত্র।

সকাল থেকেই সাতমাথার সাতটি সড়কজুড়ে ভ্রাম্যমাণ ফল ব্যবসায়ীদের দখল শুরু হয়। রাস্তার পাশে ও ফুটপাতজুড়ে বসানো এসব দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে তাদের মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হয়।

দুপুর গড়াতেই দখলের চিত্র আরও ঘন হয়। জিলা স্কুলের সামনে থেকে জলেশ্বরীতলা পর্যন্ত গড়ে ওঠে ভ্রাম্যমাণ কাপড়ের দোকান, ফুচকা, বিভিন্ন খাবার, সবজি ও ফলের অস্থায়ী বাজার। একই সঙ্গে সাতমাথার বিভিন্ন পয়েন্টে অঘোষিত সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে যানজট তীব্র হয় আরও।

বিকাল নামলেই শুরু হয় নতুন দখলদারদের পালা। সমবায় ব্যাংকের সামনে ও নিচে ২০ থেকে ২৫টি ভ্যানে কাপড় বিক্রেতারা অবস্থান নেন। একই সময়ে ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে বসে চটপটি, মুড়ি মাখা ও ভাজাপোড়ার দোকান। চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জমে ওঠে বেচাকেনা। সপ্তপদী মার্কেটের সামনেও বিকাল থেকে শুরু হয় ভাজাপোড়া, বুট মাখা ও ফল মাখার দোকান।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দখলের ধরণ বদলায় আবারও। রাত ১০টার পর কিছুটা ফাঁকা তৈরি হলে সেখানে ঢুকে পড়ে চা-নাস্তার দোকানগুলো, যা ভোর ৭টা পর্যন্ত চালু থাকে। এভাবে ২৪ ঘণ্টার একটি বড় অংশ জুড়েই বিভিন্ন ধাপে দখলে থাকে সাতমাথা।

শুধু ভ্রাম্যমাণ দোকানই নয়, সাতমাথা লোটো সংলগ্ন ট্রাফিক বক্সের সামনে গড়ে উঠেছে ইজিবাইক ও রিকশার স্ট্যান্ড। ‘সাংবাদিক ছাউনি’ খ্যাত এলাকাতেও রয়েছে সিএনজি ও ইজিবাইকের অস্থায়ী স্ট্যান্ড। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা এসব যানবাহনে প্রায়ই রাস্তার মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা করে, ফলে সৃষ্টি হয় যানজটের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতমাথা ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ৯৯০টি অস্থায়ী দোকান বসে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫৪টি ফলের দোকান, ৩৫টি ফুচকার দোকান, ৬৩৭ জন ভ্যানে কাপড় বিক্রেতা, ২৯টি ফাস্টফুড দোকান এবং ৩৫টি চায়ের দোকান। এত বিপুল সংখ্যক দোকানের চাপে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মাহাবুব হাসান নামে এক শিক্ষক বলেন, “ফুটপাত বলে কিছু নেই। সব জায়গায় দোকান। বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়, এতে ঝুঁকিও থাকে”।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জানি এটা নিয়মের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু জীবিকার জন্য বসতে হয়। মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান হয়, তখন সরে যাই। কয়েকদিন পর আবার আগের জায়গায় ফিরে আসি”।

আরেক ভ্রাম্যমাণ কাপড় বিক্রেতা বলেন, “সামনে ঈদ তাই আমাদের ব্যবসার জন্য বাধ্য হয়েই বসতে হয়। সংসার তো চালাতে হবে”।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন একই অবস্থা। যানজটে আটকে থাকতে হয়। জরুরি কাজেও সময়মতো পৌঁছানো যায় না। সমস্যার স্থায়ী সমাধান দরকার”।

এদিকে, থানা রোড, কাঁঠালতলা, স্টেশন রোড ও জলেশ্বরীতলা এলাকায় দেখা গেছে, অনেক স্থায়ী দোকান মালিক নিজেদের দোকানের সামনে ফুটপাতে টেবিল বসিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ ফুটপাতের অংশ ভাড়া দিয়ে অস্থায়ী দোকান বসানোর সুযোগ দিচ্ছেন।

সাতমাথার ট্রাফিক ফাঁড়ির দেয়াল ভেঙে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে একটি ফুচকা মার্কেটও। সারাদিন সেখানে যানজট লেগে থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সব মিলিয়ে, সময়ভিত্তিক দখলের এক জটিল চক্রে আটকে পড়েছে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়। আর এই চক্র ভাঙতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ও স্থায়ী উদ্যোগের অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

মাঝে মাঝে প্রশাসনের অভিযান চালানো হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কয়েকদিন শৃঙ্খলা ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় পুরো এলাকা।

বগুড়ার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর( প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান বলেন, “বগুড়া পৌরসভা ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহরে যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অধিক পরিমাণ অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে যাওয়া। এছাড়াও শহরের রাস্তার ধারণ ক্ষমতার অধিক যানবাহন চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। আর দখলদারের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে”।

বগুড়া জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, “বিগত কয়েক দিন ধরেই ঘন ঘন অভিযান চালানো হচ্ছে৷ কিন্তু অভিযানের এক ঘণ্টা পরেই আবার একই চিত্র দেখা যায়। আসলে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হলেই সাতমাথা দখলমুক্ত করতে স্থায়ী সমাধান হবে”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা