× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লবণ চাষিদের সঙ্গে নেমকহারামি

মাঠে ৪ টাকা, প্যাকেটে ৪৫

ফুয়াদ মোহাম্মদ সবুজ, মহেশখালী (কক্সবাজার)

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬ ০৮:২৬ এএম

আপডেট : ০৬ মে ২০২৬ ০৯:১৭ এএম

কক্সবাজারের লবণ উৎপাদন করে  ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লবণ চাষিরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কক্সবাজারের লবণ উৎপাদন করে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন লবণ চাষিরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বাংলা প্রবাদ আছেÑ ‘নুন খায় যার, গুণ গায় তার’। অন্যদিকে কারও নুন খেয়ে তারই অপকার করাকে বলা হয় ‘নেমকহারামি’। এরকমই নেমকহারামি করা হচ্ছে কক্সবাজারের লবণ চাষিদের সঙ্গে।

দেশের সাদা সোনা খ্যাত কাঁচা লবণ বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ৪ টাকা দরে। অথচ একই লবণ খুচরা বাজার থেকে ক্রেতাদের কিনতে হয় কেজিপ্রতি ৪৫ টাকায়। মণ হিসেবে যার দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। পক্ষান্তরে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কমে মাত্র ১৬০ টাকায় এক মণ লবণ বিক্রি করছেন চাষিরা।

শুধু দাম নিয়েই হতাশা নয়, চলতি মৌসুমের শেষভাগে এসে কালবৈশাখী ঝড়ের থাবায় নোনাজলে তৈরি লবণ নোনাজলেই মিশে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রমের এই ফসল এখন তাদের জন্য হয়ে উঠেছে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’। 

চাষিরা বলছেন, প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে জমি বর্গা, প্লাস্টিক আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে খরচ ঠেকছে প্রায় ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় (কেজিপ্রতি খরচ সাড়ে ৯ থেকে ১০ টাকা)। অথচ সেই লবণ মাঠ থেকে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৬০ টাকায়। যদিও মিলাররা সেই লবণ কিনছেন ৩৪০ টাকায় (কেজি সাড়ে ৮ টাকা), বাকি ১৮০ টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

এদিকে চাষিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা লবণ পরিশোধনের পর মিলারদের উৎপাদন খরচ বেড়ে দাঁড়াচ্ছে প্রতি মণে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত (কেজি ২৫-৩৫ টাকা)। এরপর উৎপাদকেরা সে লবণ প্যাকেটজাত করে প্রতি মণ বাজারে ছাড়ে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে (কেজি ৪০-৪৫ টাকা)।

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়ার লবণ চাষি আব্দুল করিম বলেন, প্রতি মণ লবণে আমাদের ২২০ থেকে ২৪০ টাকা লোকসান গুনতে হয়। বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি কেজি লবণ ৪ টাকা দরে কিনে প্যাকেটে ভরে বাজারে ছাড়ে ৪০ টাকায়। মাঝখানে ৩৬ টাকা তাহলে কার পকেটে যায়? গত তিন বছর ধরে লোকসানের একই গ্লানি টানছি আমরা। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের লবণমাঠ থেকে উৎপাদিত পণ্য সরাসরি কারখানায় পৌঁছতে দেয় না একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী। তারা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লবণ সংগ্রহ করে মিলমালিকদের কাছে সরবরাহ করে থাকে। অনেক সময় মিলমালিকদের নিজস্ব প্রতিনিধিরাও একই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকেন।

এভাবেই একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজারে লবণের দাম ওঠানামা করে। অভিযোগ রয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের এই গোষ্ঠী পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে।

আবার তাদের ওপর প্রভাব খাটায় বড় বড় লবণ প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। ফলে শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে লবণের দাম নির্ভর করে এই দুই পক্ষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর, আর এর বোঝা গিয়ে পড়ে সাধারণ চাষিদের কাঁধেÑ যেখানে পরিশ্রম তাদের, কিন্তু লাভের বড় অংশ চলে যায় অন্যের ঘরে।

কক্সবাজার লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা আব্দুল শুক্কুর বলেন, শিল্প খাতে লবণ আমদানি করতে আদৌ কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন সে বিষয়ে গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারের নেই। ফলে দ্রুত লবণ আমদানি বন্ধসহ চাষি পর্যায়ে লবণের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি আমরা। 

কক্সবাজার বিসিকের (লবণ শিল্প উন্নয়ন) উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়ার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ৬৭ হাজার হেক্টর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। আর দেশে মোট ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের চাহিদা রয়েছে। তবে পহেলা মে পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৭ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন লবণ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা