মজুমদার ইমরান
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ১১:০১ এএম
স্বেচ্ছাসেবক দলে বড় পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতাসীন বিএনপি এবার দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছরই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলোকে খুব শিগগিরই ঢেলে সাজানো হচ্ছে। বিএনপির মাঠপর্যায়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল অন্যতম। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এসএম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। রাজিব আহসান পরে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছেন। ফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপি হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্র বলছে, স্বেচ্ছাসেবক দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের নির্দেশনা আসতে যাচ্ছে। বিএনপির নয়াপল্টন ও গুলশান অফিসের সূত্রমতে, খুব শিগগির স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এ কারণে কেন্দ্রীয় থেকে উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের অনেক নেতা শীর্ষ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন।
সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি পদে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। তিনি সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এ ছাড়া সভাপতি পদে দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন। তিনি একজন সাবেক ছাত্রনেতা। সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু। এ ছাড়া বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছেনÑ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নোমান।
জানতে চাইলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দল বিগত দিনের কথা চিন্তা করে আমাদের যেখানে মনে করবে নেতৃত্বে দেবে। বিশেষ করে দলীয় হাইকমান্ড যেটা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই গ্রহণযোগ্য হবে। তবে শীর্ষ পদে যোগ্য নেতৃত্ব স্বেচ্ছাসেবক দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করি।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় যাদের নাম এসেছে তারা অধিকাংশই রাজপথের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতা। কমিটি পুনর্গঠন হলে তাদের মধ্য থেকে যে কেউ আসতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদেÑ বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। এ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোকতার হোসেনও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন। এই পদে ছাত্রদলের সাবেক নেতা ফজলুর রহমান, রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নামও শোনা যাচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন মহলে আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম নাসির উদ্দিন নাসির। তিনি বর্তমানে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক।
কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা এক নেতা জানান, ‘আমাদের চাওয়া, দলের চেয়ারম্যান যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই শীর্ষ পদে রাখবেন। তবে এ ক্ষেত্রে ত্যাগী, দক্ষ ও যোগ্যরা কমিটিতে এলে দলের শক্তি বাড়বে।’
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দৈনন্দিন কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি দল ও সংগঠনগুলোকে চাঙা রাখতে নানা ধরনের বৈঠক ও সাংগঠনিক রদবদলের চিন্তা করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘দলকে সাংগঠনিকভাবে চাঙা করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএনপির কাউন্সিল ও অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব নতুন কমিটিতে যোগ্যদের নেতৃত্বে আনা হবে।