তোফাজ্জল হোসেন কামাল
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ০৯:৫৬ এএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬ ১০:১৫ এএম
সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রকাশ মেজর (বরখাস্ত) জিয়া একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি ২০১১ সালের সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনাকারীদের প্রধান অভিযুক্ত মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক যিনি সুপরিচিত মেজর জিয়া নামে। অভ্যুত্থানচেষ্টায় অভিযুক্ত হওয়ার পর চাকরিচ্যুত এই কর্মকর্তা পুলিশের খাতায় এখনও একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি’। তাকে ধরার জন্য একাধিক অভিযান চললেও তার কোনো হদিস বা নাগাল মেলেনি।
এর ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, হয়তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের কোনো অভিযানে তার মৃত্যু ঘটেছে।
তবে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে যে, মেজর (বরখাস্ত) জিয়া এখনও জীবিত আছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সক্রিয় রয়েছেন। দেশের বাইরে থাকলেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে তিনি তার নামে থাকা সকল মামলা, হুলিয়া ও সাজার দণ্ড তুলে নেওয়ার জন্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এজন্যে তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনও করেছেন।
উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের তথ্যানুসন্ধানে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া কখনও আনসার উল্লাহ (জেএমবি), কখনও-বা আইএস ও আল কায়েদার সদস্য হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছেন। তাকে ধরতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয় সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। তার ব্যাপারে তথ্য পাওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকেও।
প্রতিদিনের বাংলাদেশÑএর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পলাতক মেজর (বরখাস্ত) জিয়ার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত গুম কমিশনে এবং পরে মানবাধিকার কমিশনেও জায়গা করে নেন। মেজর (বরখাস্ত) জিয়াকে রক্ষা করার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান।
অভিযোগ উঠেছে, এদের পরিচালনাধীন পক্ষপাতদুষ্ট ‘গুম’ কমিশনে তাদের সুপারিশ ও প্রভাবেই ক্রমান্বয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) জঙ্গিবিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। পাশাপাশি তৈরি করা হয় দেশে জঙ্গি তৎপরতা না থাকার বয়ান।
গুম ও মানবাধিকার কমিশনকে প্রভাবিত করেছেন জিয়া
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর নির্বাহী আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইউনিট ‘গুম কমিশন’। ঢাকার গুলশানের ৯৬ নম্বর বাড়িতে স্থাপিত কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই তদন্ত কমিশনের কাজ ছিল ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসমূহের দ্বারা সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা। পাঁচ সদস্যের গুম কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয় হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে। অন্য চারজন সদস্যের মধ্যে ছিলেনÑ হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত বিচারক বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকার কর্মী নূর খান, সাজ্জাদ হোসেন ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাবিলা ইদ্রিস।
এই ‘গুম’ কমিশনের প্রভাবশালী দুজন সদস্য ছিলেন, যথাক্রমে চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস। তারা দুজনই পলাতক মেজর জিয়ার নিকটাত্মীয় ছিলেন বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, প্রথমজন মেজর (বরখাস্ত) জিয়ার সম্পর্কে মামা, দ্বিতীয়জনও নিকটাত্মীয়।
এদিকে, গুম কমিশন বিলুপ্তির পর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতার একেবারে শেষ দিকে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। এই পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুম কমিশনের প্রভাবশালী ৩ সদস্যকে মানবাধিকার কমিশনেও নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হাইকোর্টের সাবেক বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী গুম কমিশনের প্রধান ছিলেন। এ সছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত মো. নূর খান এবং নাবিলা ইদ্রিসও গুম কমিশনের সদস্য ছিলেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পর পদত্যাগ করেন কমিশনের সদস্যরা।
একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, গুম কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও প্রভাবশালী সদস্য নাবিলা ইদ্রিসের সঙ্গে মেজর (বরখাস্ত) জিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্মকর্তাদেরও অনেকেই জানতেন। তারা মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ পাওয়ায় সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাই উদ্বেগ ও অস্বস্তিতে পড়েন। তাদের আশঙ্কা ছিল, গুম কমিশনের মামলা, অভিযোগসহ যাবতীয় সুপারিশসমূহ যদি এই কমিশনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি-কার্যকর করা হয়, তাহলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তারা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তবে চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও সদস্য নাবিলা ইদ্রিস তাদের পরিধিভুক্ত কোনো কাজকর্ম শুরুর আগেই পদত্যাগ করায় এই কর্মকর্তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
গুম কমিশনকে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে প্রভাবিত করেছেন, এমন অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্য জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী থেকে নানা কারণে চাকরিচ্যুত ও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় ফেরারি হওয়ার পর থেকে তিনি মনে করতেন, তার সহকর্মীরা তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জঙ্গি, উগ্রপন্থী হিসেবে দোষারোপ করেছে, তার ক্ষতি করেছে। তাদের কারণে তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। বিশেষ করে সিটিটিসি তাকে হন্যে হয়ে খুঁজেছে। এজন্য মানসম্মান সব হারাতে হয়েছে। এসবের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মেজর (বরখাস্ত) জিয়া গুম কমিশনে নিয়োগ পাওয়া আত্মীয়দের দিয়ে বিভিন্ন জনকে গুম-খুনের মামলায় ফাঁসিয়েছেন এবং সিটিটিসির জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমকে স্থবির করে দিতে গুম কমিশনকে প্রভাবিত করেছেন।
কে এই মেজর (বরখাস্ত) জিয়া
সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক প্রকাশ মেজর (বরখাস্ত) জিয়া একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি ২০১১ সালের সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের তথ্যমতে, ২০১১ সালের সেনা অভ্যুত্থানকে হিযবুত তাহরীর বাংলাদেশ শাখা সহায়তা দিয়েছিল। মেজর (বরখাস্ত) জিয়া আল-কায়েদার সহযোগী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় সম্পৃক্ত। জিয়াউল হক মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ জিল্লুল হক একজন ব্যবসায়ী। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির ৪১তম দীর্ঘ কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। পড়াশোনা করেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে। সর্বশেষ তিনি মিরপুর সেনানিবাসে থাকতেন। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্যমতে, সেনা অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনা সদর দপ্তর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীর সাবেক ও তৎকালীন কতিপয় সদস্য দেশের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীতে অভ্যুথানের চেষ্টা করে। অভ্যুথানের পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া অন্যতম। তিনি জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও সেনা সদর দপ্তর জানায়। এই অভ্যুত্থানচেষ্টায় ইশরাক আহমেদ নামে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীও যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর ২০১৬ সালের ২ আগস্ট এক ব্রিফিংয়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (পরবর্তী নাম আনসার আল ইসলাম) সামরিক শাখার প্রধান মেজর জিয়া ও নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সৈয়দ জিয়াউল হক ওরফে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া এবং আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনানের তথ্য পেতে এক টুইটের মাধ্যমে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আওতাধীন ‘রিওয়ার্ড ফর জাস্টিস’ (আরএফজে)। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও এক টুইটে ওই পুরস্কার ঘোষণার কথা জানায়।
অন্যদিকে বিভিন্ন সময় একাধিক সংবাদ মাধ্যমে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া দাবি করেছেন, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলায় তাকে বাহিনীতে টার্গেট করা হয়। ফাঁসানো হয় একের পর এক মিথ্যা অভিযোগে। তিনি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে অজ্ঞাত স্থান থেকে একসময় দাবি করে বলেন, “শুরুতে একসময় (আমাকে) জঙ্গি বলা হয়েছে। পরে একসময় আল-কায়েদা বলা হয়েছে, পরে আনসার আল ইসলাম বলা হয়েছে। আরেক সময় আইএস বলা হয়েছে। অর্থাৎ যেভাবে চাপে রাখা যায়।”
আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন জিয়া
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা সৈয়দ জিয়াউল হকের সন্ধান মিলেছে মামলা ও জঙ্গির খাতা থেকে নাম কাটাতে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার আবেদন করার সুবাদে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জিয়া তার আবেদনে দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ ও ভারতবিরোধী হওয়ায় তাকে সামনে রেখে একের পর এক জঙ্গি নাটক সাজিয়েছে সাবেক শেখ হাসিনা সরকার। আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেনের মাধ্যমে ওই আবেদনটি করা হয়েছে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে, যাতে তার নামে দেওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার করতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও আবেদন করেছেন। তার নামে যে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা প্রত্যাহারেরও আবেদন জানানো হয়। এ ছাড়া তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টার কাছেও একটি আবেদন করেনÑ যেটিতে তার নামে থাকা ৭টি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়। আবেদনের পর তার আইনজীবী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ২০১১ সাল থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ জিয়া। তবে কোন দেশে, তা তিনি জানাননি।
যা বলছেন মেজর (বরখাস্ত) জিয়া
গুম ও মানবাধিকার কমিশনে ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কমিশনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “তাই নাকি? কার অভিযোগ এটা?”
তিনি সরকারের কাছে আবেদন করার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “আমার নিজের একটা আবেদনই তো গুম কমিশনে প্রসেস করতে পারিনি।”
“আপনার পরামর্শে সিটিটিসি গুম কমিশনকে অকার্যকর করতে ভূমিকা রেখেছে, এটি কি সত্যি?”Ñএমন প্রশ্নে মেজর জিয়া বলেন, “এসব কথা যারা বলেছে, তাদের নাম ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিন। তাদের কাছ থেকেই সব শুনব।” এর পর তিনি মন্তব্য করেন, “এত দেখছি বাকশালি প্রোপাগান্ডা থেকেও বড় প্রোপাগান্ডা।’
‘আপনি জঙ্গিদের সংগঠিত করছেন’Ñ এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মেজর (বরখাস্ত) জিয়া জানতে চান, “কোন সংস্থা এসব বলছে? আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর অনেকের কাছেই আছে, কেউ তো কোনোদিন কোনো কলও দিল না।”শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে এমন প্রোপাগান্ডা চলছে বলে দাবি করেন মেজর জিয়া।
এ প্রতিবেদক তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চাইলে তা দিতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন এবং মেসেঞ্জারেই যোগাযোগ রক্ষা করার পরামর্শ দেন।
বর্তমানে কোন দেশে আছেন?Ñ এমন প্রশ্নে মেজর জিয়া জানান, আইনি জটিলতার কারণে এই মুহূর্তে তা জানানো যাচ্ছে না। এরপর ‘আপনি কি তুরস্কে আছেন?’ এমন প্রশ্নে মেসেঞ্জারে কোনো জবাব না দিয়ে লাইক প্রদান করেন। বিশ্বস্ত একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মেজর জিয়ার এখনকার অবস্থান মালয়েশিয়ায়।
যা বলছেন বিচারপতি মইনুল
নানা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গুম ও মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “ওইসব বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।”
‘পলাতক মেজর জিয়া আপনার নিকটাত্মীয় ছিলেন?’Ñ এ প্রশ্ন করা হলে সাবেক এই বিচারপতি বলেন, “ওই সম্পর্কে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আপনারা যা খুশি লেখেন। আত্মীয় হয়েছে তো কি হয়েছে? আমি তো বললাম, এ সম্পর্কে কোনো কথা বলতে চাই না। এটা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন করবেন না। ঠিক আছে?”
যা জানাচ্ছেন নাবিলা ইদ্রিস
গুম ও মানবাধিকার উভয় কমিশনের প্রভাবশালী সদস্য নাবিলা ইদ্রিসকে ফোন করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে মেসেজ দেওয়ার জন্য একটি এসএমএস পাঠান। পরিচয় দিয়ে কথা বলার জন্য ফিরতি এসএমএস পাঠানো হয়। তিনি তখন বাইরে আছেন জানিয়ে তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তবে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তার কাছ থেকে আর সাড়া মেলেনি।
বক্তব্য মেলেনি সাবেক আইন উপদেষ্টার
মেজর জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীর আইন মন্ত্রণালয়ে সাজার রায় বাতিলের আবেদনের বিষয়ে জানতে গত মঙ্গলবার সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।