× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন

সুরাহা হলো না বিতর্কের

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ১০:৩৮ এএম

সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।  গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি জোট ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’তে তাদের সদস্যদের নাম দেয়নি। বিরোধী জোট গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। গণভোট-সংক্রান্ত আদেশ সংসদে বাতিল হওয়ায় তারা কিছুটা নমনীয় অবস্থানে এলেও সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণ করবে কি নাÑ সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে তারা কিছুটা সময় নিয়েছে। ফলে সংসদের আগামী অধিবেশনের আগে সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন নাকি পূর্ণাঙ্গ সংস্কারÑ এই ইস্যুটিও আপাতত অমীমাংসিত থেকে গেল। 

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। ওই কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর ‘জুলাই সনদ’নামে দলিলে স্বাক্ষর করে। এতে সংবিধান সংস্কারের জন্য ৪৮টি প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই সনদের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোট ‘হ্যাঁ’পড়ে। তবে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ইস্যুতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আপত্তি বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ছিল। এ কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সব অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করা হয়নি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গণভোট-সংক্রান্ত আদেশ।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। বিরোধী দল জামায়াত–এনসিপি জোটের সদস্যরা গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপির দলীয় সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেননি। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচলিত সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কোনো পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় তারা শপথ নেয়নি। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন।

সংবিধান সংশোধন ঘিরে চলমান টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে গত ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, তিনি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের অনুপাত উল্লেখ করে তিনি বলেন, শতাংশের হিসাবে বিরোধী দলের আসন ২৬ শতাংশ। সে অনুযায়ী তাদের পক্ষ থেকে পাঁচজন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকায় বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য দল থেকে পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিরোধী দল যদি তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম দেয়, তাহলে পরদিন (৩০ এপ্রিল) বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তারা সংবিধান সংস্কার চান, তবে বর্তমানে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে তা মূলত সংশোধন প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই মতপার্থক্য রয়েছে এবং তা এখনও বিদ্যমান। প্রস্তাবটি তারা পেয়েছেন এবং শুনেছেন, তবে দলীয় আলোচনা শেষে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত জানাবেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রয়োজন।

বিতর্ক যেথায়

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে ‘অসীম প্রতারণা ও জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতার দলিল’ আখ্যা দিয়ে গত ৩১ মার্চ সরকারি দলের তরফে সংবিধান সংশোধনের জন্য সর্বদলীয় বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের জন্য পৃথক বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, কমিটিতে উভয় পক্ষ থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখা উচিত, যাতে তারা নিজেদের মতামত যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

বিরোধীদলীয় নেতার আনা একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বানের বিষয়টি উঠে আসে। ওই আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের দ্বৈত ভূমিকা পালনের কথা ছিল— সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে, যাতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত ৪৮টি সাংবিধানিক বিধান নিয়ে কাজ করা যায়। এজন্য সংসদ সদস্যদের দুটি পৃথক শপথ গ্রহণের কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেই পরিষদ আহ্বান করা হয়নি।

আদেশ অনুসারে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য উভয় শপথ গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া তৈরি করে, যেখানে ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত। এসব মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের কয়েকটিতে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’জানায় এবং নিজেদের অবস্থান অনুযায়ী সাংবিধানিক সংশোধনের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান নেয়। 

পরবর্তীতে জুলাই সনদের ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে মৌলিক সংস্কার বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত কার্যত গুরুত্ব পায়নি বলে বিরোধী দলগুলোর দাবি। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ভোট বিজয়ী হওয়ায় বিরোধী পক্ষ মনে করছে, সংসদ শুধু নিয়মিত কার্যক্রমই নয়, বরং একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে। তবে গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে পাস না হওয়ায় তা কার্যত ল্যাপস বা অকার্যকর হয়ে যায়।

নাম দেয়নি বিরোধী দল

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন সমাপ্ত হলেও বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপি জোটের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটিতে পাঁচ সদস্যের নাম দেয়নি। এর ফলে এই কমিটি গঠন করা যায়নি। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে জাতীয় বাজেট সামনে রেখে। সে হিসাবে জুনের প্রথম দিকে অধিবেশন শুরু হবে। ওই অধিবেশনের আগে কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে না। এর ফলে ‍জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি অনেকটা পিছিয়েই গেল। পরবর্তী অধিবেশনে বিরোধী দলের সদস্যরা এই কমিটিতে নাম দেবে কি না তাও নিশ্চিত নয়।

যা বললেন চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংস্কার বলুন আর সংশোধনই বলুন কাজ তো একই। যেহেতু সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব সংবিধানে নেই তাই আমাদের সংবিধান সংশোধনই করতে হবে। নাম যা-ই হোক না কেন জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধন করতে সংসদ নেতা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিরোধী দল নাম নিয়ে বিতর্ক না করে এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আশা করি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা