× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যা: ইমন না হেলাল, ধাঁধায় গোয়েন্দারা

তানভীর হাসান ও নূর মোহাম্মদ মিঠু

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৪ পিএম

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত

শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যার তদন্ত নিয়ে গোলকধাঁধায় পড়েছেন গোয়েন্দারা। ঘটনার পর থেকেই এ মামলার ছায়া তদন্ত করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত দুটি ইউনিটের সদস্যরা। তবে মামলার এজাহার অনুযায়ী এই খুনে পিচ্চি হেলালকে আসামি করা হলেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। এরই মধ্যে এই খুনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনেরই ভগ্নিপতি ইমনকে দায়ী করছেন পিচ্চি হেলাল।

এদিকে বছিলার পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ইমনের সঙ্গে কথোপকথনের একটি রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে যুবদলের এক নেতার বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। ওই পশুর হাট নিয়েই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

সার্বিক এমন পরিস্থিতিতে নির্দেশদাতার পেছনে না ছুটে কিলারকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কারণ কিলার গ্রেপ্তার হলে নির্দেশদাতাকে সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তদন্ত তদারককারীরা মনে করছেন। 

জানা গেছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন খুনের ঘটনায় শুটারদের শনাক্তে কাজ করছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে দুই শুটারসহ ব্যাকআপে থাকা আরেও ৬ জনকে শনাক্ত করেছে। যে বাইকে দুই খুনি পালিয়েছে সেটিও শনাক্ত হয়েছে। এখন শুটারদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই নির্দেশদাতাদের কাছে পৌঁছবেন গোয়েন্দারা। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলে, এরই মধ্যে খুনে সম্পৃক্ত থাকা দুজনকে গোয়েন্দা জালে রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে ডিবি ছায়াতদন্ত করছে। এখনও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সম্ভাব্য কিছু কারণ সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। 

তদন্ত তদারক সূত্রমতে, টিটন খুনের ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় করা মামলায় পিচ্চি হেলালের নাম আসার পরই শুরু হয় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। বিদেশে অবস্থানরত পিচ্চি হেলালের দাবি, ভগ্নিপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন ও তার বোনই পরিকল্পিতভাবে টিটনকে খুন করেছে। তার বোন লীনাও ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

অতিরিক্ত নেশাগ্রস্ত লোকেরা সন্দেহপ্রবণ হয় এমনটা দাবি করে পিচ্চি হেলাল বলেন, ‘ইমনের জায়গা দখল করে নিতে পারে এই সন্দেহ থেকেই টিটনকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় টিটনের ভাই মামলা করলেও সব নির্দেশই দিচ্ছে ভগ্নিপতি ও বোন।’ অন্যদিকে মামলার বাদী টিটনের ভাই এজাহারে বছিলা গরুর হাটকে কেন্দ্র করে সমঝোতার জন্য ডেকে নিয়ে খুন করা হয় বলে উল্লেখ করেছে। 

টিটন খুনের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার পিচ্চি হেলাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘টিটনরা দুই ভাই যশোরে ছাত্রদল করত। মোহাম্মদপুরে একটা বাসা ছিল। মাঝে মাঝে এখানে এসে থাকত। আমি মোহাম্মদপুরে ছাত্রদল করতাম, ওরা যশোরে ছাত্রদল করত।

টিটন ফার্স্ট ডিভিশনের ফুটবল খেলোয়াড় ছিল। ওই সুবাদেই ওর সঙ্গে আমার পরিচয়-সম্পর্ক। পরবর্তী পর্যায়ে কারাগারে গিয়ে আবার দেখা । তারপর থেকেই সুসম্পর্ক। কারাগার থেকে বের হওয়ার পরও ফোনে ওর সঙ্গে আমার কথা হতো। সবশেষ গেল ঈদের আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গরুর হাট নিয়ে যে এজাহারটা সাজানো হয়েছে, সেই গরুর হাটের সঙ্গে আমি বা টিটন কেউই জড়িত না। গরুর হাট নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কারও ইচ্ছে নেই। কিন্তু মামলার এজাহারে বিষয়টি উঠে আসছে। এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, টিটনকে ওই জায়গায় (নিউমার্কেট) কে নিলো। যে নিয়েছে সেই এ খুনের সঙ্গে জড়িত। নিউমার্কেট এলাকায় ইমনের আধিপত্য। ওই এলাকায় চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ সবই ইমন করে।’

প্রতিদিনের বাংলাদেশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা মাল্টিপ্ল্যান মার্কেটে দুই ব্যবসায়ীকে কোপানোর ঘটনার তথ্যে তিনি বলেন, ‘এলিফ্যান্ট রোড নিয়ে আমার কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু মিডিয়া লিখেছে এখানে দুই গ্রুপ। এখানে কোনো গ্রুপ নেই। ইমন বনাম ব্যবসায়ী, এখানে কোনো গ্রুপ নেই। এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার সমিতির সভাপতি আমার ভাই।

‘ইমন সেখানে চাঁদা চাইতে গিয়েছে। চাঁদা নিতে পারেনি। তাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যে কারণে আমার বড় ভাইকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এহতেশামকে কুপিয়ে আহত করে। আমার বড় ভাই না হয়ে অন্য কেউ সভাপতি হলে দুটি গ্রুপের কথা আসত না। যেহেতু আমার বড় ভাই সেখানকার সভাপতি সেহেতু ইমনরা মিডিয়া দিয়ে ওইটাকে দুটি গ্রুপ করে দিয়েছে। যাতে ওর ওপর একা দোষ না আসে।’ 

তিনি বলেন, ‘টিটন খুনে ইমন ও ইমনের বউও জড়িত। ইমনের বউ চাপ দিয়ে টিটনের ভাইকে বাদী করে মামলা করেছে। টিটনের পরিবারও জানত ইমন টিটনের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। তারা এটাও জানত ইমন টিটনকে খুন করবে।’

কিন্তু ভগ্নিপতির সঙ্গে টিটনের বিরোধ কেন হবেÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এই বিরোধটা আজকের না। আজ থেকে ২২ বছর আগে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ইমন যখন ভারতে ছিল, সেখানে বসে যখন দেশে বিভিন্ন খুন-খারাবি করাত, তখন ইমনের সম্বন্ধি হিসেবে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়ে টিটন। এ নিয়ে টিটন ইমনের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি করেছিল। এতেই প্রথম তাদের সম্পর্ক নষ্ট হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারের পুরস্কার ঘোষণার পর যখন টিটন গ্রেপ্তার হয়, তখন টিটন মনে করে এই পুরস্কার ঘোষণাও ইমনের জন্য। টিটন এও মনে করে যে তার গ্রেপ্তারের নেপথ্যেও ইমন জড়িত। যে কারণে পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কটা আর স্বাভাবিক হয়নি। ইমন অতিরিক্ত নেশা করত। নেশাখোররা সন্দেহপ্রবণ হয়ে থাকে। সন্দেহের বশেই টিটন, তারিক সাইফ মামুনদের নিজের অবস্থানের জন্য হুমকি মনে করত ইমন। যে কারণে সন্দেহপ্রবণতা থেকেই তাদেরকে খুন করে ইমন। ও মনে করত ওর আধিপত্যের মধ্যে ওরা কখনও না কখনও ডিস্টার্ব হয়ে দাঁড়াবে। যে কারণে আগে থেকেই ওদের সরানোর জন্য চিন্তা করে রেখেছিল।’ 

কিলিং মিশনে কারা ছিলÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা তো আমি বলতে পারব না। আমি আইনের লোক না। আমাকে হয়তো নামের আগে শীর্ষ সন্ত্রাসী জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার একটা রাজনৈতিক পরিচয় আছে। ১৯৯৩ সালে আমি থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম।’ 

তিনি বলেন, ‘টিটনের বোন ইমনকে বাদ দিয়ে পরিবারকে চাপ দিয়ে আমাদের নামে মামলা করার চেষ্টা করেছে। দেখবেন সবগুলো আসামি কিন্তু মোহাম্মদপুরের, ধানমন্ডির কেউ নেই। পরিকল্পিতভাবে মামলার এজাহারটা লেখা হয়েছে। ইমন আর ইমনের বউয়ের নির্দেশে এজাহারটা হয়েছে। স্বাক্ষর দিয়েছে শুধু তার ভাই। তার ভাইয়ের কোনো কিছু বলার ক্ষমতা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণে ইমনের পুরো নেটওয়ার্ক দেখে দক্ষিণ যুবদলের সেই আলোচিত নেতা। ওই নেতা বদকাজ করতেছে। বদলোকের সংস্পর্শে সে নষ্ট হয়েছে।’

কী আছে ইমনের ভয়েস রেকর্ডে : এদিকে প্রতিদিনের বাংলাদেশের হাতে আসা অপর এক অডিওতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে বলতে শোনা যায়, ‘মাসুম ও অন্যান্যরা থাকবে। এটা ডিসি হেডকোয়ার্টার ও আমাদের তেজগাঁও ডিসি সবাইরে বলে দিছে। মাসুম থাকবে। আর রনিকে ভালোভাবে আদর করে বুঝিয়ে কথা বলো। রনিকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসো। তাহলে মোহাম্মদপুরের হাটটার চিঠি নেওয়া যাবে। আর রাজেশ? নবীরে দিয়ে ফোন করালে মিল্টনরা এমনেই চলে আসবে।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের ওই নেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ওই রেকর্ডে আসা নাম আমার কি না, সেটা কীভাবে নিশ্চিত হয়েছেন? আমি নিজেই তো প্রশাসনের ভয়ে থাকি। আমাদের ভেতর থেকে তো ৫ আগস্টের আগের ভয়ই এখনও যায়নি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ইমনের রেকর্ডে উঠে আসা নাম আমার নাও হতে পারে। যদি পদ-পদবি উল্লেখ করে বলত কেউ, তাহলে না হয় বুঝতাম যে হয়তো আমার কথাই বলেছে।’

এদিকে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাত ৮টার দিকে টিটনের মরদেহ তার যশোরের বাড়িতে পৌঁছায়। রাতেই জানাজা শেষে শহরের কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। টিটন যশোর শহরের খড়কি আপনমোড় এলাকার বাসিন্দা জুটমিল কর্মকর্তা কেএম ফকরউদ্দিনের ছেলে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা