হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৮ পিএম
প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি সভায় হাজির হয়েছিলেন সারা দেশের তিন শতাধিক সাংবাদিক। একই রঙের টি-শার্ট পরে তারা রাঙিয়ে তুলেছিলেন পুরো অনুষ্ঠানস্থল। শনিবার রংধনু গ্রুপের করপোরেট অফিসের নিচতলায় দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন ছিল প্রাণচ্ছ্বাসে ভরপুর। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমÑ একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই চতুর্থ স্তম্ভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশ ও দশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংবাদ বা খবর। যা সংগ্রহ করেন সাংবাদিকরা। এর মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে সরেজমিন প্রতিবেদনসহ দৈনন্দিন ঘটনাবলি তুলে ধরেন মফস্বল প্রতিনিধি/প্রতিবেদকরা। রোদে পুড়ে, রাতে-বিরাতে ঝড়-বৃষ্টি-শীত উপেক্ষা করে, পাহাড়-পর্বত, নদী-খাল-বিল পেরিয়ে নানা প্রতিকূলতা ঠেলে প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকা হয়ে উঠছে দেশের ১০ দিকের প্রান্তিক মানুষ ও অঞ্চলের খবরাখবরের কেন্দ্রস্থল। এসব খবরের মানুষেরা রাজধানীর বুকে কুড়িলে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয়ে প্রতিনিধি সভায় বর্ণিল মিলনমেলায় মিলিত হয়েছিলেন গতকাল শনিবার। এ মিলনমেলায় এসে দেশের নানা প্রান্তের সাংবাদিকরা প্রতিদিনের বাংলাদেশ নিয়ে তুলে ধরলেন তাদের নানান পরিকল্পনা, অনুভূতি, চাওয়া-পাওয়ার কথা। ব্যক্ত করেছেন ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে দেশের আপামর জনতার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ও।
সমতল-পাহাড়, নদী-নালা-খাল বিল এবং বন-জঙ্গলবেষ্টিত বৈচিত্র্যময় রূপের অনন্য এক দেশ ‘বাংলাদেশ’। এমনই ‘রূপসী বাংলা’র একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’বেষ্টিত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা থেকে এ সভায় এসেছিলেন অনাথ মন্ডল। তিনি জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা ‘শ্যামনগর’। এটি উপকূলীয় অঞ্চল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা ‘সুন্দরবন’বেষ্টিত এ এলাকা থেকে প্রতিনিধি সভায় এসে আপ্লুত-আনন্দিত। তিনি বলেন, আমি চাই প্রতিবছর এমন মিলনমেলা হোক। তাহলে সারা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটা সুসম্পর্ক তৈরি ও কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। যে অভিজ্ঞতার আলোকে আমিও ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে আমার অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা, দর্শনীয় স্থানের কথা আরও পরিশীলিতভাবে তুলে ধরতে পারব। ফলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে আরও বেশি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারব।
পাহাড় ও বনবেষ্টিত দেশের অগ্নি (দক্ষিণ-পূর্ব দিক) অঞ্চল বান্দরবান জেলার সাংবাদিক সুফল চাকমা বলেন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে শুরু থেকেই আছি। এটা আমার ভালোবাসা-প্রেম। এই চমৎকার প্রতিনিধি সভায় এসে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, সুখ-দুঃখের আলাপ করেছি। এর জন্য ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ পত্রিকার মালিক কর্তৃপক্ষ ও সম্পাদকসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলে ভালো হয়।
পার্বত্য অঞ্চলে অত্যন্ত জটিল অবস্থার মধ্যে কাজ করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেনÑ বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি দেশের পার্বত্য অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত। এ অঞ্চলে আমরা যারা সংবাদ সংগ্রহের কাজ করি; তাদের শুধু দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা নয়, সরকারি-বেসরকারি নানা বাধা-বিপত্তি-প্রতিকূলতার মধ্যেই কাজ করতে হয়। আমি মনে করি, আমরা যে নিউজগুলো পাঠায় তা দ্রুত অনলাইনে আপ করতে হবে, তাহলে মানুষের কাছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ আরও বেশি করে পৌঁছে যাবে। এটা হলে আমাদের কাজের গতিও বাড়বে।
কথা হয় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলা মেহেরপুরের মেহেরাব হোসেন অপির সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণের কথা এবং মেহেরপুর দেশের প্রথম রাজধানী (অস্থায়ী) ও এখান থেকেই বাংলাদেশের পথচলা শুরু উল্লেখ করে তিনি জানান, আমাদের দেশ নানা জাতি-গোষ্ঠীর, নানা সংস্কৃতির এক বৈচিত্র্যময় দেশ। এই প্রতিনিধি সভায় এসে বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। এটা প্রতিবছর হলে আমরা উপকৃত হব এবং ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে মেহেরপুরের সমস্যা-সম্ভাবনাগুলো সারা দেশের মানুষের কাছে আরও সহজে তুলে ধরতে পারব।
দেশের বায়ু (উত্তর-পশ্চিম) অঞ্চল দিনাজপুরের প্রতিবেদক শাহ আলম শাহী বলেন, ৮৬ সালের শেষের দিক থেকে আমার সাংবাদিকতা শুরু। অনেক পত্রিকায় কাজ করেছি। কিন্তু ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ আমার হৃদয়ে গেঁথে থাকা নাম। যে নাম সামনে এলেই ভেসে ওঠে বাংলাদেশের প্রতিদিনের চিত্র। আজ এই প্রিয় পত্রিকার প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হলো, এখানে আসতে পারাটা আমার জন্য বড় প্রাপ্তি। এখানে এসে বাংলাদেশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা সেতুবন্ধ তৈরি হলো। আমরা অফিসের কাছে আমাদের চাহিদার কথা তুলে ধরতে পেরেছিÑ এটা আনন্দের। এর চেয়ে আনন্দের হলো, একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা আমাদের ভাব বিনিময়ের পাশাপাশি কাজের কথাও শেয়ার করেছি। যা আমাদের কাজের গতিতে আরও বেগবান করবে।
সিলেট জেলা প্রতিবেদক আব্দুল মাজিদ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত চমৎকার পরিবেশ ও নান্দনিক সাজ-সজ্জার বর্ণিল আয়োজনে প্রথমবারের মতো ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর এ প্রতিনিধি সভায় আসতে পেরে ধন্য। প্রকাশক মহোদয়ের বক্তব্য আমাদেরকে ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী করেছে। এখানে সারা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হওয়ার পাশাপাশি সম্পাদক-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য আমাদের সমৃদ্ধ করেছে। এমন জাতীয় অনুষ্ঠান আরও হলে আমরা আরও উপকৃত হব এবং আমার অঞ্চলের গণমানুষের কথা, সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্যের কথা আরও ভালোভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে পারব।
মধ্যাঞ্চলীয় অফিসের (কিশোরগঞ্জ-নরসিংদী) সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু বলেন, প্রতিনিধি সম্মেলনে আসতে পেরে আমি আনন্দিত ও উচ্চসিত। আমার খুবই ভালো লেগেছে এবং সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে; চেনা-জানা হয়েছে। এর বাইরে আমরা আমাদের অফিসের কাছে জানাতে পেরেছি আমাদের প্রত্যাশার কথা। তুলে ধরতে পেরেছি প্রতিদিনের বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের পরিকল্পনার কথা। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আমরা আমাদের এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে শুরু করে গণমানুষের সুখ-দুঃখের কথা আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে পারব।
টেকনাফের সাংবাদিক মোহাম্মদ ইউনুছ অভি বলেন, সারা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আলাপ-আলোচনা করতে পারলাম; অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারলাম। আমি ধন্য। এ প্রতিনিধি সভা থেকে এই প্রাপ্তি আমাদের কাজ করার স্পৃহা বাড়িয়ে দিয়েছে। যে স্পৃহা থেকে এখন থেকে চেষ্টা করব ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’কে উখিয়া-টেকনাফের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এবং ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে আমার অঞ্চলের গণমানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হাসি-কান্নার কথা তুলে ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’ নামটা সবার হৃদয়ে মেলে ধরতে।