মেরিনা লাভলী, রংপুর
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:২৯ পিএম
রংপুরে পানিদূষণসহ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কেডিখাল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রংপুরে পানিদূষণসহ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কেডিখাল। ময়লা-আবর্জনার কারণে এর পানিপ্রবাহে কমেছে গতি।
বহুতল ভবনের পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন যুক্ত করায় কয়েক গুণ বেড়েছে পানিদূষণ। শুকনো মৌসুমে পানি জমে থাকায় পচা-মজা খালে পরিণত হয়েছে এটি।
এমনকি সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন পাড় ভেঙে ভরাটসহ দখল হচ্ছে খালটি। অবাধ প্রবাহ না থাকায় বর্ষায় খালের চারপাশে পানি উপচে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা।
এতে করে এলাকার ঘরবাড়িতে পানি উঠে দুর্ভোগসহ ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। খালপাড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব।
প্রায় দেড়শ বছর বয়সী এ খালকে সংস্কারের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ।
জানা যায়, জলাবদ্ধতার হাত থেকে স্থানীয়দের রক্ষায় প্রায় দেড়শ বছর আগে তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া কেডিখালটি খনন করেন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি নগরীর জলকরের চিকলি বিল থেকে শুরু হয়ে জলকর, নিউ জুম্মাপাড়া, শালবন মিস্ত্রিপাড়া, খাসবাগ, সাতমাথা এলাকায় শ্যামাসুন্দরী খালের সঙ্গে মিলে খোকসা ঘাঘট নদীতে গিয়ে মিশেছে।
সরকারের উদ্যোগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে কেডিখাল খনন করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল কোটি ৩১ লাখ টাকা।
এর দুই মাস যেতে না যেতেই বর্ষায় পাড়ে রাখা খনন করা মাটিতেই পুনরায় ভরাট হয়ে যায় খালটি। এরপর কেডিখাল সংস্কারের দিকে কেউ নজর দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খালটিতে বেড়েছে দূষণ।
বহুতল ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন লাইনসহ মেডিক্যাল, কেমিক্যাল বর্জ্য মিলে পানির রঙ কালো আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন স্থানীয়রা খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে।
এতে করে পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শুকনো মৌসুমে ময়লা পানি জমে থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয়রা।
খেড়বাড়ির আমেনা বেগম বলেন, এই খালের পাড়ে আমার বাড়ি। একবার খনন করার পর সেই খনন করা মাটি খালেই মিশে গেছে। আশপাশের বাড়িগুলোর পায়খানার লাইনের ময়লা এই খালে পড়ছে।
স্থানীয় মোকছেদ আলী বলেন, ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ খালটি। তাই পানি কোথাও যেতে পারছে না। ফলে দুর্গন্ধের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। শহরের বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে কেডিখাল। শ্যামাসুন্দরী নিয়ে অনেক মিটিং, আন্দোলন হলেও এটি নিয়ে কেউ কোনো কথা বলছে না। আমরা চাই শ্যামাসুন্দরী খালের পাশাপাশি কেডিখাল দ্রুত সংস্কার করা হোক।
রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাড. জোবাইদুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের বড় বড় সৌন্দর্যময় শহর গড়ে উঠেছে খালের পাশে। আমাদের শহরে দুটি ঐতিহ্যবাহী খাল রয়েছে। সেই খালগুলো সংস্কারের অভাবে আশীর্বাদের জায়গায় অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি আশা করেন, শ্যামাসুন্দরী ও কেডিখাল খননসহ সংস্কারের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে। এসব খাল শুধু খনন করলেই হবে না, খালপাড়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে বিনোদনের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাড. মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, কেডিখাল রংপুরের ঐতিহ্যবাহী একটি খাল। এটি খনন করে প্রাণ ফেরাতে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খালগুলো সংস্কারে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা করছি। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা চাই।